Breaking News

শুনানিতে হয়রানি অত্যাচারের পর্যায়ে এসইউসিআই (কমিউনিস্ট)

৮৯ বছরের বৃদ্ধাকে হিয়ারিংয়ের জন্য কাটোয়া ১নং ব্লকের বিডিও অফিসে হাজির করা হয়।

দলের পশ্চিবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য ২৯ ডিসেম্বর এক বিবৃতিতে বলেন, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে ২৭ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনে বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন এবং ১৭ ডিসেম্বর দেওয়া স্মারকলিপিতে আমাদের দলের তরফ থেকে সাধারণ মানুষের হয়রানির যে আশঙ্কা সিইও-র কাছে আগেই ব্যক্ত করা হয়েছিল, আজ তার বাস্তব রূপ প্রত্যক্ষ করছি। শুনানির নামে সাধারণ মানুষের হয়রানি আজ নির্মম অত্যাচারের পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রবল ঠাণ্ডায় অসুস্থ নবতিপর বৃদ্ধকে অ্যাম্বুলেন্সে আসতে হচ্ছে শুনানি কেন্দ্রে, সন্তানের কাঁধে ভর দিয়ে পক্ষাঘাতগ্রস্তকে সিঁড়ি ভেঙে উঠতে হচ্ছে দোতলায়। অথচ তাঁদের শুনানি বাড়িতে হওয়ার কথা। কমিশনের এমন নির্দেশ না পেয়ে কোনও কোনও জেলা প্রশাসন সে ব্যবস্থা করেনি। এমনকি প্রসূতি মহিলাকেও হাজিরা দিতে হচ্ছে। পরিযায়ী শ্রমিককে ভিন রাজ্য থেকে এবং দিনমজুরদের রোজ বন্ধ করে ছুটে যেতে হচ্ছে শুনানি কেন্দ্রে। এমনকি নাগরিকত্ব হারানোর দুশ্চিন্তায় কেউ কেউ প্লেনের টিকিটও কাটতে বাধ্য হচ্ছেন। আতান্তরে পড়েছেন মৎস্যজীবীরা– যারা চলে গেছেন গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে কয়েক সপ্তাহের জন্য। তাঁদের আগে জানানো হয়নি। তাঁরা কেমন করে ফিরবেন নির্দিষ্ট সময়ের আগে? প্রযুক্তির ত্রুটির জন্য যাঁদের ম্যাপিং হয়নি, আন-ম্যাপড রয়ে গেলেন, তাঁদের দায় কে নেবে? কিন্তু বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরা নির্বাচন কমিশনকে তাদের শাখা সংগঠনের মতো ব্যবহার করে যে আস্ফালন করছে, তা মতুয়া সম্প্রদায় সহ সংশ্লিষ্ট সব স্তরের মানুষের মধ্যেই আতঙ্ককে বহুগুণ বৃদ্ধি করছে।

কাজের চাপে ও শাস্তির ভয়ে আতঙ্কিত বিএলও-রা একের পর এক আত্মহত্যা করছেন। এনুমারেশন পর্বে এবং শুনানি পর্বে বিএলও-দের মৃত্যু ও আত্মহত্যার জন্য এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন ন্যূনতম দায়স্বীকার পর্যন্ত করেনি। পরিবর্তে নির্বাচন কমিশনের নিষ্ঠুর আস্ফালন– বিএলও-দের ভুল হলে শাস্তি পেতে হবে। এ সবই আমাদের অত্যন্ত বিস্মিত করছে।

অন্য দিকে সিইও পেয়েছেন ওয়াই নিরাপত্তা, কিন্তু মানুষের ভবিষ্যৎ দেখার জন্য কেউ নেই। মানুষের ট্যাক্সের টাকায় চলা একটি সাংবিধানিক সংস্থা, শাসক দলের নির্দেশে এবং নির্লজ্জ ভাবে শাসকের হয়ে কাজ করলে যা হয় তাই ঘটছে। আমরা নির্বাচন কমিশনের এই তুঘলকি কাণ্ডে মানুষের হয়রানি ও মারণখেলা বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছি।