শুল্কযুদ্ধের উলুখাগড়া সাধারণ শ্রমিকরাই

২৯ আগস্ট জাপানে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন বলছেন, ‘সারা বিশ্ব শুধু ভারতের দিকে তাকিয়ে নেই, তাকে সমীহ করে চলে’, ঠিক তখনই গুজরাটের সুরাট, উত্তরপ্রদেশের নয়ডা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাডুর একাধিক জায়গায় ভারতের রপ্তানিযোগ্য সুতি বস্ত্র, জুতো, সামুদ্রিক মাছ, চিংড়ি, দামি পাথর, হীরে ইত্যাদি ক্ষেত্রে উৎপাদন কমার সম্ভাবনায় কাজ হারানোর ভয়ে বহু শ্রমিকের রাতের ঘুম উড়ে গেছে। জৈব রাসায়নিক, অ্যালুমিনিয়াম, স্টেইনলেস স্টিল, তামার ফিনিশড বা সেমি ফিনিশড জিনিসের কারিগররাও শঙ্কিত। ২৭ আগস্ট ভারতীয় পণ্যের ওপর নরেন্দ্র মোদিজির ‘পরম মিত্র’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাহেবের চাপানো বাড়তি ৫০ শতাংশ শুল্ক চালু হয়ে যাবার পর থেকে দেশের, বিশেষত শ্রমনিবিড় উৎপাদনের ক্ষেত্রগুলিতে চিত্রটা এমনই নৈরাশ্যজনক।

কিন্তু কেন? ১৪০ কোটি মানুষের দেশ ভারত। প্রাকৃতিক সম্পদ, খনিজ, বনজ কোনও সম্পদেরই তো অভাব নেই! এ দেশের শ্রমজীবী মানুষের শ্রমশক্তিতেও কিছু কম পড়েনি! তা হলে আমেরিকায় ভারতীয় পণ্য রপ্তানি করতে বেশি শুল্ক লাগবে, মার্কিন বাজারে তার দাম বাড়বে– তাতে ভারতে কেন এত গেল গেল রব? এই শুল্ক চালু হতেই প্রধানমন্ত্রীকে চিনের সাথে বিবাদ মিটিয়ে নেওয়ার বার্তা দিতে ছুটতে হল কেন? চিন-রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানদের সাথে হাসিমুখের ছবি এত প্রচার করত হচ্ছে কেন?

ভারত থেকে আমেরিকায় রপ্তানি হয় মোটামুটি ৮৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য, আমদানি হয় ৪৫.৩৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। পণ্যের দিক থেকে ভারত ৪১.৬৭ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত বাণিজ্য করে থাকে। এ কথা ঠিক বাড়তি ৫০ শতাংশ শুল্ক যোগ হলে সে দেশের বাজারে ভারতীয় পণ্যের দাম প্রচুর বেড়ে যাবে। একমাত্র ব্রাজিল ছাড়া দুনিয়ার কোনও দেশের পণ্যে মার্কিন সরকার এত শুল্ক চাপায়নি। ফলে চিন, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ইত্যাদি দেশ থেকে আমেরিকায় রপ্তানি হওয়া পণ্যের তুলনায় ভারতীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাবে।

তাতে আমেরিকায় ভারতীয় পণ্যের চাহিদা কমবে। এর ধাক্কায় ভারতীয় কোম্পানিগুলো উৎপাদন কমালে বস্ত্র শিল্পে যুক্ত ৪ কোটি, হীরে পরিশোধন ও দামি পাথরের শিল্পে যুক্ত ৫০ লক্ষ, মাছ-চিংড়ি ইত্যাদি ক্ষেত্রে কর্মরত ২৫ লক্ষ মানুষের রুজি-রোজগারে টান পড়ার সম্ভাবনা আছে। একই ভাবে ইস্পাত, যন্ত্রাংশ ইত্যাদি শিল্প ও অন্যান্য ক্ষেত্রেও রপ্তানি কমলে তার প্রভাব শ্রমিকদের কর্মসংস্থানে পড়বেই। ওষুধ ও বৈদ্যুতিন পণ্যে আপাতত এই শুল্ক অবশ্য কার্যকরী হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে তড়িঘড়ি পুঁজিপতিদের জন্য বাজারের খোঁজে চিনের হাত ধরতে সাংহাই কো-অপারেশন অরগানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনে ছুটতে হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে।

