এস ইউ সি আই (সি)-র সাধারণ সম্পাদক কমরেড প্রভাস ঘোষ ১৬ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতিতে বলেন, মহাকুম্ভের বিপুল জনসমাগম সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে উত্তরপ্রদেশ রাজ্য সরকারের চরম ব্যর্থতা ও উপযুক্ত পরিকাঠামোর অভাবের ফলে অতি সম্প্রতি প্রয়াগরাজে মহাকুম্ভ মেলায় পদপিষ্ট হয়ে ও বেশ কয়েকটি আগুন লাগার ঘটনায় বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সরকারি ভাবে ৩০ জনের নিহত হওয়ার সংখ্যা বলা হলেও বাস্তবে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি। এরপরেই আবার ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে নিউ দিল্লি রেলস্টেশনে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। প্রয়াগরাজ অভিমুখী ট্রেনে উঠতে গিয়়ে রেলের অব্যবস্থায় বিভ্রান্ত হয়ে স্টেশনে সমবেত হাজার হাজার মহাকুম্ভ-তীর্থযাত্রী আতঙ্কিত হয়ে দৌড়াদৌড়ি শুরু করলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। সরকারি ভাষ্যে ১৮ জনের নিহত হওয়ার কথা বলা হলেও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য– সংখ্যা আরও অনেক বেশি। অপ্রতুল পরিকাঠামো, প্রয়োজনের তুলনায় কম কর্মী ও সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং আচমকা ট্রেনের প্ল্যাটফর্ম পাল্টানোর ঘোষণা– এই সব কিছুই ঘটনার জন্য দায়ী। হিন্দু ধর্মের একচেটিয়া মালিকানা নিতে গিয়ে সাম্প্রদায়িক হিন্দুত্ববাদে উস্কানি দিয়ে আরএসএস-বিজেপি-সংঘ পরিবার মহাকুম্ভের মাহাত্ম্য নিয়ে যে সীমাহীন প্রচার চালিয়েছে, তার হাড়িকাঠে আর কত প্রাণ বলি দেওয়া হবে? বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশ রাজ্য সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে যে, বারবার এমন মর্মান্তিক ঘটনায় বিপুল সংখ্যক মানুষ, বিশেষত দরিদ্র অংশের মানুষের জীবন নিয়ে আর কত ছিনিমিনি তারা খেলবে। এতগুলি নিরীহ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে কোনও ক্ষতিপূরণই যথেষ্ট নয়।
তিনি বলেন, হিন্দু ভোটব্যাঙ্ক সংহত করার লক্ষ্যে ধর্মীয় উন্মাদনা ছড়িয়ে এই ব্যাপক সংখ্যায় তীর্থযাত্রীকে মহাকুম্ভ মেলায় সমবেত হতে কেন্দ্র ও উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকারই উৎসাহ দিয়েছিল। তারা বিশ্বমানের পরিকাঠামো তৈরির মিথ্যা প্রচার চালিয়েছে। তাদের ভয়ঙ্কর অপদার্থতা ও মিথ্যা প্রচারকে আমরা তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছি।