
পশ্চিমবঙ্গে ৬৩ লক্ষ মানুষকে বিবেচনাধীন বলে দাগিয়ে দিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। খসড়া তালিকা থেকে যে ৫ লক্ষের বেশি মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে তাঁদের একটা বড় অংশই বৈধ ভোটার। এ ভাবে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে সারা রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ দেখায় এসইউসিআই(সি)। ২ মার্চ দলের পক্ষ থেকে কলকাতায় সিইও দপ্তরের সামনে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড দেবাশিস রায়, রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড তরুণকান্তি নস্কর ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বিক্ষোভ সভার পক্ষ থেকে সিইও দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়ে দাবি জানানো হয়– কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ দিয়ে নির্বাচন করা যাবে না। সমস্ত জেলার জেলাশাসক, এসডিও, বিডিও দপ্তরেও বিক্ষোভ হয়।
বিবেচনাধীন ভোটারদের সমস্যা সংক্রান্ত বিষয়ে এস ইউ সি আই (কমিউনিস্ট) দলের রাজ্য সম্পাদক কমরেড চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য ৪ মার্চ এক বিবৃতিতে বলেন, ৬৩ লক্ষ নাম ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় আছে, যাঁদের সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচন ঘোষণার মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট নিয়োজিত বিচারকরা নিতে পারবেন কিনা তা নিশ্চিত নয়। বিচারকেরা যে তৎপরতায় কাজ করছেন তাতে আশঙ্কা বহু লক্ষ মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন, যা কোনও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বাঞ্ছিত হতে পারে না। আমাদের দাবি, ভোট ঘোষণার আগেই সুচারুভাবে বিচারকদের বিচার সম্পূর্ণ করে তাঁদের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া ২০০২ ও ২০২৫ উভয় তালিকায় নাম থাকা অনেক ভোটারের নামের উপর ‘ডিলিটেড’ স্ট্যাম্প লাগানো হয়েছে– তাঁদের তালিকাভুক্ত করতে হবে। আমাদের আরও দাবি, মতুয়া সম্প্রদায়ের যে হাজার হাজার মানুষের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে যাঁদের নাম ২০২৫-র তালিকায় ছিল তাঁদের ভোট দেওয়ার অধিকার দিতে হবে।
এ ছাড়া ওই সম্প্রদায়ের যাঁরা ৬নং ফর্ম পূরণ করে তালিকায় যুক্ত হওয়ার বয়সে পৌঁছেছেন তাঁদের ওই ফর্ম পূরণ করার সুযোগ দিতে হবে।