বাজার দখলের যুদ্ধের একটি স্তর– শুল্ক যুদ্ধ

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব দেশের সাথেই শুল্ক নিয়ে নানা চুক্তির কথা বলছেন। যদিও পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী বাজারের অনিশ্চয়তা এতটাই বেশি যে এক ইন্দোনেশিয়া আর ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ছাড়া কারও সঙ্গেই চুক্তি সম্পূর্ণ হয়নি। চিনের ক্ষেত্রে অনেক বড় হুমকি দিয়েও তিনি শেষ পর্যন্ত সুর নরম করেছেন। মার্কিন সরকার ভারতের ওপর চাপ দিচ্ছে রাশিয়া থেকে তেল এবং অস্ত্র কেনা কমিয়ে তা মার্কিন কোম্পানি থেকে কিনতে। বিশ্ববাজারের দখল নিয়ে রাশিয়া-চিনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে লড়তে ও মার্কিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গীন দশায় দেশের শিল্পকে চাঙ্গা করতে এটা তাঁর দরকার। শুল্ক যুদ্ধ আসলে সাম্রাজ্যবাদীদের বাজার দখলের চলমান যুদ্ধেরই একটা স্তর। কামান বোমা বন্দুক নিয়ে সরাসরি যুদ্ধে যে খেটে খাওয়া মানুষ মারা যায়, এই যুদ্ধের শিকারও তারাই। ভারতে যেমন ক্ষুদ্র বা মাঝারি অর্থাৎ এমএসএমই কোম্পানিগুলির কম মজুরির চুক্তিভিত্তিক যে শ্রমিকরা রপ্তানি বাজারের ভরসা, তাঁরাই এই শুল্ক যুদ্ধে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একইভাবে মার্কিন বাজারেও এই ধরনের মাঝারি ও ক্ষুদ্র কোম্পানিগুলির পক্ষে উৎপাদনের উপকরণ দামি হয়ে উঠলে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই সমস্যা হবে। সস্তা শ্রমের কারণেই ভারতীয় পণ্যের চাহিদা মার্কিন পুঁজিকর্তাদের কাছে বেশি। তাই নিজের দেশে উৎপাদন না করিয়ে তাঁরা ভারতে অর্ডার দেন।

এদিকে আমেরিকায় বেকারত্বের হার ৪ শতাংশের বেশি, জিনিসের দাম এক বছরে বেড়েছে ১৭ শতাংশ, সরকারি ফুড কুপন ও লঙ্গরের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। অর্থনীতির গতি ধীর হচ্ছে, কাজ সৃষ্টি হচ্ছে কম, তাতে সঠিক মজুরিও মিলছে না। অথচ, মার্কিন একচেটিয়া মালিকদের মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলি সস্তা শ্রম নির্ভর দেশগুলিতে কাজ করিয়ে নিয়ে স্বদেশে ও বিদেশের বাজারে বেচে বিপুল মুনাফা করছে। ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রে চিন আমেরিকার থেকে এগিয়ে। শিল্পদ্রব্য, ইস্পাত, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন ও তার যন্ত্রাংশ ইত্যাদির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে আমেরিকা আমদানি নির্ভর। প্রেসিডেন্ট হিসাবে ট্রাম্পের প্রথম দফার ভোট প্রচারে তাঁর বিরোধীরা বলতেন– ট্রাম্পের নিজের প্রাসাদটিই তো চিনা ইস্পাতে ভর করে দাঁড়িয়ে আছে।

কোথায় গেল গ্যাট-এর মিথ

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প দেশের মানুষকে বুঝিয়েছেন, অভিবাসী, মেক্সিকান, ভারতীয়রাই তোমাদের সব চাকরি খেয়ে নিচ্ছে। আশ্বাস দিয়েছেন– ‘ট্রাম্প এসেছে, এইবার সে সব কিছু কড়া হাতে মোকাবিলা করবেক্স। এই কারণেই তিনি অভিবাসীদের হাতকড়া বেঁধে ফেরত পাঠাচ্ছেন। কখনও কানাডা, গ্রিনল্যান্ড দখল করে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’-এর স্লোগান জোর গলায় তুলছেন। দেশের মানুষকে বোঝাচ্ছেন, অন্য দেশের পণ্যে আমদানি শুল্ক বাড়ালে মার্কিন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের সাময়িক মূল্যবৃদ্ধি ঘটবে ঠিকই, কিন্তু এই কষ্টটা সহ্য করে নিলে আমদানি কমবে। ফলে দেশে কারখানা বাড়বে, কৃষি ক্ষেত্রেও আমদানি কমবে, ফলে তোমরা কাজ পাবে।

