
সম্প্রতি কেন্দ্রের বিজেপি সরকার পণ্য এবং পরিষেবার উপর চাপানো করের (জিএসটি) চারটি ধাপকে দুটিতে নিয়ে এসেছে। বেশ কিছু পণ্যের কর ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ এবং আরও কিছু পণ্যের কর ১৮ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে নিয়ে এসেছে তারা। আবার কিছু পণ্যের কর ২৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ করা হয়েছে।
২২ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন কর হার চালু হতে চলেছে। কিছু পণ্যে কর কমানোর বিষয়টিকে বিজেপি সরকারের এক বিরাট সাফল্য হিসাবে দেখাতে প্রধানমন্ত্রী নিজে যেমন ময়দানে নেমে পড়েছেন, তেমনই নামিয়ে দিয়েছেন গোটা দলকে। তাঁদের ভাবটা এমন যেন, জিএসটি কমায় জিনিসপত্রের দাম এতখানি কমে যাবে যে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র অনায়াসেই কিনতে পারবে। তার ফলে মুষড়ে পড়া বাজার চাঙ্গা হয়ে উঠবে এবং তার পরিণতিতে উৎপাদনে গতি আসবে, অর্থনীতিও মজবুত হবে। মানুষকে স্বপ্ন দেখানোর এমন চেষ্টা এর আগে দেশের রাষ্ট্রনায়করা বহু বার করেছেন। কিন্তু বাস্তবটা ঠিক কী একবার দেখে নেওয়া যাক। বিজেপি সরকার ‘এক দেশ এক করক্স নীতির নামে আগেকার বিভিন্ন স্তরের কর এবং পরে চালু হওয়া ভ্যাট তুলে দিয়ে জিএসটি চালু করে। সরকার তখন বলেছিল, এর ফলে ব্যবসায়ীদের কর ফাঁকি দেওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। বন্ধ হয়েছে নাকি কর ফাঁকি? পাইকারি বাজারে যাদের যাতায়াত আছে, যাদের কেনাকাটা করতে হয়, তাঁরা জানেন, বৃহৎ ব্যবসায়ীদের কত রকমের বিল, কত রকমের চালান, কত রকমের টুকরো কাগজে কেনাবেচা চলে। যদিও সাধারণ মানুষ সেই করের হাত থেকে রেহাই পায় না।
চড়া হারে কর বসানোর কোনও প্রয়োজন ছিল না
২০১৭ সালে মোদি সরকার যখন উপযুক্ত পরিকাঠামোগত প্রস্তুতিটুকুও না নিয়ে জিএসটি চালু করে তখনই দেশ জুড়ে প্রবল প্রশ্ন উঠেছিল যে, পণ্য এবং পরিষেবার উপর এমন বিপুল হারে কর চাপানোর কোনও প্রয়োজন আছে কি? বিপুল হারে চাপানো এই কর তো শেষ পর্যন্ত জনগণকেই মেটাতে হবে। সংকট-জর্জরিত জনগণের কি তা বইবার মতো ক্ষমতা রয়েছে? তা ছাড়া, জিএসটি চালুর সঠিক প্রস্তুতি না থাকায় বিশেষ করে ছোট ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে তার হিসাবপত্র খুবই জটিল হয়ে পড়ে তাঁদের সমস্যা আরও বাড়িয়ে তুলেছিল। কিন্তু বিজেপি সরকার সে দিন জনমতের কোনও তোয়াক্কা করেনি, ছোট ব্যবসায়ীদের সুবিধা-অসুবিধারও কোনও তোয়াক্কা করেনি। জিএসটি চালুর ফলে এক ধাক্কায় জিনিসপত্রের দাম লাফিয়ে বেড়ে যায়। এমনিতেই বেকারত্ব, ছাঁটাই, কম মজুরির মতো অজস্র সমস্যায় জর্জরিত মানুষের ক্রয়ক্ষমতা নেমে যায় আরও নিচে। সরকারের জিএসটি নীতি ব্যর্থ প্রমাণিত হয়। অর্থাৎ মোদি সরকারের ব্যর্থতার মুকুটে নোট বাতিলের পর জিএসটিও যুক্ত হয়। কিন্তু জিএসটি নীতির ব্যর্থতা বুঝতে এবং তার পরিবর্তন করতে সরকারের এত বছর সময় লাগল কেন?
