বিজেপির রামনবমী পালনে ভোটটাই মুখ্য

আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রামনবমী পালনকে রীতিমতো একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পরিণত করে ফেলেছেন বিজেপি-নেতারা। কিছু দিন ধরে তাঁরা থেকে থেকেই ঘোষণা করছেন ওই দিন তাঁরা কতগুলি মিছিল করবেন, কত বিরাট সংখ্যায় মানুষ এই মিছিলগুলিতে যোগ দেবেন ইত্যাদি। অবশ্য মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের তাঁরা মানুষ হিসাবে দেখছেন না, দেখছেন একেবারে ‘হিন্দু’ ভোটার হিসাবে। তাই তাঁরা বিশেষ ভাবে উল্লেখ করছেন কত ‘হিন্দু’ তাঁদের মিছিলে যোগ দেবেন।

দলীয় প্রভাব বাড়াতেই রামনবমীর হুজুগ

কয়েক বছর আগেও এ রাজ্যে রামনবমী নিয়ে মানুষের মধ্যে বিশেষ কোনও উন্মাদনা ছিল না। ধর্মপ্রাণ হিন্দুদের কেউ কেউ নিজেদের ইচ্ছামতো দিনটি পালন করতেন। এই নিয়ে বিশেষ সমারোহ বাংলার উৎসবের তালিকায় নেই। তাই রাজ্যে রামমন্দিরের সংখ্যাও দীর্ঘকাল ধরে হাতে গোনা। তা হলে হঠাৎ কী এমন ঘটল যে সেই পশ্চিমবাংলায় রামনবমী পালনের হিড়িক পড়ে গেল?

বাস্তবে এই হিড়িক সাধারণ মানুষের নয়। বিজেপি নেতারা স্রেফ ভোটের স্বার্থে এই হিড়িক বানিয়ে তুলছেন। গত শতকের আটের দশকের শেষ থেকে বাবরি মসজিদ-রামজন্মভূমি বিতর্ককে খুঁচিয়ে তোলার মধ্য দিয়ে যে রাম-রাজনীতি বিজেপি শুরু করে তারই অনুষঙ্গ এই রামনবমী পালন। তার প্রভাব উত্তর ভারতে কিছুটা পড়লেও এ রাজ্যে তেমন পড়েনি। ২০১৪ সালে কেন্দে্র ক্ষমতায় বসার পরই বিজেপি এ রাজ্যের মানুষের মধ্যে দলীয় প্রভাব বাড়াতে রামনবমী পালনকে অন্যতম হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করতে শুরু করে।

ধর্মাচরণ ধর্মে বিশ্বাসী মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। ধর্মাচরণের আনুষঙ্গিক রীতি পালনেও কোনও বাধা নেই। কিন্তু সেই রীতি পালন যখন রাজনৈতিক মদতে সমাজ জুড়ে বিশৃঙ্খলা, অশান্তির কারণ হয়ে ওঠে, ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর হাতিয়ারে পরিণত হয় তখনই তার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। দুর্গাপুজো বাংলার সবচেয়ে বড় উৎসব। এই উৎসবে যোগ দেওয়া সাধারণ মানুষের অন্য ধর্মের প্রতি বিদ্বেষের চিহ্নমাত্র থাকে না। কারণ ধর্মে বিশ্বাসী সাধারণ মানুষের অন্য কোনও লুকানো উদ্দেশ্য তার মধ্যে কাজ করে না। একই রকম ভাবে মহরমের মিছিলও দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসছে। কখনও কারও কাছে তা আশঙ্কার কারণ হয়ে ওঠেনি। অথচ বিজেপি-আরএসএস আয়োজিত রামনবমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে বিগত কয়েক বছরে উপর্যুপরি সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ মানুষের মনে গভীর উদ্বেগ-আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে।

