
এস ইউ সি আই (সি)-র সাধারণ সম্পাদক কমরেড প্রভাস ঘোষ ১৩ ডিসেম্বর এক বিবৃতিতে বলেন, এক টানা বেসরকারিকরণের লাইন অনুসরণ করে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ভারতের বিমা কোম্পানিগুলির বেসরকারিকরণের দরজাও হাট করে খুলে দিল। সরকারি সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী এলআইসি (যার তহবিলের পরিমাণ ৩৪ লক্ষ কোটির টাকাও বেশি) সহ সমগ্র বিমা ব্যবসাতে ১০০ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগের ব্যবস্থা করে দিল। সরকারের দাবি, এর ফলে বিমাকারীদের বিমা শেষে টাকা ফেরত পাওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। বহু ধরনের বিমার মধ্যে বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন ক্রেতারা। ডিজিটাল ব্যবস্থা উন্নত হবে। দামের ক্ষেত্রেও প্রতিযোগিতার ভূমিকা বাড়বে। নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে। যদিও কী ভাবে তা হবে, কোনওটির ক্ষেত্রেই তার কোনও ব্যাখ্যা সরকার দেয়নি। বরং আমরা মনে করি এই সিদ্ধান্তে বেসরকারি কোম্পানিগুলির সর্বোচ্চ মুনাফা লাভের উদ্দেশ্য পূরণ করতে প্রিমিয়ামের অঙ্ক আরও বাড়বে। কোম্পানিগুলো শহর অঞ্চলে জোর দেবে বেশি এবং শেষ পর্যন্ত বাজারে কিছু বৃহৎ কোম্পানির কব্জা কায়েম করে স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রকে সংকুচিত করে দেবে। ফলশ্রুতিতে প্রিমিয়ামের পরিমাণ বাড়বে। এ কথা পরিষ্কার যে, আমেরিকা, জার্মানি, ব্রিটেন– এই সব দেশের বিরাট বিরাট মাল্টি-ন্যাশনাল বিমা কোম্পানিকে মুনাফার লোভ দেখিয়ে এ দেশে আনার জন্য সরকার এই ব্যবস্থা নিয়েছে।
উল্লেখ্য, আমেরিকার মতো দেশে যেখানে বিমা শিল্পে প্রতিযোগিতা যথেষ্ট সেখানে বিমা কোম্পানিগুলো নানা রকম কূটকৌশল এবং অনৈতিক পথ অবলম্বন করে বিমাকারীদের প্রাপ্য দাবি অস্বীকার করে, দাবি মেটাতে দেরি করে মুনাফার অঙ্ক বাড়ায়। সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলিতে প্রতি বছর বড় বড় বিমা বহু কোম্পানি দেউলিয়া ঘোষিত হয়।
এই কারণেই আমরা ভারতের এই জনবিরোধী বহুজাতিক কোম্পানির স্বার্থরক্ষাকারী সরকারি পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করছি। বিমা সহ সমস্ত শিল্পের সাথে যুক্ত শ্রমজীবী জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বেসরকারিকরণের ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলবার আহ্বান জানাচ্ছি।