Breaking News

যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার তীব্র বিরোধিতা এসইউসিআই(সি)-র, ২ মার্চ বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন

বহরমপুর

নির্বাচন কমিশন এসআইআর-এর পর যে তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে ইতিমধ্যে বাদ পড়া ৫৮ লক্ষ ২০ হাজারের পর আরও প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে এবং ৬০ লক্ষেরও বেশি মানুষ সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত বিচারকদের বিচারাধীন রয়েছে। সংবাদে প্রকাশ, এই ৬০ লক্ষকে ‘সন্দেহভাজন বিদেশি’ (ডাউটফুল ফরেনার্স) দেখানোর ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে (সংবাদ, ১ মার্চ, আনন্দবাজার পত্রিকা)।

এই ৬০ লক্ষের মধ্যে অনেককে একাধিক বার শুনানিতে ডাকা হয়েছে এবং নথিপত্র জমা দেওয়ার পরও তাঁদের নাম মূল তালিকাভুক্ত হয়নি। এসইউসিআই(কমিউনিস্ট)-এর রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, জয়নগরের প্রাক্তন সাংসদ ডাঃ তরুণ মণ্ডল, যিনি সংসদীয় কমিটিরও সদস্য ছিলেন, তিনি এবং তাঁর স্ত্রী শুনানিতে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া সত্তে্বও তাঁদের নাম বিচারাধীনে রাখা হয়েছে। নানা স্তরের এমন বহু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির নামও একই রকম ভাবে বিচারাধীনে রাখা হয়েছে, যা নির্বাচন কমিশনের অপদার্থতারই নজির। এই অবস্থায় হাজার হাজার সাধারণ মানুষ যাঁদের নাম বিচারাধীনে রাখা হয়েছে, তাঁরা চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। এমন অনিশ্চয়তা সহ আরও নানা কারণে ইতিমধ্যেই এসআইআর-এর জন্য প্রায় এক শত প্রাণের বলি হয়েছে। এস ইউ সি আই (সি)-র পক্ষ থেকে আগেও দাবি করা হয়েছে যে, এসআইআর-এর কারণে যেন কোনও উপযুক্ত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ না যায়। অথচ বাস্তবে তাই ঘটল। এই সমস্ত নাগরিক আদৌ ভোট দিতে পারবেন কি না, তা কারও জানা নেই। দলের রাজ্য সম্পাদক চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য কমিশনের এই চরম অগণতান্ত্রিক আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রত্যেক নাগরিকের নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত করার দাবিতে আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তালিকা প্রকাশের পর মুখ্য নির্বাচনী অফিসার মনোজ আগরওয়াল বলেছেন, ‘এত বড় প্রক্রিয়ায় কিছু ভুলভ্রান্তি হতে পারে’। কিন্তু কমিশনের ভুলের জন্য নাগরিকরা তাঁদের ভোটাধিকার হারাবেন কেন? এত তাড়াহুড়ো করে কাজটি করার কি আদৌ কোনও দরকার ছিল? কমিশনের ‘সামান্য’ ভুলের জন্য কারও নাগরিকত্ব চলে গেলে মোদি সরকার তাঁকে বিদেশি বলে চালান করলে তার দায় কে নেবে?

কোচবিহার

তা ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নিযুক্ত ৫০১ জন বিচারক কমিশনের বেঁধে দেওয়া নথির বাইরে নাগরিকদের হাতে থাকা বহু ধরনের বৈধ নথির গুরুত্ব না দেওয়ার মধ্যেই রয়েছে নাম বাতিলের অভিসন্ধি। এর বিচার কে করবে? কমিশনের এই ভূমিকার বিরুদ্ধে ২৮ ফেব্রুয়ারি তালিকা প্রকাশের দিনই এস ইউ সি আই (কমিউনিস্ট)-এর উদ্যোগে জেলায় জেলায় বিক্ষোভ হয়েছে। তাতে বহু মানুষ শামিল হন। ২ মার্চ দলের রাজ্য কমিটির উদ্যোগে দুপুর ২টায় মুখ্য নির্বাচনী অফিসারের দফতরে বিক্ষোভ দেখানো হয় ও ডেপুটেশন দেওয়া হয়।

গণদাবী ৭৮ বর্ষ ৩০ সংখ্যা ৬ মার্চ ২০২৬