রাজপথে হাজার হাজার আশাকর্মী মুখ্যমন্ত্রীকে ডেপুটেশন

২২ আগস্ট এআইইউটিইউসি অনুমোদিত পশ্চিমবঙ্গ আশাকর্মী ইউনিয়ন এবং পশ্চিমবঙ্গ পৌর স্বাস্থ্যকর্মী (কন্ট্রাকচুয়াল) ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে পাহাড় থেকে সুন্দরবন– রাজ্যের সমস্ত জেলার পৌরসভা ও গ্রাম থেকে প্রায় ৪০ হাজার আশাকর্মী কলকাতার রাসবিহারী মোড় থেকে কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে ডেপুটেশনে শামিল হন। কয়েক দিনের প্রবল প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা পাহাড়ের ধস আটকাতে পারেনি আশাকর্মীদের কলকাতা অভিযান। হাওড়া, শিয়ালদা, কলকাতা স্টেশন, টালিগঞ্জ স্টেশন, মেট্র‌ো রেল দিনভর আশাকর্মীদের দখলে ছিল।

ন্যাশনাল হেলথ মিশনের অধীন আশা প্রকল্প একটি কেন্দ্রীয় প্রকল্প। কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্পে বরাদ্দ ক্রমাগত কমিয়েছে। রাজ্য সরকার দর হেঁকে হেঁকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে অনুদান, ভর্তুকি দিয়ে চলেছে। অথচ রাজ্যের গ্রাম-শহরে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য পরিষেবা দিলেও আশাকর্মীদের ক্ষেত্রে তারা উদাসীন। মুখ্যমন্ত্রী আশাকর্মীদের অনেক প্রশংসা করেন অথচ রাজ্য সরকারের ঘোষিত ন্যূনতম মজুরিটুকু দেওয়ার কথা ভাবতে পারেন না।

আশাকর্মীদের সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীর স্বীকৃতি দিয়ে বছরে ৩ শতাংশ হারে ভাতা বৃদ্ধি, কর্মরত অবস্থায় মৃত আশাকর্মীর পরিবারকে তিন লক্ষ টাকা সাহায্য, সাপ্তাহিক ছুটি, সরকারি ছুটি, মাতৃত্বকালীন ছুটি সহ বিভিন্ন দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে এ দিন দাবিপত্র পেশ করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী দেখা করতে না চাইলে আশাকর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা রাসবিহারী মোড় থেকে কালীঘাটের দিকে এগোতে চাইলে পুলিশ পথ আটকায়। কর্মীরা ওইখানেই বসে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান। মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব দেখা করতে চাইলে ৫ জনের প্রতিনিধিদল তাঁর হাতে দাবিপত্র তুলে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের দাবি জানান। তিনি এক মাসের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের আশ্বাস দেন।

পশ্চিমবঙ্গ আশাকর্মী ইউনিয়নের রাজ্য সম্পাদক ইসমত আরা খাতুন বলেন, এই বৈঠক এবং আশাকর্মীদের দাবি শোনা যদি না হয় তবে আগামী দিনে কর্মীরা কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হবেন। সভায় বক্তব্য রাখেন এআইইউটিইউসি রাজ্য সম্পাদক কমরেড অশোক দাস, স্কিম ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের উপদেষ্টা এবং এআইইউটিইউসি ভাইস প্রেসিডেন্ট কমরেড নন্দ পাত্র, পশ্চিমবঙ্গ পৌর স্বাস্থ্যকর্মী কন্ট্রাকচুয়াল ইউনিয়নের রাজ্য যুগ্ম সম্পাদিকা কেকা পাল ও পৌলমী করঞ্জাই এবং বিভিন্ন জেলার আশাকর্মী নেতৃবৃন্দ। আশাকর্মী ইউনিয়নের সভাপতি কৃষ্ণা প্রধান ও পশ্চিমবঙ্গ পৌর স্বাস্থ্যকর্মী (কন্ট্রাকচুয়াল) ইউনিয়নের সভাপতি রুণা পুরকাইত উপস্থিত ছিলেন।