
নেসেসিটির যথার্থ স্বরূপ উপলব্ধি করতে পারা এবং পেরে সচেতনভাবে সেই অনুযায়ী ক্রিয়া করতে পারার নামই ফ্রিডম অর্জন করা। যখন সেই প্রক্রিয়াটা বুঝে সেই প্রক্রিয়াতে সচেতন ভাবে আমি ক্রিয়া করি এবং সংগ্রাম করি– তখনই আমি ফ্রিডম অর্জন করার জন্য সংগ্রাম করছি বলা চলে। তার আগে পর্যন্ত আমার ফ্রিডম সম্পর্কে ধারণা হল আত্মপ্রতারণা বা সেল্ফ ডিসেপশন বা প্র্যাগম্যাটিক কনসেপ্ট অফ নেসেসিটি, যেটা সোজা কথায় হল সুবিধাবাদ। সে হতে পারে ব্যক্তিগত সুবিধাবাদ অথবা রাজনীতিগত সুবিধাবাদ।
প্র্যাগম্যাটিক নেসেসিটি হল, মার্ক্সবাদ যে নেসেসিটির অনুসন্ধান করতে বলে তার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। মার্ক্সবাদ যখন নেসেসিটির কথা বলে, তখন সে বস্তুর মধ্যে নিহিত প্রক্রিয়া এবং নিয়ম, তার গতিধারা লক্ষ করতে বলে। বস্তুর বিকাশে, জীবন বিকাশে, সমাজ বিকাশে বস্তুর গতিধারায় কী কী নিয়ম এবং তার গতিধারা কোন দিকে, তা যথার্থ নিরূপণ করতে পারলেই নেসেসিটি সম্পর্কে আমাদের যথার্থ বৈজ্ঞানিক উপলব্ধি ঘটল বা ধারণার যথার্থ উপলব্ধি ঘটল। কিন্তু চরিত্রে, ক্রিয়ায় আমরা ফ্রিডম অর্জন করলাম তখন, যখন সেই প্রক্রিয়ায় আমরা সচেতনভাবে ক্রিয়া করতে এবং সংগ্রাম করতে সক্ষম। তখনই আমরা যথার্থই ফ্রিডম কথাটার মানে বুঝলাম। তার আগে আমরা ফ্রিডম কথাটা বলছি বুদ্ধি ও যুক্তি দিয়ে, কিন্তু তার যথার্থ মানে বুঝিনি। —‘বিপ্লবী জীবনই সর্বাপেক্ষা মর্যাদাময়’