
এসআইআর-এর সময়সীমা এক সপ্তাহ বাড়ানো প্রসঙ্গে এস ইউ সি আই (কমিউনিস্ট)-এর রাজ্য সম্পাদক চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য ৩০ নভেম্বর এক বিবৃতিতে বলেন,
এসআইআর-এর সময়সীমা এক সপ্তাহ বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত আর একবার প্রমাণ করল নির্বাচন কমিশন কতটা অপ্রস্তুত অবস্থায় ও অপরিকল্পিত ভাবে এই কাজ শুরু করেছে। এর আগে কমিশন বারবার নিয়ম বদলের ফরমান জারি করেছে। এত নিম্নমানের পরিকল্পনার কারণে এত জন বিএলও-র প্রাণহানি ও আত্মহননের ঘটনা ঘটল। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিশেষ নিবিড় সংশোধনের জন্য এত জন সাধারণ মানুষেরও জীবনহানি হল। এই অবস্থায় সময়সীমা বৃদ্ধির দ্বারা মূল সমস্যাটির সমাধান হল কি? আমরা আবারও এই জনস্বার্থ বিরোধী এসআইআর বন্ধ করার দাবি করছি।
আমাদের দৃঢ় অভিমত, এসআইআর-এর নামে জনগণের উপর নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির যৌথ আক্রমণ চলছে। বাস্তবে এই আক্রমণের কাজটা তারা ভাগাভাগি করে নিয়েছে। নির্বাচন কমিশন বলছে যারা নাগরিক নয়, তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। আর বিজেপি বলছে, অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ যাবে, তাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হবে এবং দেশছাড়া করা হবে। এই কারণেই জনগণের মধ্যে এসআইআর নিয়ে আতঙ্ক। নানা কারণে যাদের ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই এবং কমিশন নির্ধারিত ডকুমেন্ট নেই, তাদের অনেকেই এই আতঙ্কে আত্মহত্যা করেছে। অল্প সময়ে কাজ সম্পূর্ণ করতে না পারলে কমিশনের শাস্তির নিদান, অপর দিকে দুই শাসকদলের দ্বিমুখী চাপের টানাপোড়েনে বিএলও-দের আত্মহত্যা বা মৃত্যু ঘটে চলেছে। নিষ্ঠুর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক হত্যা ছাড়া এ আর কিছু নয়।
তাছাড়া, এ রাজ্যে এনুমারেশনের সময় কোনও ডকুমেন্ট নেওয়া হচ্ছে না। ফলে এই আশঙ্কা থাকেই যে, খসড়া তালিকায়় ২০২৫-এর তালিকার় বিপুল সংখ্যক নাম থাকবে না। অনেকের আশঙ্কা, এর ফলে ১৬ তারিখে খসড়া তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর আত্মহত্যার সংখ্যা আরও বাড়বে। এমনটা যদি ঘটে, তার দায়ও বিজেপির এবং নির্বাচন কমিশনের। সাত দিন সময় বাড়িয়ে এই সমস্যার সমাধান হবে না। এর পর শুরু হবে দ্বিতীয় দফার হেনস্থা। এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়া সত্তে্বও যাদের নাম খসড়া তালিকায় থাকবে না, তাদের শুনানির জন্য ডাকবে এবং আধার বা অন্য ১১টি ডকুমেন্টের একটি জমা দিতে বলবে। তারপর বাবা, মায়ের জন্মস্থান, জন্ম তারিখের প্রমাণ ইত্যাদি দিতে হবে। সহজেই বোঝা যাচ্ছে, বহু গরিব, আদিবাসী, বিয়ের ফলে স্থানান্তরিত মহিলা, শিক্ষার সুযোগ না পাওয়া মানুষ এসব ডকুমেন্ট দিতে না পারায় নির্বাচন কমিশনের শিকার হবেন। কেন্দ্রের শাসক দলের সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষপূর্ণ পরিকল্পনার ফলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের নাম বাদ দেওয়ারও চেষ্টা হবে। বাস্তবিকই জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা ট্যাক্সের পয়সা খরচ করে ট্যাক্স-দাতা সেই জনগণকেই সরকারি হেনস্থার এমন নজির বিশ্বের কোথাও পাওয়া যাবে না।
এর আগেও এই দেশেই ভোটার তালিকায় ইনটেনসিভ রিভিশন হয়েছে। কিন্তু রিভিশন-পর্বে এমন আতঙ্ক, উদ্বেগ, ভোটারের আত্মহত্যা, বিএলও-দের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেনি। অথচ এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বা কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও উদ্বেগ, অনুভূতি বা দায়বদ্ধতা নেই।
যে প্রক্রিয়ায় এস আই আর হচ্ছে তার ফলে লক্ষ লক্ষ ডি-ভোটার তৈরি হবে। তারা এক জটিল নিরসনহীন সমস্যায় পড়বে, যেমন করে আসামের এনআরসি-র দ্বারা ১৯ লক্ষাধিক মানুষ নাগরিক হিসাবে অস্তিত্বহীনতায় ভুগছেন।