Breaking News

বিজেপি সরকারের শ্রমিকবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে এআইইউটিইউসি-র দাবি দিবস পালিত

১৯ ফেব্রুয়ারি এআইইউটিইউসি-র পক্ষ থেকে শ্রমিক স্বার্থবিরোধী কালা ৪টি শ্রমকোড বাতিল এবং কেন্দ্র ও রাজ্য বাজেটে মালিকদের স্বার্থে পদক্ষেপ নেওয়ার বিরুদ্ধে কলকাতায় আয়কর ভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখানো হয় এবং বাজেটের প্রতিলিপি পোড়ানো হয়।

ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি, বেকারি সহ নানা সমস্যায় জনজীবন জেরবার। এর উপর কেন্দ্রীয় সরকার ও নানা রাজ্যের সরকার শ্রমজীবী সাধারণ মানুষের ওপর একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। সীমিত অর্থেও গণতান্ত্রিক অধিকার সাধারণ মানুষের যা ছিল তাও তারা হরণ করে নিচ্ছে। কর্মসংস্থানের হাল দেখে বৃহৎ পুঁজি নিয়ন্ত্রিত সংবাদপত্রগুলিও পর্যন্ত বলতে বাধ্য হচ্ছে– সরকারকে কর্মসংস্থানের বন্দোবস্ত করতে হবে। অন্যথায় পুঁজিবাদী অর্থনীতিই ভেঙে পড়তে পারে।

বছরে দু’কোটি বেকারের চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন মোদি সরকার সমস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানে কার্যত স্থায়ী নিয়োগ বন্ধ করে দিয়েছে। একের পর এক সরকারি প্রতিষ্ঠানকে জলের দরে মুনাফালোলুপ বেসরকারি মালিকদের হাতে বিক্রি করে দিচ্ছে। ব্যাহত হচ্ছে সরকারি পরিষেবা। ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ ও পরিবহণের এবং চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, রান্নার গ্যাস, ওষুধ সহ নিত্যব্যবহার্য সমস্ত অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের। বিগত দশ বছরে বৃহৎ কর্পোরেট হাউসগুলির প্রায় চোদ্দ লক্ষ কোটি টাকার অনাদায়ী ঋণ মকুব করে দেওয়া হয়েছে, যার দায়ভার এসে পড়েছে সাধারণ মানুষ ও শ্রমজীবী মানুষের ওপর।

কেন্দ্রে অধিষ্ঠিত বিজেপি সরকার কোনও আলোচনা ছাড়াই দেশের সমস্ত শ্রমনীতিগুলির বিলোপ সাধন করে চারটি শ্রম কোড চালু করার কথা ঘোষণা করেছে। ফলে এতদিন যতটুকু অর্থেও শ্রমিক-কর্মচারীরা শিল্প বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত আইনগত সুযোগ সুবিধা পেতেন, সেটুকুও এই স্বৈরাচারী সরকার কেড়ে নিতে চলেছে। বাস্তবে শিল্পক্ষেত্রে মালিকদের লাগামহীন সন্ত্রাস নামিয়ে আনারই নীল নকশা এই চারটি শ্রম কোড। শক্তিশালী শ্রমিক আন্দোলনের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে পুঁজিপতিদের স্বার্থরক্ষাকারী বিভিন্ন রাজ্য সরকার এই চারটি শ্রম কোড চালু করতে বদ্ধপরিকর। এর সাথে আট ঘণ্টার পরিবর্তে চালু হতে চলেছে বারো ঘণ্টার কর্মদিবস। এমনকি ইনফোসিসের কর্ণধার সপ্তাহে নব্বই ঘণ্টার কর্মদিবস চালু করার নিদান দিয়েছেন যা শিল্পপতি মহল অতি কৌশলে ভাসিয়ে দিয়েছে। কার্যকরী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে এই নব্বই ঘণ্টার কর্মদিবস শুধু কথার কথা না থেকে বাধ্যতামূলক হয়ে যেতে পারে। এটাও আজ অজানা নয়, শ্রমিক-কর্মচারীদের অবসরকালীন পেনশন কেড়ে নিয়ে যে ‘নয়া পেনশন নীতি’ চালু করা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলনের চাপে পড়ে কেন্দ্র সরকার শ্রমজীবী মানুষদের বিভ্রান্ত করার জন্য শ্রমিক বিরোধী ‘ইউনিফায়েডপেনশন নীতি’ চালু করেছে। কোনও কোনও শ্রমিক নেতা এই নীতির সাফাইও গাইছেন। কিন্তু সরকার কোনও ভাবেই পুরনো যে নিশ্চিত পেনশন প্রকল্প ছিল, তা ফেরাতে চাইছে না। পশ্চিমবঙ্গেও রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় হারে বকেয়া ডিএ সহ শিক্ষক-কর্মচারীদের বহু ন্যায্য দাবি মানছে না। কেন্দ্রের অষ্টম বেতন কমিশনের ঘোষণা হলেও রাজ্য সরকার এ ব্যাপারে কোনও মনোযোগ দিচ্ছে না।

আশা, অঙ্গনওয়াড়ি, মিড ডে মিল সহ স্কিম ওয়ার্কারদের কোনও স্থায়ী বেতনকাঠামো নেই। তাদের সরকারি কর্মচারী হিসেবে বিবেচনা করার দাবি উপেক্ষিত। কর্ণাটকে আশা কর্মীদের ব্যাপক আন্দোলনের ফলে কর্ণাটক সরকার ন্যূনতম দশ হাজার টাকা বেতন, ইনক্রিমেন্ট ইত্যাদি দাবি মানতে বাধ্য হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও দাবি আদায়ে এ ধরনের আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান এআইইউটিইউসি নেতৃবৃন্দ।

মোটরভ্যান, টোটো, বাইক ট্যাক্সি চালকদের পরিবহণ শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি ও লাইসেন্স পাওয়ার দাবি এখনও উপেক্ষিত। অথচ প্রায়শ মোটরভ্যান চালকদের উপরে চলে প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধ করার বারবার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও পুলিশি জুলুম অব্যাহত চলছে। প্ল্যাটফর্ম ওয়ার্কার, গিগ ওয়ার্কার হিসাবে আজ লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত বেকার কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে, অথচ সরকার তাদের দাবির প্রতি কর্ণপাতই করছে না। নির্মাণ-বিড়ি-দর্জি-জরি-হোসিয়ারি-পরিযায়ী শ্রমিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা ভীষণভাবে অবহেলিত। উপরোক্ত দাবিগুলি সহ পঁচিশ দফা দাবিতে এআইইউটিইউসি ১১-১৭ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী দাবি সপ্তাহ পালনের ডাক দেয়। এই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত জেলায় নানা কারখানা, গঞ্জ-শহরে দাবি দিবসের কর্মসূচি হয়। সভা, বিক্ষোভ, রাস্তা অবরোধ ইতাদি নানা ভাবে কর্মসূচি পালিত হয়।