সাংসদরা প্রকৃত জনপ্রতিনিধি হলে নিজেদের বেতন বৃদ্ধির জন্য এত নির্লজ্জ হতেন না

সাংসদদের বেতন এবং পেনশন নতুন করে ২৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এই বেতন বৃদ্ধি ২০২৩-এর ১ এপ্রিল থেকে কার্যকরী হবে। ফলে লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে ৭৮৮ জন সাংসদের জন্য বছরে খরচ হবে ৩৪০০ কোটি টাকা। এস ইউ সি আই (কমিউনিস্ট)-এর সাধারণ সম্পাদক কমরেড প্রভাস ঘোষ ২৫ মার্চ এক বিবৃতিতে এর তীব্র নিন্দা করেন।

তিনি বলেন, তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে দেশের খেটে খাওয়া মানুষ দিনে দিনে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। জীবনধারণের ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের তুলনায় বেশিরভাগ শ্রমিক-কর্মচারীর আয় ক্রমাগত কমতে থাকায় তাদের দুর্দশা বেড়ে চলেছে। খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতে সরকারের বরাদ্দ দিনের পর দিন কমছে। এই পরিস্থিতিতে সাংসদদের এই বিপুল বেতন বৃদ্ধি নিতান্ত কুৎসিত। সাংসদদের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার কথা। কিন্তু তাঁরা বাড়তি সুবিধা আত্মসাৎ করতে এবং জনগণের পয়সায় নিজেদের আরাম আয়েসের ব্যবস্থাপনাতেই ব্যস্ত। জনপ্রতিনিধি হলে জনগণই তাঁদের দেখভাল করত, কিন্তু এই সাংসদরা জনগণের টাকায় তৈরি সরকারি কোষাগার ভেঙে নিজেদের পকেট মোটা করার কাজে অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।

উল্লেখ্য, জনপ্রতিনিধিদের অন্যায় এবং অনৈতিক বেতন বৃদ্ধির বিরুদ্ধে একটি মাত্র কণ্ঠস্বর সোচ্চার হয়েছিল ২০০৯ থেকে ২০১৪-র সংসদে। সেই কণ্ঠস্বর ছিল এস ইউ সি আই (সি) সাংসদ ডাক্তার তরুণ মণ্ডলের। বছর বছর সাংসদদের বিপুল বেতন বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের পুরোপুরি ভাবে সরকার ও শাসক শ্রেণির লেজুড়ে পরিণত করার চেষ্টা চলছে। সরকারের এই মতলব জনগণকে বুঝতে হবে।

লেখাটি গণদাবী ৭৭ বর্ষ ৩৪ সংখ্যা ৪-১০ এপ্রিল ২০২৫  প্রকাশিত