
‘‘একটি মহান বিপ্লবকে পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজন একটি মহান পার্টির এবং অসংখ্য প্রথম শ্রেণির কর্মীর। যদি বিপ্লবের নেতৃত্বে থাকে একটি ক্ষুদ্র ও সংকীর্ণ গ্রুপ, এবং যদি পার্টি-নেতারা ও কর্মীরা হন সংকীর্ণমনা, অদূরদর্শী ও অযোগ্য তা হলে ৪৫ কোটি লোকের চিনের ইতিহাসে অভূতপূর্ব এই বিরাট বিপ্লবকে সার্থক করে তোলা অসম্ভব। দীর্ঘদিন ধরেই চিনা কমিউনিস্ট পার্টি একটি বড় পার্টি, এবং প্রতিক্রিয়ার যুগে বিরাট ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও এখনও এটি একটি বড় পার্টি। এ পার্টির অনেক ভাল ভাল নেতা এবং কর্মী আছে, কিন্তু তবুও তা যথেষ্ট নয়। আমাদের পার্টি সংগঠনকে সমগ্র দেশব্যাপী বিস্তৃত করতেই হবে এবং উদ্দেশ্যসাধনের লক্ষ্য নিয়ে হাজারে হাজারে কর্মী এবং প্রথম শ্রেণির নেতাকে শিক্ষিত করে তুলতে হবে। তাঁদের অবশ্যই মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদে সুশিক্ষিত, রাজনৈতিক ভাবে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন, কাজে উপযুক্ত, আত্মত্যাগে পরিপূর্ণ ভাবে উদ্বুদ্ধ, নিজে নিজেই সমস্যার মোকাবিলায় সমর্থ, বিপদে ধীর ও স্থির, এবং দেশ, শ্রেণি ও পার্টির কাজে অনুরক্ত ও আসক্ত হতে হবে। সাধারণ সদস্য ও জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার কাজে পার্টি এই ধরনের কর্মী ও নেতাদের ওপরেই ভরসা করে এবং জনগণের ওপর তাদের সুদৃঢ় নেতৃত্বের ওপর ভরসা করেই পার্টি শত্রুকে পরাজিত করতে পারে। এ সব কর্মী এবং নেতাদের অবশ্যই স্বার্থপরতা, ব্যক্তিকেন্দ্রিক বীরপনা, হামবড়া ভাব, কুঁড়েমি, নিষ্ক্রিয়তা এবং সংকীর্ণমনা ঔদ্ধত্য থেকে মুক্ত থাকতে হবে এবং তাঁদের অবশ্যই নিঃস্বার্থ ভাবে জাতীয় ও শ্রেণি-নায়ক হতে হবে।
আমাদের পার্টির সদস্য, কর্মী এবং নেতাদের কাছে এ রকম গুণ ও কাজের পদ্ধতিই পার্টি দাবি করে। যে শত শত প্রথম শ্রেণির নেতা, লক্ষ লক্ষ সদস্য এবং হাজারে হাজারে কর্মী আমাদের আদর্শের জন্য প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন তাঁরা আমাদের জন্য এই চেতনাগত উত্তরাধিকার রেখে গিয়েছেন। নিঃসন্দেহে এ সমস্ত গুণ আমাদের অর্জন করা প্রয়োজন। নতুন ভাবে যাতে আমরা নিজেদের গড়ে তুলতে পারি তার জন্য আমাদের আরও ভাল ভাবে কাজ করা দরকার এবং নিজেদের বৈপ্লবিক মানকে আরও উন্নীত করা দরকার। এটাও কিন্তু যথেষ্ট নয়। পার্টি ও দেশের মধ্য থেকে অনেক নতুন নতুন কর্মী ও নেতা আবিষ্কার করা আমাদের একটা অবশ্যকর্তব্য হিসেবে মনে রাখতে হবে। আমাদের বিপ্লব নির্ভর করে কর্মীদের ওপর। যেমন স্ট্যালিন বলেছেন, ‘কর্মীরাই সবকিছু নির্ধারণ করে’।’’ (৭ মে, ১৯৩৭-এ প্রদত্ত ভাষণ)