
গ্রাহক স্বার্থ বিরোধী স্মার্ট মিটার লাগানোর বিরুদ্ধে ২৩ জুন সারা বাংলা প্রতিবাদ দিবসের ডাক দিয়েছিল বিদ্যুৎ গ্রাহক সংগঠন অ্যাবেকা। কলকাতা সহ রাজ্যের সমস্ত জেলার জেলা শহর, মহকুমা শহর, বিভিন্ন ব্লকের প্রধান গঞ্জে স্মার্ট মিটারের প্রতিরূপে অগ্নিসংযোগ করে গ্রাহকরা বিক্ষোভ দেখান।
দেশের বিদ্যুৎ আইন ২০০৩ এর কোথাও বাধ্যতামূলক স্মার্ট মিটার লাগানোর কথা নেই। যে আরডিএসএস স্কিমের মাধ্যমে এই স্মার্ট মিটার লাগানো হচ্ছে সেই স্কিমের কোথাও স্মার্ট মিটার বাধ্যতামূলক বলা নেই এবং রাজ্যের বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের সার্কুলারে স্পষ্ট উল্লেখ আছে এটা কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ অথরিটির উপদেশ মাত্র। যে কথা গত ২ এপ্রিল কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীও গত বছর বিরোধী দলনেতা হিসেবে একই কথা বলেছিলেন।
তবুও নির্বাচনের পর রাজ্যের মুখ্য সচিবের দেওয়া সার্কুলারে স্মার্ট মিটার বাধ্যতামূলক বলে উল্লেখ করে জেলাশাসক ও পুলিশ প্রশাসনকে এ বিষয়ে সাহায্য করতে বলা হয়েছে। অ্যাবেকার নেতৃবৃন্দ বলেন, এই মিটার আইনত বাধ্যতামূলক হতে পারে না এবং বিদ্যুৎ আইনেও স্মার্টমিটার ঐচ্ছিক বলা আছে। দ্বিতীয়ত নতুন স্মার্ট মিটার পোস্টপেইড মোডেই থাকলে বর্তমান চালু পোস্ট পেইড ডিজিটাল মিটার পরিবর্তন করার কোনও যুক্তি নেই, কারণ এই ডিজিটাল মিটারগুলিও এক রকমের স্মার্ট মিটার। সরকার তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করলে দলমত নির্বিশেষে সমস্ত স্তরের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের কাছে অ্যাবেকা আহ্বান জানিয়েছে, এলাকাভিত্তিক স্মার্ট মিটার প্রতিরোধ কমিটি গঠন করে স্মার্ট মিটার প্রতিরোধে রাস্তায় নামুন।
বিষ্ণুপুরে স্মার্টমিটার বিরোধী গ্রাহক সভাঃ ১৪ জুন বিষ্ণুপুর স্টেশন পাড়ায় অ্যাবেকার ডাকে স্মার্ট মিটার বিরোধী গ্রাহক সভা অনুষ্ঠিত হয়। দল মত নির্বিশেষ সর্ব স্তরের গ্রাহকরা বিশিষ্ট নাগরিক, সমাজসেবী ও জেলার দূর-দূরান্ত থেকে প্রান্তিক মানুষের উপস্থিতিতে হলভর্তি সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা সভাপতি অমিয় গোস্বামী। জেলা সম্পাদক স্বপন নাগ বলেন, গ্রাহক আন্দোলনের ফলে স্মার্ট মিটার লাগানো বন্ধ হয়েছে। প্রধান বক্তা অ্যাবেকার সাধারণ সম্পাদক সুব্রত বিশ্বাস কেন স্মার্ট মিটার প্রতিরোধ করতে হবে, গ্রাহকদের সচেতন করতে কী করা জরুরি তা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেন।