Breaking News

ভুবনেশ্বরে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ

ধর্ষক-খুনিদের শাস্তি সহ ১৭ দফা দাবিতে ভুবনেশ্বরে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ। বক্তব্য রাখছেন রাজ্য সম্পাদক কমরেড শঙ্কর দাশগুপ্ত। ২৫ নভেম্বর

জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ১৭টি দাবি নিয়ে ওড়িশা রাজ্য জুড়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে এস ইউ সি আই (সি) ওড়িশা রাজ্য কমিটি। ৯-১৫ নভেম্বর প্রতিবাদ সপ্তাহ পালনের পর ২৫ নভেম্বর রাজধানী ভুবনেশ্বরে সেক্রেটারিয়েটের সামনে বিশাল বিক্ষোভ মিছিলে সামিল হলেন রাজ্যের ৩০টি জেলা থেকে আগত ২৫ হাজারের বেশি মানুষ। সংগঠিত-অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র, মহিলা সহ অসংখ্য সাধারণ মানুষ এই ডাকে সাড়া দিয়ে এসেছিলেন বিক্ষোভে যোগ দিতে।

দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ওড়িশা রাজ্য সম্পাদক কমরেড শঙ্কর দাশগুপ্ত, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড দ্বারিকা রথ বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন দলের রাজ্য নেতৃবৃন্দ। সভাপতিত্ব করেন কমরেড স্বয়ংপ্রভা নায়েক। বক্তারা রাজ্যের বিজেপি সরকারের জনবিরোধী নীতিগুলির তীব্র সমালোচনা করেন।

৫ জনের প্রতিনিধিদল রাজ্য সরকারের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন। দাবি ছিল– শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ সর্বত্র নারী নির্যাতন, ধর্ষণ রুখতে ব্যবস্থা নিতে হবে। সৌম্যশ্রী ও বালাঙ্গার বালিকা ওপর নির্যাতনের ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। ড্রাগ-মাদক-মদ নিষিদ্ধ করতে হবে। সমাজমাধ্যম ও অন্যত্র যৌন বিকৃতি ও অপরাধমূলক মানসিকতা বিস্তারের মতো বিষয়কে নিষিদ্ধ করতে হবে। এসআইআর-এর আড়ালে এনআরসি করা চলবে না। বন্ধ ওড়িয়া মাধ্যম স্কুলগুলি খোলার ব্যবস্থা করতে হবে। স্থায়ী শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করতে হবে, শূন্যপদ পূরণ করতে হবে। শিক্ষার বেসরকারিকরণ, ফি বাড়ানো বন্ধ করতে হবে। লক্ষ লক্ষ সরকারি শূন্য পদে বেকার যুবদের নিয়োগ করতে হবে।

এনরেগায় বছরে ৩৬৫ দিনই কাজের বন্দোবস্ত করতে হবে এবং এই স্কিমে সমস্ত দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। বেকারদের জীবনধারণের উপযুক্ত কাজ দিতে হবে অথবা বেকার ভাতা দিতে হবে। খনি ও শিল্পের নাম করে পুঁজিপতিদের উন্নতির জন্য মানুষকে ঘরবাড়ি-কৃষিজমি থেকে উচ্ছেদ করা চলবে না। পতিত জমিতে শ্রমনিবিড় শিল্প গড়তে হবে। বনাঞ্চল সংশোধনী আইন ২০২৩ বাতিল করে সমস্ত আদিবাসী, চিরাচরিত বনবাসী এবং ভূমিহীনদের জমির আইনসিদ্ধ অধিকার দিতে হবে। কৃষি ফসলের এমএসপি-র আইনি গ্যারান্টি দিতে হবে, ভাগচাষির থেকে সরাসরি সরকারকে ফসল কিনতে হবে। ক্যাজুয়াল ও কন্ট্রাকচুয়াল কর্মীদের স্থায়ী করতে হবে। পুনর্বাসন না দিয়ে বস্তি উচ্ছেদ চলবে না। জল ও জলের উৎসগুলির বেসরকারিকরণ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

বন্য জন্তুর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। মূল্যবৃদ্ধি রদ করতে হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যে জিএসটি বাতিল করতে হবে।