জনগণকে সুরাহা দেওয়া সরকারের উদ্দেশ্য নয়
জিএসটি চালুর মধ্যে দিয়ে সরকার জনগণের থেকে নজিরবিহীন কর আদায় করে চলেছে। বছরে এখন জিএসটি সংগ্রহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ লক্ষ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরের (৯ মাস) তুলনায় এই কর তিনগুণের বেশি (৭.১৯ লক্ষ কোটি টাকা) এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরের তুলনায় দ্বিগুণ (১১.৭৭ লক্ষ কোটি টাকা)। কিন্তু সরকারের কর আদায় যতই বাড়ূক মানুষের কেনার ক্ষমতার অভাবে অভ্যন্তরীণ বাজারের আয়তন ক্রমাগত সঙ্কুচিত হয়ে চলেছে। এই অবস্থায় আমেরিকা ভারতের পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোয় সঙ্কট তীব্র আকার নিয়েছে এবং রফতানি বাণিজ্য বড় প্রশ্নের মুখে, তখন সরকারকে অভ্যন্তরীণ বাজারের উপর জোর দিতে হচ্ছে। তার জন্য মানুষের কেনার ক্ষমতা বাড়ানোর কথা ভাবতে হচ্ছে। এই অবস্থায় জিএসটির স্ল্যাব কমানো ছাড়া সরকারের হাতে আর কোনও রাস্তাই খোলা নেই। সরকার যদি সত্যিই মানুষের কেনার ক্ষমতা বাড়াতে চাইত, তবে নামমাত্র জিএসটি কমানোর চালাকি না করে সবার আগে জিসিপত্রের চড়া দামে লাগাম পরানোর উদ্যোগ নিত। চাল ডাল তেল আটা শাক-সবজির দাম সাধারণ মানুষের আয়ত্তের বাইরে। তা ছাড়া শ্রমিক-কর্মচারীদের মাইনে বাড়ানো, শূন্যপদে এবং নুতন নিয়োগ করে মানুষের কেনার ক্ষমতা বাড়ানোর ব্যবস্থা করত। ধনকুবেরদের করছাড়, ব্যাঙ্কঋণ মকুব বন্ধ করে তাদের উপর সম্পদ কর চাপিয়ে সমাজে বৈষম্য কমানোর চেষ্টা করত। এ সব কোনও কিছুই করেনি সরকার। অর্থাৎ সাধারণ মানুষকে সুরাহা দেওয়া উদ্দেশ্য নয়, সরকার ঝিমানো বাজার খানিকটা চাঙ্গা করার লক্ষ্য নিয়েই কিছু পণ্যে কর কমিয়েছে। যদিও সরকার হিসাব কষেই এই পরিবর্তন ঘটিয়েছে। কিছু পণ্যে যেমন কর কমিয়েছে, তেমনই বেশ কিছু পণ্যে তা যথেষ্ট বাড়ানো হয়েছে। এই কমানো বাড়ানোর শেষে সরকারের মোট কর সংগ্রহে তেমন কিছু হেরফের ঘটছে না। যা ঘটছে তা নামমাত্র– ২ শতাংশ, টাকার অঙ্কে যা মাত্র ৪৭ হাজার কোটি টাকা। সরকারের আশা বাজারে কেনাবেচার পরিমাণ বাড়লে এই অঙ্কও উসুল হয়ে যাবে।
কর ছাড়ের সুবিধা মানুষ কতটুকু পাবে?
এখন প্রশ্ন উঠেছে, যে সব পণ্যে সরকার কর কমিয়েছে সেই পরিমাণে কি জিনিসপত্রের দাম কমবে? জনসাধারণ কি সত্যিই সেই সুবিধাটুকু পাবে? জনসাধারণ যাতে তা পায় তা দেখার কোনও নজরদারি ব্যবস্থা কি সরকার নিয়েছে? শুনতে অবাক লাগলেও এ প্রশ্নের উত্তর– না, সরকার তার জন্য কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। শিল্পমহলের আশ্বাসের উপরই সরকার পুরোপুরি ভরসা করেছে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বলেছেন, ‘‘যতখানি জিএসটি কমেছে, তার পুরো সুবিধাই যাতে শিল্পমহল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়, তা নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। শিল্পমহল আশ্বাস দিয়েছে, পুরো সুবিধাই আমজনতার হাতে যাবে।’’ বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল বলেছেন, ‘‘শিল্পমহল আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, জিএসটি কমার ১০০ শতাংশ সুবিধা মানুষ পাবে।’’ অর্থাৎ বিজেপি মন্ত্রীরা বিড়ালের হাতেই দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন মাছ পাহারা দেওয়ার!
