
ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে মন্ত্রী মহোদয়রা বলে চলেছেন, আমদানি শুল্ক তুলে নেওয়ার ফলে দেশের মানুষ আমেরিকা থেকে আমদানি করা দ্রব্য সস্তায় পাবে। সত্যিই কি পাবে?
গত কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যখন খুবই চড়া, ইউক্রেন যুদ্ধের সুযোগে ভারতীয় তেল কোম্পানিগুলি ব্যাপক কম দামে তেল আমদানি করেছে রাশিয়া থেকে। তাতে কি দেশে তেলের দাম সস্তা হয়েছে? জনসাধারণ কম দামে তেল পেয়েছে? তথ্য বলে, একেবারেই না। দেশীয় বাজারে তেলের দাম এক পয়সাও কমেনি। বাস্তবে তেল কোম্পানিগুলো সস্তায় কেনা অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে ইউরোপের বাজারে আন্তর্জাতিক বাজারের দামে বিক্রি করেছে। ফলে মুনাফায় লাল হয়ে উঠেছে দেশীয় তেল কোম্পানিগুলি। তাতে সাধারণ মানুষের কী লাভ হয়েছে?
এই অর্থবর্ষের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে রাষ্ট্রায়ত্ত ইন্ডিয়ান অয়েলের লাভ ৩২২ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ১২,১২৬ কোটি টাকায়। ৬২ শতাংশ বেড়ে ভারত পেট্রোলিয়ামের নিট মুনাফা হয়েছে ৭,৫৪৫ কোটি টাকা। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ নিট মুনাফা করেছে ২২,২৯০ কোটি টাকা।
আবার ট্রাম্পের হুমকিতে রাশিয়ার তেল আমদানি বন্ধ করে ভারত যদি অনেক বেশি দাম দিয়ে, অনেক বেশি পরিবহণ খরচ দিয়ে আমেরিকা এবং ভেনেজুয়েলার তেল আমদানি করে, তখনই তেলমন্ত্রী থেকে শুরু করে সব তেল কোম্পানি ক্ষতির গাওনা গেয়ে দেশীয় বাজারে জনগণের উপর বাড়তি দাম চাপাবে। আর তেল কোম্পানিগুলি মুনাফার চূড়ায় বসে সরকারের নামে জয়ধ্বনি দেবে! দেশ শাসনের নামে এই ট্র্যাডিশনই চলছে। (সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬)