
এস ইউ সি আই (কমিউনিস্ট)-এর রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী সদস্য ও প্রাক্তন বিধায়ক তরুণকান্তি নস্কর এবং রাজ্য কমিটির সদস্য ও প্রাক্তন বিধায়ক জয়কৃষ্ণ হালদার গত ২৩ জুন এক বিবৃতিতে বলেন,
আমাদের আশঙ্কা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের নামে রাজ্য সরকার সুন্দরবনে দেশি-বিদেশি পুঁজির কর্ণধারদের, ব্যবসায়ীদের, আমলাদের ও ধনীর দুলালদের আমোদ-প্রমোদ, মনোরঞ্জন ও নৌবিহারের জন্য ভাসমান হোটেল, ভাসমান গ্ল্যাম্পিং, বিশেষ বৈদ্যুতিক জলযান এবং ট্যুরিস্ট লজ খোলার ছাড়পত্র দেবে। এই পর্যটন ব্যবস্থা স্থানীয়দের পরিবর্তে দেশি-বিদেশি কর্পোরেট মালিকের নিয়ন্ত্রণাধীন হবে। সরকার ও বৃহৎ কোম্পানিগুলির রোজগার হয়ত বাড়বে, কিন্তু বিনিময়ে সুন্দরবনের ঐতিহ্যময় প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষিত হবে, ভোগবাদী লালসা ও ব্যাভিচারের সংস্পর্শে স্থানীয় যুবশক্তি বিপথগামী হবে, গরিব পরিবারের মেয়েদের ভোগ্যপণ্যে পরিণত করার অপচেষ্টা হবে, যৌনব্যাধি ছড়াবে এবং সর্বোপরি গ্রামের পরিবেশ ও নৈতিকতার অবশিষ্টাংশ ধ্বংস হয়ে যাবে। অসংখ্য চাষি জমিচ্যুত হবে।
উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই ছোট মাপের হলেও যে পর্যটন ব্যবস্থা চালু আছে তাতেই প্রাকৃতিক পরিবেশের যথেষ্ট ক্ষতি হচ্ছে। কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে তা লোকঠকানো কথা ছাড়া আর কিছু নয়। তাঁরা দাবি করেন–
১) সুন্দরবনের জন্য প্রস্তাবিত ‘ট্যুরিজম মাস্টার প্ল্যান’ জনসমক্ষে প্রকাশ করে স্থানীয় মানুষ, বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবিদদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করতে হবে।
২) সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের নামে নদী, বন, খাঁড়ি ও পর্যটন সম্পদের উপর কোনও কর্পোরেট একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। স্থানীয় মানুষের অংশীদারিত্ব ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
৩) নদীবাঁধ সংস্কার, মৎস্যজীবী ও মৌয়ালদের জীবিকা সুরক্ষা এবং জলবায়ু বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনকে পর্যটন প্রকল্পের আগেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
৪) সুন্দরবনের মধু, মাছ ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণন শিল্প স্থানীয় এলাকায় গড়ে তুলে কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ বাড়াতে হবে।
৫) পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা ভেবে শ্রমনিবিড় শিল্প স্থাপন করতে হবে।