এই হল পুঁজিবাদী অর্থনীতির ইঞ্জিন মার্কিন অর্থনীতির হাল। অতি মুনাফার চেষ্টায় অন্য দেশের শ্রমকে সস্তায় খাটিয়ে পুঁজিপতিরা মুনাফা লুটেছে। তাতে মার্কিন জনগণের বেকারত্ব বেড়েছে। এখন শুল্ক চাপিয়ে দেশীয় শিল্পের হাল ফেরানো দূরে থাক নতুন সংকট ডেকে আনছে এই নীতি। যে বিশ্বায়ন, উদারীকরণ পুঁজিবাদী বাজারের সংকট কাটাবে বলে এত প্রচার, তার থেকেই এখন পালাতে চাইছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট! কোথায় গেল ‘গ্যাট’-চুক্তি এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লুইটিও)-র রমরমা? ১৯৯০ থেকে ডব্লুইটিওকে দিয়ে বহুজাতিক পুঁজি মালিকরা অন্য দেশের বাজার লুঠ করতে কত রকম শর্ত চাপিয়েছে। অথচ আমেরিকান সরকার ২০১৯ থেকে এই সংস্থার অ্যাপেলেট বডি তৈরিতেই বাধা দিয়ে চলেছে। বাণিজ্য নিয়ে কোনও বিবাদের মীমাংসার উপায়ই তারা রাখতে চাইছে না। কারণ তীব্র প্রতিযোগিতার বাজারে কোনও নীতি-নিয়মের বালাই থাকলেই মার্কিন পুঁজির সর্বনাশ। এখন চিন, রাশিয়া, জাপান, ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্স, সম্মিলিত ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, ভারত ইত্যাদি দেশ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী বাজারের প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী। এই দেশগুলির বৃহৎ পুঁজির মালিকরা কখনও নিজেদের স্বার্থে নিজ দেশের সরকারকে আমেরিকার সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপনে উৎসাহ দেয়। যেমন ভারতীয় পুঁজিপতিদের নিযুক্ত প্রতিনিধি নরেন্দ্র মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্টদের দেখলেই জড়িয়ে ধরে ঘনিষ্ঠতা বোঝাতে ব্যগ্র হন। অন্যদিকে বাজার দখলের লড়াইতে এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপের বাজারে তাদের পারস্পরিক টক্কর চলে। এরা সকলেই খোলা বাজার অর্থনীতির সমর্থক অন্য দেশের বাজারে ঢোকার সময়। নিজের দেশের বাজারে পাঁচিল তুলে তারা অন্য প্রতিযোগীদের পণ্য এবং বিনিয়োগআটকায়।

