
দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ বুলগেরিয়ায় রিপাবলিকান সরকার ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত বাজেটে কর বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে। সরকার রুটি ও রেস্টুরেন্টের মতো পরিষেবার উপর ২০ শতাংশ ভ্যাট বসিয়েছে। উল্টো দিকে ঠিকাদারদের জন্য ৮০ শতাংশ ট্যাক্স ছাড় দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং অর্থনীতিবিদরা প্রস্তাবিত বাজেটের বিরোধিতা করলেও সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় জোট সরকার এটি পাশ করিয়ে নিয়েছে। এর ফলে শ্রমজীবী মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর ট্যাক্সের বোঝা অতিরিক্ত হারে বাড়তে চলেছে। এতে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে ঋণের বোঝা চাপবে আরও।
সরকারের এই জনবিরোধী নীতির প্রতিবাদে ২৬ নভেম্বর হাজার হাজার মানুষ বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ার রাস্তায় নেমে প্রবল বিক্ষোভ দেখান। ট্যাক্স বৃদ্ধির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। সামাজিক নিরাপত্তা বিমার পরিমাণ বৃদ্ধিরও প্রতিবাদ জানানো হয়।
‘উই কনটিনিউ দ্য চেঞ্জ’ এবং ‘ডেমোক্রেটিক বুলগেরিয়া’ জোটের ডাকা এই প্রতিবাদ মিছিলে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ জড়ো হন। সংসদের চারদিকে মানববন্ধন করে অবরোধ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। তাঁরা জলের বোতল, বাজি ছুঁড়তে শুরু করেন প্রশাসনিক কর্তাদের দিকে। ব্যাপক পুলিশ নামিয়ে তা দমনের চেষ্টা করে রোজেন জেলিয়াকভ সরকার। নতুন বছরের শুরুতে যখন এই বলকান দেশটি ইউরোজোনে (ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলির একটি মুদ্রা-অঞ্চল, যারা তাদের প্রধান মুদ্রা হিসেবে ইউরো গ্রহণ করেছে) প্রবেশ করতে চলেছে, ঠিক তখনই এই বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে।
অবশেষে সরকার বাধ্য হয়েছে জনবিরোধী এই বাজেট প্রত্যাহার করতে।
(সূত্রঃ দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, বাংলাদেশ পোস্টঃ ২৭ নভেম্বর, ‘২৫)