মুনাফাখোরি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সরকার তুলে দিয়েছে
কিন্তু বিজেপি সরকার এবং তার মন্ত্রীদের শিল্পমহলের উপর এমন অগাধ আস্থার কারণ কী? শোষণ, বঞ্চনা এবং প্রতারণাই যে পুঁজিবাদের ভিত, তার উপর দাঁড়িয়ে পুঁজিপতিদের উপর এই আস্থা কি বিজেপি নেতা-মন্ত্রীদের সরলতার লক্ষণ, নাকি শিল্পপতি-পুঁজিপতিদের আর এক দফা লুটের ব্যবস্থা করে দেওয়াই এর উদ্দেশ্য? ব্যবসায়ী-শিল্পপতিরা যে এর সুবিধা পুরোপুরি জনসাধারণের হাতে তুলে দেবে না, যতদূর সম্ভব বেশি লুটে নেওয়ার চেষ্টা করবে, অতীতে তা দেখা গেছে। এই যেমন, দেশের শীর্ষ ধনকুবের মুকেশ আম্বানি বলেছেন, তিনি জিএসটি কমার সুবিধা ভাগ করে দেবেন দেশবাসীকে। উদারতা মুগ্ধ হওয়ার মতো! অথচ ইনি সেই মুকেশ আম্বানি যিনি দেশের মানুষকে বিনা খরচে ফোনের ব্যবস্থা করে দেবেন বলে সবার হাতে জিও ফোন তুলে দিয়েছিলেন। মানুষ জানেন, এখন জিও ফোনের খরচ লাফিয়ে বেড়ে চলেছে এবং দেশে তার খরচ সর্বোচ্চ।
এখন কথা উঠেছে যে, কেন্দে্রর উচিত ছিল কেন্দ্রীয় জিএসটি আইনের ১৭১ নম্বর ধারা মেনে মুনাফাখোরি প্রতিরোধ সংস্থা তৈরি করা। কিন্তু সরকার তা করেনি। এখন কাউকে এই সুযোগ আত্মসাৎ করতে দেখলেও কোথাও সেই অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা নেই। কিন্তু সরকার এমন কোনও সংস্থা তৈরি করল না কেন? জিএসটি চালুর সময়ে মুনাফাখোরি প্রতিরোধ সংস্থা তৈরি হয়েছিল। তাতে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার মুনাফাখোরির অভিযোগও জমা পড়েছিল। কিন্তু এ বছর ১ এপ্রিল থেকে ওই ব্যবস্থা তুলে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সরকার জেনেবুঝেই মুনাফাখোরি প্রতিরোধ ব্যবস্থা রাখেনি যাতে শিল্পমহল জনগণের উপর অবাধে লুঠতরাজ চালাতে পারে।
সহজে ব্যবসার নামে সহজে লুঠের ব্যবস্থা
কেন্দ্রীয় অর্থ দফতরের বক্তব্য, এর ফলে ‘ইন্সপেকশন রাজক্স তৈরি হয়। ব্যবসার সহজ পরিবেশ নষ্ট হয়। অবাক ব্যপার! মুনাফাখোরি অর্থাৎ জনগণের উপর অন্যায় লুঠ আটকানোর নাম হয় ইন্সপেকশন রাজ, আর তা চলতে দেওয়ার নাম ব্যবসার সহজ পরিবেশ। সরকারের এই মনোভাবের পরও বুঝতে অসুবিধা হয় কি যে জিএসটি ছাড়ের কেমন সুবিধা জনগণ পেতে চলেছে! রাজস্ব সচিব অরবিন্দ শ্রীবাস্তব আবার এক অদ্ভূত কথা বলেছেন– শিল্পমহলকেও বুঝতে হবে, দাম কমলে এবং তার ফলে বেচাকেনা বাড়লে তাদেরই লাভ। যেন এত বড় একটা সত্য পুঁজিপতি এবং বৃহৎ ব্যবসায়ীদের অজানা ছিল! রাজস্ব সচিবই সেই সত্যকে প্রকাশ্যে আনলেন! শিল্পমহল যদি তাই বুঝত তবে তো পুঁজিবাদে শোষণই থাকত না। কারণ, সবাই জানে, শোষণের কারণে শ্রমিকের ক্রয়ক্ষমতা কমে। আর ক্রয়ক্ষমতা কমলে বাজারে বিক্রি কমে। তাতে উৎপাদন ব্যাহত হয়। বিপরীতে শ্রমিকের হাতে বেশি টাকা থাকলে তারা বেশি পণ্য কেনে। তাতে বাজারে বেচাকেনা বাড়ে। পরিণতিতে উৎপাদনে গতি আসে। বাজার চাঙ্গা হয়। কিন্তু তা সত্বেও তো কোনও মালিক শ্রমিককে এতটুকুও কম শোষণ করে না! শ্রমিকরা দাবি করলেও এতটুকু বেতন বাড়াতে রাজি হয় না! শিল্পমহলের উপর মন্ত্রী-আমলাদের এমন আস্থা বাস্তবে, সুন্দরবনে দাঁড়িয়ে বাঘকে নিরামিশাষী হতে বলার সমান।
