
শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি ও টেট দিয়ে চাকরি বহাল রাখার নির্দেশের নামে শিক্ষকদের মর্যাদা নষ্ট করা এবং স্কুল তুলে দেওয়ার চক্রান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে ২৭-২৮ ডিসেম্বর দক্ষিণ ২৪ পরগণায় জয়নগরের বহড়ু হাইস্কুলে বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির রাজ্য বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
২৭ ডিসেম্বর শিক্ষা ও শিক্ষকদের দাবি সম্বলিত এক দৃপ্ত মিছিল শহর পরিক্রমা করে। প্রকাশ্য সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ডোমজুড় কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক তথা সেভ এডুকেশন কমিটির হাওড়া জেলা সভাপতি বিশ্বরঞ্জন প্রধান, অভ্যর্থনা কমিটির সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষক লক্ষ্মণ চন্দ্র মণ্ডল, সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনন্দ হাণ্ডা, অভ্যর্থনা কমিটির সম্পাদক বিকাশ নস্কর প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি দিলীপ মাইতি।
সর্বনাশা জাতীয় ও রাজ্য শিক্ষানীতি বাতিল, প্রথম শ্রেণি থেকে পাশ-ফেল চালু, কুসংস্কারমুক্ত বিজ্ঞানভিত্তিক সিলেবাস প্রণয়ন, প্রাথমিকে শিক্ষাকর্মী ও শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ, শিশু ও পঞ্চম শ্রেণির জন্য পৃথক পৃথক শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক নিয়োগ, নিয়মিত কম্পোজিট গ্রান্ট প্রদান, স্বচ্ছভাবে শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষাদান ব্যতীত শিক্ষকদের অন্য কোনও কাজে না লাগানোর মতো নানা সমস্যা নিরসন করে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার প্রতি সাধারণ অভিভাবকদের আস্থা ফেরানোর দাবিতে বক্তারা সরব হন। পাশাপাশি প্রাথমিকের ৩২ হাজারের মতো মাধ্যমিকের ২৬ হাজার যোগ্য শিক্ষককে পুনর্বহাল এবং টেট দিয়ে চাকরি বজায় রাখার নীতি বাতিল করে শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষার দাবি করেন।
শেষে হাইকোর্টের ৩২ হাজার শিক্ষককে বহাল এবং সুপ্রিম কোর্টের টেট দিয়ে চাকরি বজায় সংক্রান্ত মামলার বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী অধ্যাপক গৌরাঙ্গ দেবনাথ এবং দেবরঞ্জন দাস।
এক প্রেস বিবৃতিতে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনন্দ হাণ্ডা বলেন, শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষা এবং সরকারি স্কুল তুলে দেওয়ার চক্রান্ত বন্ধ করতে আগামী ১৬ জানুয়ারি থেকে রাজ্যব্যাপী দাবি সপ্তাহ পালন এবং আগামী ১১ মার্চ কলকাতা ও শিলিগুড়িতে বিক্ষোভ আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।