রামের প্রতি শ্রদ্ধা নয়, রামনবমীতে পেশির জোর দেখানোই উদ্দেশ্য

বিজেপির শীর্ষ নেতারা এ রাজ্যে এসে বারে বারে ঘোষণা করেছেন যে, তাঁদের ভারতবিজয় সম্পূর্ণ হবে না বাংলার ক্ষমতা দখল না করতে পারলে। প্রতিটি নির্বাচনে তাঁরা তার জন্য কোনও প্রচেষ্টাকেই বাদ রাখেননি। কিন্তু তাঁরা মানুষের সমর্থন আদায়ে ব্যর্থ হয়েছেন। কারণ, এই দলটির রাজনীতির সঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনের কোনও সম্পর্ক নেই। দলটি আপাদমস্তক শোষক পুঁজিপতি শ্রেণির স্বার্থরক্ষাকারী দল। তাই জনজীবনের জ্বলন্ত সমস্যাগুলি নিয়ে দলটির কোনও কর্মসূচি নেই। বরং তাঁরা সাবধানে এমন সমস্যাগুলিকে এড়িয়ে চলেন। আর জি কর আন্দোলনে যখন সারা রাজ্য উত্তাল, সব স্তরের সাধারণ মানুষ এই আন্দোলনে সামিল তখনও যে এই দলটি সেই আন্দোলন থেকে পুরোপুরি সরে থাকল, তা দলটির জনস্বার্থ বিরোধী চরিত্রের কারণেই। অথচ ভোটবাক্স তো ভরাতে হবে। তা হলে উপায়? উপায় একটিই। ধর্মীয় বিদ্বেষ তৈরি করো। ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে ভাগ করো। ধুয়ো তোলো যে, হিন্দুরা এ দেশে বিপন্ন। তারা যে অজস্র সমস্যায় জর্জরিত– তার জন্য মুসলমানদের দায়ী করে কাঠগড়ায় তোলো।

এ রাজ্যে সাধারণ মানুষের সমর্থন আদায়ের স্বাভাবিক রাস্তাটি বিজেপির সামনে আজ খোলা নেই বলেই কেবল বিদ্বেষ-বিভাজন তৈরির রাস্তাটিই এখন এ রাজ্যে তাদের একমাত্র দলীয় কর্মসূচি। তাই রাজ্যে তাঁদের রামনবমী উদযাপন রামের প্রতি কোনও শ্রদ্ধা থেকে নয়। বিভাজন তৈরি করে, সমাজজুড়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে, মানুষের প্রাণের বিনিময়ে হলেও, ধর্মের ভিত্তিতে ভোটব্যাঙ্ক তৈরি করে ক্ষমতায় পৌঁছনোর উদ্দেশ্যেই। তাই রামায়ণের মতো মহাকাব্যের শিক্ষাকে তুলে ধরার চেষ্টা এই রামনবমী পালনের কর্মসূচিতে নেই। বাংলার কৃত্তিবাসী রামায়ণের যে ধারা তা উত্তর ভারতের রামায়ণের ধারা থেকে কিছুটা আলাদা। এখানে রামায়ণের চরিত্রগুলিকে দেবতার রূপ দেওয়ার বদলে ঘরের ছেলেমেয়ের রূপ দিয়েছেন কবি-কথাকাররা। কিন্তু তাতে তো বিজেপির চলে না। বিজেপিকে পেশি-আস্ফালন দেখাতে হবে। তাই বাংলার ঐতিহ্য ভেঙে তাদের রামনবমীর মিছিলে অস্ত্র হাতে তুলে নিতে হয়। কপালে গেরুয়া ফেট্টি বেঁধে বাইক বাহিনীকে নামাতে হয়। রামের বিশাল কাটআউটে আলোর ঝলকানি লাগিয়ে, উচ্চস্বরে ডিজে বাজিয়ে মানুষকে চমকে দেওয়ার দরকার হয়। তাই মিছিলের রাস্তা বেছে বেছে সংখ্যালঘু এলাকাগুলির মধ্যে দিয়েই করে নিতে হয়। গত কয়েক বছরে রামনবমীর এমন প্রায় প্রতিটি মিছিল থেকেই সংখ্যালঘু এলাকায় দাঙ্গা ছড়িয়েছে। এ বারও বিজেপি নেতাদের মুখে যে লাগাতার আস্ফালন শোনা যাচ্ছে, তাতে দাঙ্গার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বামপন্থার চর্চার অভাবের সুযোগ নিচ্ছে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা

স্বাধীনতা আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে হিন্দু মহাসভা বাংলায় হিন্দুত্ব প্রচারের সর্বাত্মক চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি। নেতাজি সুভাষচন্দে্রর মতো নেতাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এই সাম্প্রদায়িক রাজনীতির পথ আটকে দিয়েছিল। শ্যামাপ্রসাদের মতো নামকরা নেতাও বাংলার রাজনীতিকে সাম্প্রদায়িকতার রঙে রাঙাতে পারেননি। তা হলে নবজাগরণ, স্বাধীনতা আন্দোলন, বামপন্থী আন্দোলনের দীর্ঘ ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এই বাংলায় বিজেপি আজ এ ভাবে ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতার রাস্তায় হাঁটতে পারছে কী করে?

পারছে এই কারণে যে, নবজাগরণ এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়ে সমাজজুড়ে যে যুক্তি, বুদ্ধির চর্চা হয়েছে, জ্ঞানের চর্চা হয়েছে, জাতপাত-ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে শোষিত বঞ্চিত মানুষের স্বার্থে লড়াইয়ের মানসিকতা গড়ে তোলা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ সিপিএম শাসনে তা প্রায় থিতিয়ে যায়। বামপন্থা এবং গণআন্দোলনের রাস্তা পরিত্যাগ করে পুঁজিপতি শ্রেণিকে সন্তুষ্ট করে ক্ষমতায় টিকে থাকার রাজনীতি চলতে থাকে। বামপন্থী গণআন্দোলনকে তারা লাঠি-গুলি চালিয়ে দমনের রাস্তা নেয়। নীতিহীনতা, গায়ের জোর, অন্ধতা, সুবিধাবাদ রাজনীতিতে জেঁকে বসে। বামপন্থা সম্পর্কে এক অংশ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়। স্বাভাবিক ভাবেই এর সুযোগ নেয় দক্ষিণপন্থী রাজনীতি। গত শতকের ষাটের দশকে এ রাজ্যে যুক্তফ্রন্ট শাসনে যখন বড় দল হিসাবে সিপিএম শরিক দলগুলির উপর সংখ্যাগুরু দলীয় আধিপত্য চাপিয়ে দিতে থাকে তখনই এস ইউ সি আই দলের প্রতিষ্ঠাতা, এ যুগের অন্যতম মার্ক্সবাদী চিন্তানায়ক শিবদাস ঘোষ বামপন্থীদের এমন আচরণ সম্পর্কে সাবধান করে বলেছিলেন– ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং জনসংঘের মতো ধর্মীয় রাষ্ট্রীয়তাবাদীরা ওৎ পেতে বসে আছে। তারা সুযোগের অপেক্ষা করছে। বামপন্থী আন্দোলনের প্রতি মানুষের যে আকর্ষণ আজও রয়েছে তা নষ্ট হয়ে গেলেই তারা আত্মপ্রকাশ করবে।’ বাস্তবে সেই সুযোগটাই আজ বিজেপি এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি নিচ্ছে। শুধু তাই নয়, ক্ষমতা হারানোর পরও সিপিএম নেতারা যে ভাবে ‘আগে রাম পরে বাম’ স্লোগান তুলেছিলেন, তাতে তাদের দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা দলে দলে বিজেপিকে সমর্থন করে রাজ্যের রাজনীতিতে বিজেপিকে জায়গা করে দিয়েছিল।

হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রতিযোগিতায় নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস

সাম্প্রদায়িক সংগঠনগুলির জমি তৈরি করে দিতে শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের ভূমিকাটিও কম নয়। সেকুলার ছদ্মবেশে তারাও বিজেপির সঙ্গে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রতিযোগিতায় নেমেছে। কখনও তা নরম হিন্দুত্বের রাস্তায় হেঁটেছে, কখনও সংখ্যালঘুর ত্রাতা সেজে হিন্দুত্ববাদীদের প্রচারের সুবিধা করে দিয়েছে। অথচ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের জীবনের সমস্যাগুলির সত্যিকারের সমাধান তাতে কিছুই হয়নি। বিগত বছরগুলিতে দেখা গেছে তৃণমূল কংগ্রেসও বিজেপির সঙ্গে অস্ত্র হাতে মিছিলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে, কখনও প্রশাসনকে নিষ্ক্রিয় রেখে দাঙ্গা চলতে দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এক দিকে ধর্মনিরপেক্ষতার দাবি করছে, আবার অন্য দিকে জনসমক্ষে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের মতো আচরণ করছে। এ সবই রাজ্যে সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করছে।

ভোটসর্বস্ব এই দলগুলির রাজনীতির প্রধান উপাদান সাম্প্রদায়িকতা বলেই এ দেশের পুঁজিপতি শ্রেণির আশীর্বাদ তাদের উপর অজস্র ধারায় ঝরে পড়ে। দলগুলির পিছনে শত-সহস্র কোটি টাকা ঢালতে তাদের একবারও ভাবতে হয় না। কারণ ধর্ম নির্বিশেষে মানুষের উপর শোষণ, বঞ্চনা, মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু, অশিক্ষার মতো সমস্ত রকম দুদর্শার জন্য যে এই পুঁজিবাদী ব্যবস্থা তথা পুঁজিপতি শ্রেণিই দায়ী– সেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টাই এর ফলে আড়ালে চলে যায়। শোষিত মানুষ নিজেদের মধ্যেই দ্বন্দে্ব মেতে ওঠে এবং একের দুদর্শার জন্য অপরকে দায়ী করে। এই সুযোগে পুঁজিপতি শ্রেণি নিশ্চিন্তে তাদের শোষণের স্টিম রোলার চালিয়ে যেতে পারে।

জনজীবনের মূল সমস্যা নিয়ে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলনই বাঁচার একমাত্র রাস্তা

এই অবস্থায় সমাজের ধর্মনিরপেক্ষ অংশ, উদারবাদী অংশ এবং অবশ্যই যথার্থ বামপন্থীদের উপরই এই সাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রতিরোধের গুরু দায়িত্বটি এসে পড়ে। সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে তাঁদের নিরলস কার্যক্রমই সমাজে সম্প্রীতি রক্ষার প্রধান গ্যারান্টি। তাই সমাজ জুড়ে যুক্তি-বুদ্ধি-ইতিহাস চর্চাকে ক্রমাগত বাড়িয়ে তুলতে হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব স্তরের সাধারণ মানুষকে যুক্ত করে জনজীবনের জ্বলন্ত সমস্যাগুলি নিয়ে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সকলেই জানেন, এস ইউ সি আই (কমিউনিস্ট) এই গণআন্দোলন গড়ে তোলার কাজই চালিয়ে যাচ্ছে। আজ এই সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে রুখতে তার পাশে দাঁড়াতে হবে, শক্তিবৃদ্ধি করতে হবে।

মনে রাখতে হবে, শোষিত মানুষের মুক্তির রাস্তায় গুরুত্বপূর্ণ বাধা সাম্প্রদায়িক বিভাজন। শোষণের বিরুদ্ধে শোষিত মানুষের ঐক্য, যা তার সবচেয়ে বড় শক্তি, সাম্প্রদায়িকতা সেই ঐক্যকেই বিঘ্নিত করে। বাঁচার দাবিতে লড়াই পিছিয়ে যায়। আর শুধু শোষিত মানুষের বাঁচার লড়াইকেই সাম্প্রদায়িকতা ক্ষতিগ্রস্ত করে তাই নয়, বুদ্ধির চর্চা, জ্ঞানের চর্চা, বিজ্ঞানের চর্চা– সমস্ত কিছুকে পিছিয়ে দেয়। ভাল-মন্দ, ঠিক-বেঠিক, উচিত-অনুচিত প্রভৃতি বিচারবোধকে আচ্ছন্ন করে দেয়। এমনকি মানবিক মূল্যবোধকে এবং স্নেহ মমতা ভালবাসা প্রভৃতি মানবিক গুণগুলিকেও ধ্বংস করে দেয়। আমাদের সামনে এর বড় উদাহরণ হিসাবে রয়েছে হিটলারের নেতৃত্বে জার্মানির ফ্যাসিবাদী রাজনীতি। যে জার্মানি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে চিন্তায় ভাবনায় জ্ঞানে শিল্পে ছিল ইউরোপের এক অত্যন্ত উন্নত দেশ, সেই জার্মানিতে হিটলারের নেতৃত্বে জার্মান জাতীয়তাবাদের বিষ গোটা জার্মান জাতিকে এমন করে উন্মাদ করে তুলেছিল যে, সে দেশের শ্রমিকরা পর্যন্ত হিটলারের বিরোধিতা করতে, নাৎসীবাদের বিরোধিতা করতে ভুলে গেল। বুদ্ধিজীবীদের একটা অংশও নাৎসীবাদীদের সঙ্গে গলা মেলাল। তার কী বীভৎস পরিণতি হয়েছে তা আজ সকলের জানা। তাই বিজেপি-আরএসএসের এই ভয়ঙ্কর সাম্প্রদায়িক রাজনীতির হাত থেকে জ্ঞান-বিজ্ঞান-শিক্ষা-সংস্কৃতি-সম্প্রীতি-ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে হলে এই রাজনীতির বিরুদ্ধে সমস্ত স্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।