
অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ ইউনিটি ফোরাম আগামী ১১ আগস্ট দেশব্যাপী আইডিবিআই ব্যাঙ্ক ধর্মঘট সফল করার আহ্বান জানিয়েছে।
কেন এই ধর্মঘট? এর অন্যতম দাবি, অবিলম্বে ব্যাঙ্কে স্থায়ী পদে পাঁচ হাজার ক্লার্ক এবং দু’হাজার সাব-স্টাফ নিয়োগ করতে হবে। কোনও ভাবেই ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণ চলবে না। এ রকম মোট ৯টি দাবিকে সামনে রেখে ‘ইউনাইটেড ফোরাম অফ আইডিবিআই অফিসার্স অ্যান্ড এমপ্লয়িজ’ এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতায় থেকে কংগ্রেস এবং বিজেপি ধারাবাহিকভাবে এশিয়ার বৃহত্তম শিল্প-উন্নয়ন ব্যাঙ্ক আইডিবিআইকে বেসরকারিকরণের চেষ্টা চালিয়েছে। বর্তমানে আইডিবিআই ব্যাঙ্কে কেন্দ্রীয় সরকার এবং এলআইসি-র যৌথ অংশীদারিত্ব ৯৪ শতাংশের কিছু বেশি। কেন্দ্রীয় সরকার এবং এলআইসি তাদের ৬০.৭২ শতাংশ অংশীদারিত্ব একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এভাবেই সম্পূর্ণ বেসরকারিকরণের দিকে তারা এগিয়ে যাবে। বলাবাহুল্য এর ফলে গ্রাহক ও ব্যাঙ্ককর্মী উভয়ের স্বার্থই বিপদগ্রস্ত হবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শেয়ার বিক্রির বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ঘোষণা সত্ত্বেও এআইবিইএ নেতৃত্বে পরিচালিত ব্যাঙ্কভিত্তিক ইউনিয়নগুলি শেয়ার বিক্রি বন্ধ করার জন্য কোনও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। ১৯৯১ সালে কেন্দ্রীয় সরকার যখন আইডিবিআইকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করে বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত নেয় তখন অল ইন্ডিয়া আই ডি বি এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন এবং অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এদের কলকাতা ইউনিট এআইইউটিইউসি-র পরামর্শ অনুযায়ী পরিচালিত হত। কলকাতা ইউনিটের শক্তিশালী আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সে সময় বেসরকারিকরণের যাবতীয় পদক্ষেপ রুখে দেওয়া সম্ভব হয়। চেয়ারম্যান লিখে দিতে বাধ্য হন তিনি বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে। এরই ফলশ্রুতিতে বেসরকারিকরণ বিরোধী বলে সেই সময়কার চেয়ারম্যানকে তাঁর পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়। এই আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে ১৯৯২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ধর্মঘটে। ওই দিন এ নিয়ে সংসদের অভ্যন্তরে তীব্র বাদানুবাদ হয় এবং শেষ পর্যন্ত বেসরকারিকরণের পথ থেকে পিছু হটে সরকার। বর্তমানে এই ব্যাঙ্কটি কমার্শিয়াল ব্যাঙ্কে রূপান্তরিত হয়েছে। গত দু’দশকে কোন স্থায়ী কর্মী নিয়োগ না হওয়ার কারণে ৩ হাজার কর্মীর সংখ্যা নামতে নামতে আজ ৪০০-তে এসে দাঁড়িয়েছে।
১১ আগস্টের এই ধর্মঘটকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ ইউনিটি ফোরাম। ফোরামের পক্ষ থেকে আইডিবিআই ব্যাঙ্ক এবং অন্যান্য ব্যাঙ্কের সমস্ত কর্মচারী ও গ্রাহকদের এই ধর্মঘটের পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ রায়মণ্ডল এবং সভাপতি ডঃ পূর্ণচন্দ্র বেহেরা।