কৃষক আন্দোলনের চাপে বাতিল করতে বাধ্য হলেও কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ঘুরপথে সেই কালা কৃষি আইনই চালু করার চেষ্টা করছে। এর প্রতিবাদে অল ইন্ডিয়া কিসান-খেতমজদুর সংগঠন ২৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের ১৮টি রাজ্যের রাজধানী শহরগুলিতে হাজার হাজার কৃষক বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে। এ রাজ্যে কলকাতার শহিদ মিনারে ওই দিন কৃষক-খেতমজুরদের মহাসমাবেশ হবে। ১৬ ফেব্রুয়ারি এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা জানান এআইকেকেএমএস-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক শঙ্কর ঘোষ। তিনি সরাসরি অভিযোগ তোলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলি চাষির স্বার্থে কিছুই করছে না। চাষি তিন টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। লঙ্কা, ফুলকপি, বাঁধাকপির দাম পাচ্ছেন না চাষিরা। খেতমজুরদের সারা বছর কাজ নেই। প্রতিদিন দেশে গড়ে ৫০ জন কৃষক আত্মহত্যা করতে বাধ্য হচ্ছেন।
কৃষকদের ৮০ শতাংশই ঋণগ্রস্ত। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বাজার সংস্কারের নামে মান্ডি, হাট, বাজার তুলে দিচ্ছে বহুজাতিক কোম্পানিগুলির হাতে। ২০২০ সালের আগস্টে শুরু হয়ে এক বছরের বেশি সময় ধরে দিল্লি সীমান্তে যে ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলন হয়েছিল, যাতে ১০ লক্ষ কৃষক প্রাণ বাজি রেখে অংশ নিয়েছিলেন, তার চাপে নরেন্দ্র মোদি সরকার তিনটি কালা কৃষি আইন বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু এখন চরম নির্লজ্জের মতো ঘুরপথে সেই আইন তারা আবার চালু করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, এআইকেকেএমএস সহ ৫০০টি কৃষক সংগঠনের সংযুক্ত কিসান মোর্চা (এসকেএম) ২৪-২৫ জানুয়ারি দিল্লিতে এক সভায় এর বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। সেই ডাকে সাড়া দিয়েই আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি দেশ জুড়ে কিসান মহাসমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে শঙ্কর ঘোষ বলেন, এআইকেকেএমএস-এর দাবি, ১) খাদ্যশস্যের রাষ্ট্রীয় বাণিজ্য চালু করতে হবে, ২) লাভজনক দামে কৃষকদের কাছ থেকে কৃষিপণ্য সরাসরি সরকারকে কিনতে হবে, ৩) কৃষকদের কাছ থেকে কেনা ফসল সুলভ মূল্যে জনগণের কাছে সরকারকে বিক্রি করতে হবে, ৪) এনরেগা প্রকল্পে বছরে ২০০ দিন কাজ দিতে হবে এবং দৈনিক ৬০০ টাকা মজুরি দিতে হবে, ৫) কৃষকদের সমস্ত কৃষিঋণ মকুব করতে হবে, ৬) ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে সমস্ত কৃষককে মাসিক ১০ হাজার টাকা পেনশন দিতে হবে, ৭) বিদ্যুৎ বিল-২০২৩ বাতিল করতে হবে, ৮) স্মার্ট মিটার চালু করা চলবে না, ৯) বাজার সংস্কার নীতি চালু করা চলবে না ইত্যাদি।
রাজ্যের তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করে শঙ্কর ঘোষ বলেন, চাষির আয় নাকি এই সরকারের আমলে সাড়ে তিনগুণ বেড়েছে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যাচার। চাষির স্বার্থে কেন্দ্রীয় সরকারের মতো রাজ্য সরকারও কিছু করছে না।
সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক গোপাল বিশ্বাস বলেন, বিভিন্ন জেলায় গ্রামে গ্রামে যে কৃষক কমিটিগুলি গড়ে উঠেছে, তাদের উদ্যোগে হাজার হাজার কৃষক ২৫ ফেব্রুয়ারির সমাবেশে শহিদ মিনারে সমবেত হবেন। এই সমাবেশ থেকে আগামী দিনের বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষিত হবে। সংযুক্ত কিসান মোর্চার বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্য জুড়ে এসকেএম-এর ডাকে বেলা ১১টা থেকে ১২টা পথ অবরোধ হবে। ২০ মার্চ মৌলালি যুবকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে কনভেনশন। রাজ্য সরকার যাতে বিধানসভায় কেন্দ্রীয় জনবিরোধী কৃষিনীতির বিরুদ্ধে প্রস্তাব নেয়, সে জন্য বিধায়কদের আহ্বান জানানো হবে। কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং রাজভবন ঘেরাও করবেন কৃষকরা। সাংবাদিক সম্মেলনে এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের রাজ্য কোষাধ্যক্ষ রেণুপদ হালদার এবং অফিস সম্পাদক স্বপন দেবনাথ।