
১৪ নভেম্বর বিহার রাজ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হল এবং ফলাফল ঘোষিত হল। বিজেপি ও জেডিইউ জোট আবার ক্ষমতায় ফিরে এল। এ বারের ভোটে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল ক্ষমতাসীন জোটের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা। ২০৬টি আসন নিয়ে এনডিএ জোট শুধু ক্ষমতায় এল তাই নয়, বিজেপি একাই পেল ৮৯টি আসন। বিরোধী পক্ষের প্রধান মুখ তেজস্বী যাদব প্রায় টানটান লড়াইয়ে জিতলেন। ফলাফল এক কথায় বিরোধী দল পুরো হোয়াইটওয়াশ।
এই ফলাফলে দুটো কথা উঠে আসছে– এক, বিজেপি এখনও এতটাই জনপ্রিয় যে ওদেরই জেতার কথা। দুই, পুরো ভোটটা ইভিএম কারচুপি করে হয়েছে। কিন্তু আরেকটা চিন্তা কি আমরা মাথা থেকে বার করে দিচ্ছি? আমাদের ভেবে দেখতে হবে যে ভোটের আগে বিহারে প্রত্যেক মহিলার অ্যাকাউন্টে ১০,০০০ টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল– অর্থাৎ প্রত্যেক মহিলা ভোটার ১০,০০০ টাকা করে ভোটের ঠিক আগে আগে অ্যাকাউন্টে পেয়ে গেছেন। কিছু বছর পিছিয়ে এলে দেখা যাবে মহারাষ্ট্রেও ঠিক একই ভাবে ভোটের সময় ‘লাড়কি বহিন’ যোজনা চালু করে বিজেপি ঠিক একই ভাবে সমাজকল্যাণমূলক কাজের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ভোট কিনেছিল। আরও পিছনে গেলে পৌঁছে যাব এ রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে। এ সবই হল সমাজকল্যাণের নামে টাকা দিয়ে ভোট কেনার কৌশল।
২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ৫০০ থেকে ১০০০ এবং ১২০০ (তফসিলি ও অনগ্রসর জাতির জন্য) টাকা করে দেওয়া হল। তা হলে আমরা কি এটা বলতে পারি না যে আসলে সমাজকল্যাণ বলে কিছু নেই? ভোট আসলে একটা বিশাল বিনিয়োগ, তা না হলে মোদির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে আম্বানি, আদানি, টাটার মতো শিল্পপতিরা বসে থাকেন? একজন মন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পরের দিন শেয়ার বাজারে শেয়ারের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে যাচ্ছে, বিদেশের ব্যবসায়ীরা আনন্দে গদগদ হয়ে মন্ত্রীকে সংবর্ধনা দিচ্ছে– এই ছবিগুলো দেখলে আমাদের মনে হওয়া উচিত নয় কি যে, ভোটের সঙ্গে এই সব ব্যবসায়ীদের সম্পর্ক আছে? সম্পর্ক এটাই যে ভোট হল তাদের পছন্দ মতো সরকার তৈরির একটা বিশাল বড় রাস্তা।
মানুষ বিজেপি বা মোদি শাসন সম্পর্কে যতই সমালোচনা করুক না কেন, যে তাদের হাতে বেশি টাকা দেবে, ভোট তারাই পাবে। ক্ষমতাসীন পার্টি সরকারি প্রকল্পের নামে টাকা ছড়ায়! বোঝা যাচ্ছে ভোট এখন শুধু রিগিংয়ের উপর নির্ভরশীল নয়। ভোট এখন চাওয়া নয়, কেনা হয়। তাই কাজ হওয়া দরকার ভোটে কে জয়ী হল তাই নিয়ে বেশি মাথা না ঘামিয়ে, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সেই নির্বাচিত সরকারকে কাজ করতে বাধ্য করা। কারণ সমস্যা ভোট দিয়ে যায় না, যায় একমাত্র আন্দোলনে।
শীর্ষ দাশগুপ্ত, কলকাতা-৮৪