
‘করিমগঞ্জ জেলা নাম পরিবর্তন প্রতিরোধ নাগরিক কমিটি’র উদ্যোগে ৬ সেপ্টেম্বর করিমগঞ্জ জেলায় সর্বাত্মক বনধ ভাঙতে শাসক দল হামলা চালায়। বদরপুর এনসি কলেজের ছাত্ররা ওই দিন আন্দোলনের সমর্থনে ক্লাস বয়কট করে পথ অবরোধ করলে ছাত্রদের ওপর পুলিশ নির্মম লাঠিচার্জ করেই ক্ষান্ত হয়নি। পুলিশ কলেজে ঢুকে একজন শিক্ষক সহ কয়েক জন ছাত্রকে গ্রেপ্তার করে ডিসি-এসপির প্রত্যক্ষ নির্দেশে। এমনকি আহত ছাত্রদের হাসপাতাল থেকে জোর করে তুলে নেওয়া হয়। এখনও একজন ছাত্র চিকিৎসাধীন।
ছাত্রদের ওপর প্রশাসনের এ ধরনের অত্যাচারের প্রতিবাদে ‘করিমগঞ্জ জেলা নাম পরিবর্তন প্রতিরোধ ছাত্র সংগ্রাম কমিটি’র আহ্বানে সমস্ত স্কুল-কলেজের ছাত্ররা ৮ সেপ্টেম্বর বদরপুর ছাত্র ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করে। এই ধর্মঘট বানচাল করার জন্য পুলিশ আর আধা সামরিক বাহিনী সকাল থেকে ফ্ল্যাগ মার্চ করে এবং ঘর থেকে কিছু ছাত্রকে কলেজে তুলে নিয়ে যায়। কলেজের বাইরে ছাত্রদের ওপর নির্মম লাঠিচার্জ করে এবং দুই ছাত্রকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। কলেজের ছাত্ররা এর বিরুদ্ধে কলেজের মাঠে অবস্থান শুরু করেন। ছাত্রদের মুক্তির দাবিতে তাঁরা দৃঢ়তার সাথে অবস্থান চালিয়ে যান।
ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনের ওপর এই ধরনের আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এস ইউ সি আই (কমিউনিস্ট)-এর আসাম রাজ্য কমিটির সম্পাদক কমরেড চন্দ্রলেখা দাস ৮ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে করিমগঞ্জ জেলার নাম পরিবর্তনের বিরুদ্ধে আহুত সর্বাত্মক হরতাল সফল করতে গিয়ে ছাত্রদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে সংগ্রামী অভিনন্দন জানান এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।