
হিমালয় সন্নিহিত তিনটি রাজ্যে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ এবং এগুলিকে মনুষ্যসৃষ্ট বিপর্যয় বলে অভিহিত করে এসইউসিআই(সি)-র সাধারণ সম্পাদক কমরেড প্রভাস ঘোষ ১৫ আগস্ট বলেন,
আমরা গভীরভাবে মর্মাহত যে, মেঘভাঙা বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধসে হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলের তিনটি রাজ্য হিমাচলপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং কাশ্মীরের অনেক জায়গা ধ্বংস হয়েছে, শতাধিক মূল্যবান জীবন চলে গেছে, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে এবং সড়ক ও ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। যদিও সরকারি সংস্থাগুলি অপ্রত্যাশিত প্রাকৃতিক দুর্যোগকে এই বিপর্যয়ের জন্য দায়ী করেছে, বাস্তবে বাস্তুতন্ত্রকে বিঘ্নিত না করা এবং ভূমিকম্পের কারণগুলিকে বাড়তে না দেওয়ার জন্য বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা বারবার উপেক্ষা করা হয়েছে।
এই রাজ্যগুলিতে বৃহৎ বাণিজ্যিক সংস্থার মুনাফার স্বার্থে পর্যটন ও ধর্মীয় পর্যটনের পরিকাঠামোর নামে যথেচ্ছ নির্মাণ চলছে। সরকারের টোল ট্যাক্স আদায় বাড়ানোও এর অন্যতম লক্ষ্য। শত শত জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, যথেচ্ছ বাঁধ ও হোটেল নির্মাণ, রাস্তা চওড়া করা এবং কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলির দ্বারা বেপরোয়া অরণ্য ধ্বংসের মতো তথাকথিত উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকৃতির বিরুদ্ধে এই সমস্ত যথেচ্ছাচারই এই জাতীয় বিপর্যয়ের মুখ্য কারণ। পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে গ্রিনহাউস গ্যাসের বেপরোয়া নির্গমন, গাড়ির ধোঁয়া থেকে লাগামহীন দূষণ, কারখানাগুলিতে দূষণ-প্রতিরোধী নিয়ম লঙ্ঘন করে বিষাক্ত বর্জ্য পরিবেশে জমা করা ইত্যাদি কারণই তাপমাত্রার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, তীব্র বৃষ্টিপাত, হিমবাহের গলন, পাহাড়ি কাঠামোতে ফাটল এবং ঘন ঘন ও শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় সহ প্রাণঘাতী বজ্রপাতের মতো চরম প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জন্য দায়ী। তাই এগুলি প্রকৃতির অস্বাভাবিকতা নয়, বরং মনুষ্য-সৃষ্ট বিপর্যয়।
বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং যথাযথ পুনর্বাসনের দাবি জানাচ্ছি আমরা। আমরা মনে করি, কেবল শক্তিশালী গণআন্দোলনই পারে বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদ ও দুর্যোগের এই পর্যায়ক্রমিক পুনরাবৃত্তি রোধ করতে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ায় সরকারকে বাধ্য করতে।