
চট শিল্পের শ্রমিকদের উপর বর্তমানে অমানুষিক শোষণ-পীড়ন ক্রমাগত বাড়ছে, তার বিরুদ্ধে রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটকের উদ্দেশে ২৪ নভেম্বর লেখা এক চিঠিতে এআইইউটিইউসি-র পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক অশোক দাস বলেন,
পশ্চিমবাংলার শতাধিক বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী পরিবেশবান্ধব শ্রমনিবিড় শিল্পের অন্যতম হল চট শিল্প। চট কলের প্রায় আড়াই লক্ষ শ্রমিক আজ গভীর সংকটে। ৩ জানুয়ারি ২০২৪ শ্রমমন্ত্রীর উপস্থিতিতে চটকলের মালিকরা যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল, সেই চুক্তি কোনও চটকলেই মালিকরা কার্যকর করেনি। চুক্তিতে বলা হয়েছিল, ২০ বছর যাবত কর্মরত শ্রমিকদের পার্মানেন্ট (স্থায়ী) করা, ১৫ বছর যাবত কর্মরত শ্রমিকদের স্পেশাল বদলি করা, গ্রেড অ্যান্ড স্কেল চালু করা, মহিলা শ্রমিকদের অবসরের বয়স ৫৮ বছর করা, স্টেট প্রোডাক্টিভিটি কাউন্সিলের মাধ্যমে যন্ত্র ও শ্রমিকের অনুপাত ঠিক করা, বকেয়া পি এফ ও গ্র্যাচুইটির টাকামিটিয়ে দেওয়া। এই বিষয়গুলো মালিকরা আজ পর্যন্ত কার্যকর করেনি। চট শিল্পের ইউনিয়নগুলো যৌথ ভাবে এবং এআইইউটিইউসি অনুমোদিত বেঙ্গল জুট মিল ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন একাধিকবার শ্রমমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। কিন্তু আজও কোনও চটকলে চুক্তির মূল বিষয়গুলো কার্যকর হয়নি।
শুধু তাই নয়, চট শিল্পের মালিকরা নতুন আক্রমণ নামিয়ে এনেছে শ্রমিকদের উপর। ১ নভেম্বর থেকে ১২৯ পয়েন্ট ডিএ পাওয়ার কথা চট শিল্পের শ্রমিকদের। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনও জুট মিলে ডিএ-র নোটিশ করা হয়নি। শ্রম আইন অনুযায়ী চটকল শ্রমিকদের ডিএ অবশ্য প্রাপ্য এবং তা মূল বেতনের অংশ হিসেবে প্রাপ্য। কিন্তু মালিকরা কাঁচা পাটের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে ডিএ স্থগিত রেখেছে।
এই অবস্থায় আমরা দাবি করছি– ১ জানুয়ারি ২০২৪-এ স্বাক্ষরিত ত্রিপাক্ষিক চুক্তি অবিলম্বে মালিকদের কার্যকর করতে বাধ্য করতে হবে, কোনও অজুহাতে চটকল শ্রমিকদের প্রাপ্য ডিএ স্থগিত করার মালিকদের পদক্ষেপ বন্ধ করতে তাদের বাধ্য করতে হবে, শ্রমিকদের প্রাপ্য গ্রাচুইটির টাকা অবিলম্বে দিতে হবে এবং পিএফ-এর বকেয়া টাকা অবিলম্বে পি এফ দপ্তরে জমা দিতে মালিকদের বাধ্য করতে হবে।