পাঠকের মতামতঃ পুলিশ হয়েও মেয়েকে রক্ষা করতে পারব তো!

আজ আমি সকলের সাথে আমার একটা অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে চাই। একদিন আমি কাজ থেকে ফেরার সময় এক পুলিশকর্মী আমার বাইক থামিয়ে তাঁকে একটু শিয়ালদায় নামিয়ে দিতে বলেন। আমি গাড়ি থামিয়ে ওনাকে তুলে নেওয়ার পর দু’জনের মধ্যে কথাবার্তা চলতে থাকে। কিছু কথাবার্তার পর ওনাকে জিজ্ঞাসা করি, আচ্ছা আর জি কর-এর ঘটনা সম্পর্কে আপনার কী মত? উনি উত্তরে যা বললেন, তা আমি আশা করিনি। আমি ভেবেছিলাম এই প্রশ্নে উনি হয়তো রাগ করবেন। কিন্তু ঘটল ঠিক তার বিপরীত।

উনি বললেন, এই আন্দোলনকে বাধা দিয়ে আমি যে পাপ করেছি, সেই পাপ আমাকেও হয়তো ছাড়বে না। বললেন, আমার এক ভাইঝি ডাক্তার হয়েছে। আমার মেয়েও ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। বললেন, সমাজে এত বড় একটা অন্যায় ঘটনা ঘটে গেল অথচ আসল দোষীরা সাজা পেল না। এখন সমাজের উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত– কারওর ঘরের মহিলাদেরই কোনও নিরাপত্তা নেই। আমি নিজে পুলিশে কাজ করি, তা সত্ত্বেও নিজের মেয়েকে নিয়ে আমার দুশ্চিন্তা হয়। সেও তো বড় হচ্ছে! তাকে কি আমি নিরাপত্তা দিতে পারব? জানি না কোন ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে তার জন্য! এই চিন্তায় আমার রাতের পর রাত ঘুম হয় না। গভীর উদ্বেগ ঝরে পড়ে তাঁর কথায়।

এই প্রসঙ্গে তিনি আরও একটি ঘটনার কথা বললেন। আর জি কর-এর ঘটনার ন্যায়বিচার চেয়ে যখন আন্দোলন তুঙ্গে সেই সময়ে একদিন ওনার মায়ের বয়সী এক মহিলা মিছিল থেকে বেরিয়ে এসে ওনাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন– বাবা, তুমি কি আমাকে অ্যারেস্ট করবে? পুলিশকর্মীটি বললেন, ‘‘ওনার কথা শুনে আমি নির্বাক হয়ে গেলাম। কোনও উত্তর দিতে পারিনি। আমি কী বলব বুঝতে পারছিলাম না। পেছনে আই জি সাহেব দাঁড়িয়েছিলেন। তবু আমি কিছু বলতে পারলাম না। মাথাটা নিচু হয়ে গিয়েছিল আমার।’’

অরিজিৎ চ্যাটার্জী

কলকাতা-১২

লেখাটি গণদাবী ৭৭ বর্ষ ৩৪ সংখ্যা ৪-১০ এপ্রিল ২০২৫  প্রকাশিত