যে কথা দিয়ে লেখাটা শুরু হয়েছিল– নরেন্দ্র মোদি জাপানে গিয়ে বিনিয়োগের জন্য গাঁটছড়া বাঁধতে চেয়েছেন। জাপানে ৫০ হাজার ভারতীয়ের কর্মসংস্থানের জন্য উমেদারি করেছেন। এর আগে তিনি ইজরায়েলে, রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে ভারতীয় শ্রমিক পাঠানোর উমেদারিতেও হাত পাকিয়েছেন। ভারতীয় পুঁজিপতিদের সামনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল দেশের আভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদার অভাব। ভারতকে বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি বানিয়ে ফেলার চেষ্টায় মোদিজিরা যতই ছাতি ফোলান, বাস্তবটা অন্য কথা বলে। সরকারি পরিংসখ্যান অনুযায়ী এ দেশের অর্থনীতির বহর বাড়ছে। অথচ ভারতীয় এবং ভারতে লগ্নি হওয়া বিদেশি পুঁজি ক্রমাগত দেশের বাইরে ছুটছে। ২০২৪-২৫-এ ভারত থেকে বিদেশি পুঁজি বাইরে চলে গেছে ৫২ বিলিয়ন ডলার, দেশীয় পুঁজি মালিকরা একই সময়ে ২৯ বিলিয়ন ডলার পুঁজি বিদেশে বিনিয়োগ করেছেন। ভারতে এসেছে মূলত মরিশাস থেকে ঘুরপথে বিনিয়োগ হওয়া পুঁজি। ভারতীয় ধনকুবেরদের পুঁজিও ঘুরপথ ধরে বিদেশি পুঁজির আকার নিয়ে আসে এই রাস্তায়। এই পুঁজির বেশিরভাগই খাটে শেয়ারের ফাটকায়, কোনও উৎপাদনে লাগে না। ফলে অর্থনীতির বহর বাড়লেও উৎপাদনে খরা। ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প এবং অন্যান্য শ্রমনিবিড় শিল্পগুলো ধুঁকছে (ফ্রন্টলাইন, ৩১ মার্চ ২০২৫)। ভারতের মতো বিশাল ও জনবহুল দেশে আভ্যন্তরীণ বাজারে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এতটাই কমে যাচ্ছে যে শুধু রপ্তানি নির্ভর অর্থনীতিতে মুনাফার পূর্ণ চাহিদা পুঁজিমালিকদের মিটছে না। এমতাবস্থায় বিদেশি পুঁজির সাথে গাঁটছড়া বেঁধে ভারতীয় ধনকুবেররা দেশের বাজারে যে বিনিয়োগ করার আশায় ছিল, তার বেশিরভাগটাই অপূর্ণ। সারা দেশের শ্রমশক্তির মাত্র ১১.৫ শতাংশ ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে কাজ করে, বেশিরভাগ শ্রমিকই অত্যন্ত খারাপ পরিবেশ ও পরিকাঠামোর মধ্যে অতি নিম্ন উৎপাদনশীল কাজে নিযুক্ত। ভারত থেকে অ্যাপেল, নোকিয়া, স্যামসাঙ, ওপো ইত্যাদি মোবাইল ফোন অ্যাসেমব্লিং-এর যে কাজ হয়, সেটাই ভারতীয় রপ্তানির বেশ কিছুটা জুড়ে থাকে। তাতে ভারতের আভ্যন্তরীণ চাহিদা কোনও মতেই বাড়ে না (ওই)। এটাই ভারতীয় পুঁজির অন্যতম বড় সংকট।

শ্রমিকের পাশে কোনও সরকার নেই

কিছু নামী দামি বুর্জোয়া অর্থনীতিবিদ আশা দেখিয়েছিলেন, চিন-মার্কিন দ্বন্দ্বে সস্তা শ্রমশক্তির দেশ হিসাবে বিপুল বাজারের সুযোগ পাবে ভারতীয় পুঁজি। যে কারণে আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান এবং ভারত এই চার শক্তির জোট ‘কোয়াড’-এর ওপর জোর দিয়ে মার্কিন সাহায্যে চিনের হাত থেকে এশিয়ার কিছু বাজারের দখল পাওয়ার আশায় ছিল ভারতীয় পুঁজিমালিকরা। কিন্তু চিনের শক্তি, মার্কিন পুঁজির বাজার ছাড়ার অনীহার কারণে তা পূর্ণ হচ্ছে না। ভারতীয় পুঁজিপতিদের স্বার্থে চিন, রাশিয়া, ব্রাজিল ইত্যাদি দেশকে নিয়ে গঠিত ব্রিকসের সদস্য হয়েছে ভারত। রাশিয়া, চিনের জোরে এই গোষ্ঠী এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা, আফ্রিকা, ইউরোপে মার্কিন শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করছে। এমনকি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের বিকল্প মুদ্রা আনারও হুমকি দিয়েছে। এর মোকাবিলা করতে মার্কিন কর্তারা একদিকে শুল্ক যুদ্ধের রাস্তায় নেমেছেন। অন্যদিকে সরাসরি সামরিক কৌশলগত যুদ্ধেরও হুমকি দিচ্ছেন। চাপ সৃষ্টি করতে ভারত-রাশিয়া উভয়কেই মৃত অর্থনীতি বলেছেন ট্রাম্প। তার মোকাবিলায় এসসিও-র মতো জোটের সাহায্য নিয়ে ভারতীয় ধনকুবেরদের জন্য দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় কিছুটা নিঃশ্বাস ফেলার পরিসর বার করতে খোদ প্রধানমন্ত্রী ছুটেছিলেন চিনে। শুল্ক যুদ্ধ শুরু হতে পুঁজি মালিকদের জন্য কিছু সরকারি প্রকল্পের কথা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু কাজ হারানোর আশঙ্কায় ভোগা শ্রমিকদের কথা সরকারের মুখে শোনা যায়নি। দেশটা আসলে কাদের এতেই স্পষ্ট হয়।