Breaking News

বাস্তব পরিস্থিতির পর্যালোচনা থেকেই আমাদের অগ্রসর হওয়া প্রয়োজন—মাও সে তুং

… বাস্তব পরিস্থিতির অনুসন্ধানের ও অধ্যয়নের পরিবেশের অভাব আমাদের রয়ে গেছে। চোখ-বাঁধা একজন মানুষের চড়ুই পাখি ধরা’র মতো। অথবা একজন অন্ধের হাতড়ে হাতড়ে মাছ ধরা’র মতো আচরণ করা, গোঁয়ারের মতো ও অসতর্ক হয়ে কাজ করা, বাগাড়ম্বরকে প্রশ্রয় দেওয়া, আধ খেঁচেড়া জ্ঞান নিয়েই সন্তুষ্ট হয়ে বসে থাকা– এই সবই আমাদের পার্টির অনেক কমরেডের মধ্যে এখনও বর্তমান। অত্যন্ত নিকৃষ্ট কাজের সেই ধারা যা মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদের মূল শিক্ষার সম্পূর্ণ বিরোধী। মার্ক্স, এঙ্গেলস, লেনিন ও স্ট্যালিন আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন যে, নিষ্ঠার সঙ্গে বাস্তব অবস্থার অধ্যয়ন করা প্রয়োজন এবং আত্মগত খেয়ালখুশি থেকে নয়, বাস্তব পরিস্থিতির পর্যালোচনা থেকেই অগ্রসর হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের অনেক কমরেড এই সত্যকে সোজাসুজি লংঘন করেই কাজ করে থাকেন।…

আন্তর্জাতিক বৈপ্লবিক অভিজ্ঞতা বা মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদের বিশ্বজনীন সত্যের অধ্যয়নের কথাই ধরা যাক। অনেক কমরেডকেই দেখা যায় মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদের যে অধ্যয়ন তাঁরা করেছেন তা বৈপ্লবিক প্রয়োগের প্রয়োজন চরিতার্থ করার জন্য নয়, শুধু অধ্যয়নের জন্যই সে অধ্যয়ন তাঁরা করছেন। ফলে অধ্যয়ন যদিও তাঁরা করেন, তাকে হজম করতে তাঁরা পারেন না। একপেশে ভাবে মার্ক্স, এঙ্গেলস, লেনিন, স্ট্যালিন থেকে বিভিন্ন উদ্ধৃতিই তাঁরা শুধু হাজির করেন।

কিন্তু মার্ক্স, এঙ্গেলস, লেনিন ও স্ট্যালিনের অবস্থান, দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মপদ্ধতিকে চিনের বর্তমান পরিস্থিতি ও তার ইতিহাসের বস্তুনিষ্ঠ অধ্যয়নের ক্ষেত্রে বা চিন বিপ্লবের সমস্যার বাস্তব বিশ্লেষণ ও সমাধানের ক্ষেত্রে তাঁরা প্রয়োগ করতে পারেন না। মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদের প্রতি এ ধরনের মনোভাব বিশেষ করে মাঝারি ও উচ্চতর স্তরের কর্মীদের পক্ষে প্রচুর ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আমাদের শিক্ষার সংস্কার সাধন, মে ১৯৪১, (নির্বাচিত রচনাবলি, তৃতীয় খণ্ড)