
মে দিবস নিছক আট ঘণ্টার কাজের অধিকারের লড়াইয়ের দিন নয়, ছুটির উৎসবের দিবসও নয়৷ ঐতিহাসিক মে দিবসের শ্রমিকদের সংগ্রাম থেকে শিক্ষা নিয়ে আজকের দিনের শোষিত শ্রমিক শ্রেণির সমাজ পরিবর্তনের লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শপথ গ্রহণের দিন৷ ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবসে কলকাতায় শহিদ মিনার ময়দানে বামপন্থী শ্রমিক সংগঠনগুলির যৌথ সভায় এ আই ইউ টি ইউ সি–র রাজ্য সম্পাদক কমরেড দিলীপ ভট্টাচার্য এ কথা বলেন৷ এদিনের সমাবেশে সিটু, এআইটিইউসি, এআইসিসিটিইউ, টিইউসিসি এবং ইউটিইউসি নেতৃবৃন্দ যোগদান করেন এবং মূল প্রস্তাবের উপর বক্তব্য রাখেন৷ কমরেড দিলীপ ভট্টাচার্য আরও বলেন, ১৮৮৯ সালে শ্রমিক শ্রেণির মহান শিক্ষক ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস ১ মে দিনটি আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসাবে ঘোষণা করেন৷ আজকের চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়াশীল পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থায় মে দিবসের সংগ্রামের আকাঙক্ষা কখনওই পূরণ করা যাবে না৷ আজ শোষণমূলক পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় শ্রমিক শ্রেণির বহু রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত অধিকারগুলি পুঁজিপতিরা তাদের উদগ্র মুনাফার স্বার্থে এক এক করে কেড়ে নিচ্ছে৷ আজ তাই শ্রমিকদের জীবন অত্যন্ত সংকট জর্জরিত৷ লে–অফ, ছাঁটাই, ক্লোজার, ক্ষুধা, দারিদ্র এবং তীব্র অর্থনৈতিক শোষণ তাদের নিত্যসঙ্গী৷
তিনি বলেন, বিশ্বায়ন, উদারিকরণ এবং ব্যাপক হারে বেসরকারিকরণের নীতি কার্যকর করা হচ্ছে৷ শ্রমিক শ্রেণির ঐক্য, সংহতি এবং আন্দোলন ভেঙে দেওয়ার জন্য জাত–পাত–সাম্প্রদায় রাজনীতি শুধু বিজেপি–ই নয়, কংগ্রেসও করছে৷ এভাবেই পুঁজিবাদী শোষণমূলক ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখা এবং দীর্ঘায়িত করার কাজটি বিজেপি, কংগ্রেস সহ সব পরিষদীয় দলগুলিই নিরন্তর করে চলেছে৷
ঐতিহাসিক মে দিবসের শিক্ষা হল– শ্রমিক শ্রেণিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পুঁজিবাদের সমস্ত ধরনের শোষণ এবং জুলুমের বিরুদ্ধে উন্নত চেতনা নিয়ে রুখে দাঁড়াতে হবে৷ নিরন্তর এবং নিরলস সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পুঁজিবাদকে উৎখাত করে সমাজতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে৷ এটাই হল শোষণমুক্তির একমাত্র পথ৷

অনগুল : ওড়িশার বিভিন্ন জেলাতে মে দিবস উপলক্ষে সভা, মিছিল অনুষ্ঠিত হয়৷ অনগুলে এআইইউটিইউসি অনুমোদিত জিন্দাল স্টিল অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড ওয়ার্কার্স কমিটির ডাকে ১ মে জনসভার মধ্য দিয়ে মে দিবস পালিত হয়৷ সভাপতিত্ব করেন কমিটির উপদেষ্টা কমরেড মানস পাল৷ প্রধান বক্তা এস ইউ সি আই (সি) ওড়িশা রাজ্য কমিটির সম্পাদক কমরেড ধূর্জটি দাস মে দিবসের সংগ্রাম থেকে শিক্ষা নিয়ে আজকের দিনে শ্রমিক অধিকার হরণের প্রতিবাদে আন্দোলন তীব্র করার আহ্বান জানান৷ তিনি বলেন, শোষণমূলক পুঁজিবাদী ব্যবস্থা ভেঙে সমাজতন্ত্র কায়েম করার মধ্যেই রয়েছে মে দিবসের সংগ্রামের সত্যিকারের সাফল্য— যা আমাদের অর্জন করতে হবে৷
তালচের : এ আই ইউ টি ইউ সি অনুমোদিত ওড়িশার তালচের সুপার থার্মাল ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের উদ্যোগে ১ মে এক শ্রমিক সভা অনুষ্ঠিত হয়৷ সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়নের সহ সভাপতি কমরেড ভিখারি প্রধান৷ মূল বক্তা ছিলেন ইউনিয়নের সভাপতি এবং এস ইউ সি আই (সি) ওড়িশা রাজ্য সম্পাদক কমরেড ধূর্জটি দাস৷
(৭০ বর্ষ ৩৬ সংখ্যা ২৭ এপ্রিল, ২০১৮)