জনগণকে লুঠ করতেই চড়া কর
নিজেদের যত কষ্টই হোক, জনগণ এই কর দিতে রাজি হত যদি তারা বুঝত তাদের এই করের টাকা তাদের উন্নয়নেই ব্যয় হবে। বাস্তবে প্রতিদিন তারা দেখছে যে, এই যে বিপুল পরিমাণ কর, যা একেবারে দীন-হীন নিম্নস্তর পর্যন্ত জনগণের ঘাড় ভেঙে সরকার আদায় করে চলেছে, সরকার কী কাজে তা ব্যয় করছে। তা কি জনগণের কল্যাণের জন্য ব্যয় হয়? তবে কেন দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের রোগে ওষুধ জোটে না, কেন তাদের ঘরে জমাট হয়ে থাকা অশিক্ষা-অজ্ঞানতার অন্ধকার যত দিন যায় আরও গভীর হয়ে ওঠে? কেন তাদের মাথার উপর একটা স্থায়ী ছাদ জোটে না? অন্য দিকে মুষ্টিমেয় ব্যবসায়ী-পুঁজিপতি, ধনীদের ব্যাঙ্কে মুনাফার পাহাড় ক্রমেই আকাশ ছুঁতে থাকে। বাস্তবে জনগণের দেওয়া করের টাকার বেশির ভাগটাই ব্যয় হয় পুঁজিপতিদের কর ছাড় দিতে, তাদের শত-সহস্র কোটি টাকার ব্যাঙ্কঋণ মকুব করতে। আর ব্যয় হয় এমএলএ এমপি মন্ত্রী আমলাদের বিদেশ ভ্রমণে, এসি ট্রেন আর বিমান ভ্রমণে, বিলাসবহুল জীবনযাপনে। আর এক বিপুল অংশ ব্যয় হয় নেতা-মন্ত্রীদের বিপুল দুর্নীতিতে, যার একটা অংশ ঘুরপথে ফিরে আসে শাসক দলগুলির তহবিলে, যা তারা দেদার খরচ করে অসচেতন মানুষের ভোট কিনতে। করের টাকার আর একটা বৃহৎ অংশ ব্যয় হয় প্রতিরক্ষা খাতে। বাস্তবে দেশের প্রতিরক্ষার নামে এই টাকা তারা ব্যয় করে উৎপাদন শিল্পের মন্দা কাটাতে, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম তৈরির সঙ্গে যুক্ত পুঁজিপতিদের পাইয়ে দেওয়ার জন্য। তাই দেশে আজ প্রতিরক্ষা শিল্পই প্রধান শিল্প হয়ে উঠেছে। তাই শুধু এ দেশের নয়, দেশে দেশে পুঁজিবাদী রাষ্ট্রনায়কদের মুখে কোথাও শান্তির কথা শোনা যায় না, তাঁদের মুখে শুধুই যুদ্ধের কথা। তাই দেশে দেশে আজ শুধুই অস্ত্রচুক্তি। এই ভাবে সরকার যতই সাধারণ মানুষকে নিংড়ে নিতে থাকে, যতই সাধারণ মানুষের জীবন শুষ্ক, কঠিন, নির্জীব হয়ে ওঠে, ততই শাসক হয়ে বসে থাকা মুষ্টিমেয় অতি ধনী শ্রেণির জীবন আতিশয্যে, অপব্যয়ে উছলে পড়ে। এই যে বৈপরীত্য, এই যে বৈষম্য, এই নিঃশব্দ নিপীড়নের চরিত্র আজ উন্মোচিত।
বাস্তবে দেশের মানুষকে বর্তমান সমাজব্যবস্থার শোষণের চরিত্রটিকে স্পষ্ট করে বুঝতে হবে। বুঝতে হবে যে, পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় পুঁজিপতি শ্রেণির মুনাফা তথা জনগণকে লুটের ব্যবস্থা করে দেওয়াই তাদেরই নিয়োজিত সরকারের কাজ। অতীতের সব সরকারের মতোই বিজেপি সেই কাজটিই করে চলেছে। জিএসটি বসানো বা কমানো কোনওটির সঙ্গেই জনগণকে সুরাহা দেওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই।