Breaking News

নারী সুরক্ষা ও নির্যাতন বন্ধের দাবিতে সোচ্চার, এআইএমএসএস রাজ্য সম্মেলন

আগামী দিনের আন্দোলন আরও শাণিত করার অঙ্গীকার নিয়ে ২৬-২৭ সেপ্টেম্বর কোচবিহার শহরে সম্পন্ন হল অল ইন্ডিয়া মহিলা সাংস্কৃতিক সংগঠনের অষ্টম রাজ্য সম্মেলন। নারী নির্যাতন বন্ধ, নারীর পূর্ণ নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা, এসআইআর-এর নামে নাগরিক হয়রানি বন্ধ করে এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিল এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে ২৬ সেপ্টেম্বর হাজার হাজার মহিলার মিছিলে মুখরিত হয়ে ওঠে কোচবিহারের রাজপথ। ক্ষুদিরাম মূর্তির পাদদেশ থেকে মিছিল রাসমেলা মাঠে পৌঁছলে সেখানে আয়োজিত প্রকাশ্য অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের রাজ্য সহ সভাপতি কমরেড মাধবী প্রামাণিক।

প্রধান বক্তা ছিলেন এস ইউ সি আই (কমিউনিস্ট)-এর পলিটবুরো সদস্য এবং রাজ্য সম্পাদক কমরেড চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য, রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, কোচবিহার জেলা সম্পাদক কমরেড শিশির সরকার, এআইএমএসএস-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কমরেড ছবি মহান্তি, রাজ্য সম্পাদিকা কমরেড কল্পনা দত্ত, রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড সান্ত্বনা দত্ত। শুরুতেই অভ্যর্থনা সমিতির সভাপতি অধ্যাপক অসিত কুমার চক্রবর্তী বক্তব্য রাখেন। এসআইআর বিরোধী নিন্দা প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন স্কিম ওয়ার্কার্স আন্দোলনের বিশিষ্ট নেত্রী ইসমত আরা খাতুন, নার্সিং আন্দোলনের নেত্রী ভাস্বতী মুখার্জী। এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন সংগঠনের মহিলা প্রতিনিধিরা এবং জেলা সম্পাদক নমিতা বর্মন সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তি। বক্তারা বর্তমান সময়ে নারী ও শিশুদের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকট নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সরকারের উদাসীনতার বিরুদ্ধে বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। ২৭ সেপ্টেম্বর শহরের রবীন্দ্র ভবনে ৭৩৮ জন প্রতিনিধিকে নিয়ে প্রতিনিধি অধিবেশন হয়। সকালে শহিদ বেদিতে মাল্যার্পণ ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিনিধি অধিবেশনে খসড়া প্রস্তাব পেশ করেন রীতা প্রধান। প্রস্তাবের সমর্থনে প্রতিনিধিরা বিভিন্ন দিক থেকে আলোচনা করেন। সমাপ্তি অধিবেশনে প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কমরেড ছবি মহান্তি। তিনি নারীদের ওপর বাড়তে থাকা অত্যাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে আপসহীন ও বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলার ডাক দেন।

সম্মেলন থেকে সর্বসম্মতিক্রমে কমরেড ভাস্বতী মুখার্জীকে সভাপতি ও কমরেড রীতা প্রধানকে সম্পাদক করে ৮৯ সদস্যের নতুন রাজ্য কমিটি গঠিত হয়। নেতৃবৃন্দ জানান, কোচবিহারের এই ঐতিহাসিক সম্মেলন বাংলার নারীদের অধিকার রক্ষা এবং সমাজ পরিবর্তনের লড়াইয়ে এক নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে।