
নানা কৌশলে লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম কেটে দিয়েছে নির্বাচন কমিশনের বকলমে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। তাঁরা ভোট দিতে পারেননি। এখন বলছে, এঁরা রেশন পাবেন না, গ্রামীণ কর্মসংস্থান যোজনার কাজ পাবেন না, অন্নপূর্ণা যোজনার ভাতা পাবেন না। এঁরা পরিণত হচ্ছেন বে-নাগরিকে। ফলে আরও বিপদের আশঙ্কা করছে মানুষ। তাই গড়ে উঠছে ভোটার লিস্টে নাম তোলার আন্দোলন।
বর্ধমানঃ ২৭ জুন ভোটাধিকার সুরক্ষা সমন্বয় সমিতি পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রস্তুতি কমিটির পক্ষ থেকে বর্ধমান শহরের জাগরী সভাকক্ষে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলার বিভিন্ন ব্লক থেকে শতাধিক মানুষ যোগ দেন। প্রধান বক্তা ছিলেন সমিতির রাজ্য কমিটির পক্ষে সুকুমার চক্রবর্তী, আইনজীবী মুফাস্সর হোসেন সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তের বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ। সভাপতিত্ব করেন অরবিন্দ সাহা। আন্দোলন তীব্রতর করার লক্ষ্যে মুফাস্সর হোসেন, অরবিন্দ সাহা, অনিরুদ্ধ কুণ্ডু ও নীলরতন বিশ্বাসকে আহ্বায়ক করে এবং জেলার বিভিন্ন ব্লক থেকে ৩৪ জন নাগরিককে নিয়ে একটি প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়।
লক্ষ্মীকান্তপুরঃ ভোটাধিকার সুরক্ষা সমন্বয় সমিতির ডায়মন্ডহারবার মহকুমা শাখার পক্ষ থেকে ২৮ জুন লক্ষ্মীকান্তপুরে নাগরিক কনভেনশন হয়। পরে বিক্ষোভ মিছিল বিজয়গঞ্জ বাজার পরিক্রমা করে। সমন্বয় সমিতির মহকুমা শাখার সম্পাদক সঞ্জয় মণ্ডল ও সভাপতি নাসিরুদ্দিন মীর আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। বক্তব্য রাখেন এসআইআর বিরোধী আন্দোলনের রাজ্য সংগঠক গোপাল সাহু।
নন্দীগ্রামঃ দ্রুততার সঙ্গে ট্রাইবুনালের কাজ সম্পন্ন করে বৈধ ভোটারের নাম তালিকাভুক্ত করা এবং ট্রাইবুনালের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও মানুষকে বঞ্চিত না করার দাবিতে ৩০ জুন নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ডে এক নাগরিক সভা হয়। সভাপতিত্ব করেন আব্দুল কাদের খান। প্রধান বক্তা ছিলেন, ভোটাধিকার সুরক্ষা সমন্বয় কমিটির রাজ্য নেতা জীবন দাস, জেলা কমিটির পক্ষে প্রদীপ দাস, শিক্ষক সেখ আনসার হোসেন। সভা শেষে আব্দুল কাদের খানকে সভাপতি ও বিমল মাইতিকে সম্পাদক করে ভোটাধিকার সুরক্ষা সমন্বয় সমিতি (নন্দীগ্রাম) গঠিত হয়। এর পর কমিটির নেতৃত্বে নন্দীগ্রাম-১ এর বিডিও-র কাছে প্রতিনিধি ডেপুটেশন দেয়। বিডিও ডেপুটেশন নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবিগুলিপৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
বারুইপুরঃ ৩ জুলাই ভোটাধিকার সুরক্ষা সমন্বয় সমিতির পক্ষ থেকে প্রবল প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপেক্ষা করে কুলতলি, জয়নগর ও বারুইপুর থেকে কয়েক হাজার মানুষ বারুইপুর এসডিও অফিসে বিক্ষোভ ডেপুটেশনে শামিল হন। ট্রাইবুনালে আবেদনকারী ভোটাররা বারুইপুর রেল ময়দানে জমায়েত হয়ে মিছিল শহর পরিক্রমা করেন। ভোটাধিকার সুরক্ষা সমন্বয় সমিতির পক্ষে সুভাষ জানা সভা পরিচালনা করেন। তিনি বলেন, নাম না তোলা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আগামী ১৪ জুলাই কলেজ স্কোয়ারে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হবেন। নির্বাচন কমিশনের দপ্তর অভিযান হবে। বেনাগরিক করার ষড়যন্ত্রকে ব্যর্থ করতে হবে। বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন সংসদ ডাঃ তরুণ মণ্ডল। এসডিও-কে ডেপুটেশন দেন শাবানা পারভিন, আরফিন আহমেদ, মাধবী প্রামাণিক, বাপি মাইতি, আনসার শেখ।
মালদাঃ অমীমাংসিত ভোটারদের নাম দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে মালদা জেলা সিপিডিআরএস-এর উদ্যোগে ৪ জুলাই কনভেনশন হয় মালদা শহরে। সভাপতি ছিলেন জেলার বিশিষ্ট শিক্ষক আখতার হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন আইনজীবী মোঃ জিয়াউল্লাহ। প্রধান বক্তা সিপিডিআরএস-এর রাজ্য সম্পাদক রাজকুমার বসাক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এসআইআর-এর অন্তর্নিহিত পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করে সমস্যা সমাধানের উপায় হিসেবে মানুষকে লড়াই আন্দোলনের পথে অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানান। মোহাম্মদ জিয়াউল্লাহ ট্রাইবুনালের আইনি কৌশলগত দিকগুলি ব্যাখ্যা করেন। কনভেনশনে শেষে সুভাষ সরকারকে সম্পাদক এবং প্রশান্ত ঘোষকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠিত হয়। উপস্থিত ছিলেন প্রায় ১৫০ জন।