Breaking News

ডিলিটেডদের নাম কবে উঠবে ভোটার তালিকায়

২৭ লক্ষ ভোটারের নাম নানা ছলনায়, নানা হীন কৌশলে বাতিল করে অনুষ্ঠিত হল ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন অন্তত খাতায়-কলমে একটা সাংবিধানিক সংস্থা। কিন্তু এই সংস্থা কতটা অসাংবিধানিক পথ নিতে পারে, তার জীবন্ত সাক্ষী হয়ে থাকল এই নির্বাচন। মার্ক্সবাদীরা বিজ্ঞানসম্মত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বরাবরই দেখিয়ে এসেছে, একটা পুঁজিবাদী রাষ্ট্র ব্যবস্থায় কোনও সংস্থাই পুঁজিবাদী রাজনীতি এবং পুঁজিবাদী দলগুলির প্রভাবমুক্ত নয়, থাকতে পারে না। এবারের নির্বাচন নগ্নভাবে দেখিয়ে দিয়ে গেল নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্যই ছিল কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের রাজনৈতিক ভাষ্যকে বাস্তবায়িত করা এবং তাকে পশ্চিমবঙ্গে জিতিয়ে আনার জন্য সমস্ত রকম পথ– তা সে যতই হীন বা নিকৃষ্ট স্তরের হোক না কেন, অবলম্বন করা।

এই নির্বাচন কমিশন বাস্তবে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার নিধন যজ্ঞকে এক ভয়ঙ্কর মাত্রায় নিয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের কথা না হয় উহ্যই থাকল, কিন্তু যাঁরা সমাজে নানা ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি– হাইকোর্টের বিচারপতি থেকে শুরু করে প্রাক্তন সাংসদ পর্যন্ত– ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এমনকি যাঁদের নির্বাচন কমিশন ভোট পরিচালনার কাজে নিযুক্ত করেছিল, বাদ পড়েছেন তাঁদের অনেকেও। পশ্চিমবঙ্গে ভোটের কাজে নিযুক্ত এমন ৬৫ জন অফিসার বাদ পড়েছেন। একে প্রহসন বলবেন না?

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি বলেছেন, ‘যাঁরা বাদ গেলেন, হয়তো এবারে নির্বাচনে তাঁরা ভোট দিতে পারবেন না। তবে তার থেকেও মূল্যবান ভোটার তালিকায় থাকার অধিকার। সে অধিকার অবশ্যই সুরক্ষিত থাকা উচিতক্স (আনন্দবাজার পত্রিকা ২৫ এপ্রিল ‘২৬)। উচিত তো বটেই! সেই ঔচিত্যের বাস্তবায়ন ঘটাবে কে? প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ডিটেক্ট করা হয়েছে, ডিলিট করা হয়েছে। এবার ডিপোর্ট করা বাকি। ডিপোর্ট করে দিলে তখনও কি বিচারপতি বলবেন, ওরা সুপ্রিম কোর্টে কেস করে আবার দেশে ফিরে আসতে পারবে! এটা ন্যায় বিচার?

ট্রাইব্যুনাল কী করল? ট্রাইব্যুনালের মুলো ঝুলিয়ে গণঅসন্তোষে জল ঢালার চেষ্টা হল। দুই দফার ভোট মিলিয়ে মাত্র ১৪০০ জন ভোটারের বিচার হল। বাকি ডিলিটেডদের নাম কবে তালিকায় উঠবে? কত জন অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করা হল তা জানানো হোক। দ্রুত না জানালে প্রশ্ন তো উঠবেই।