
ওড়িশার প্রবীণ জননেত্রী, এস ইউ সি আই (কমিউনিস্ট)-এর রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এবং এআইএমএসএস-এর প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি কমরেড বীণাপাণি দাস দীর্ঘ রোগভোগের পর ২২ ডিসেম্বর ভুবনেশ্বরে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।
পারিবারিক সূত্রে স্কুলজীবনেই কমরেড বীণাপাণি দাস মহান মার্ক্সবাদী দার্শনিক কমরেড শিবদাস ঘোষের সংস্পর্শে আসেন। পরবর্তীকালে রৌরকেলায় থাকার সময় দলের পূর্বতন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও তৎকালীন রাজ্য সম্পাদক কমরেড তাপস দত্তের সাহচর্যে তিনি শোষিত মানুষের মুক্তির বিপ্লবী সংগ্রামে সমগ্র জীবন নিয়োজিত করার সিদ্ধান্ত নেন। ওড়িশায় তিনিই ছিলেন দলের প্রথম মহিলা কর্মী। ওই সময়ের রক্ষণশীল সামাজিক পরিমণ্ডলে সে রাজ্যে মহিলাদের বিপ্লবী আন্দোলনে এগিয়ে আসার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সমস্যা ছিল। সেইসব সমস্যা জয় করে তিনি ছোট থেকে বড় সব বয়সের মানুষের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধার আসন লাভ করেছিলেন। এমনকি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে চরম বিরোধীদের মধ্যেও শ্রদ্ধা ভালবাসা অর্জন করেছিলেন।
১৯৭০-এর দশকের প্রথম দিকে তিনি বর্তমান ভদ্রক জেলায় ভাণ্ডারিপোখানি এলাকা ও জাজপুর জেলার দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেন। ১৯৭৪-এ কটকে এআইডিএসও-র প্রথম সর্বভারতীয় সম্মেলনের আগে তিনি কটকে দায়িত্ব নিয়ে কাজ শুরু করেন। কমরেড তাপস দত্ত সহ মুষ্টিমেয় সর্বক্ষণের কর্মীদের দিনযাপন অর্থাভাবের কারণে তখন ছিল খুবই কষ্টকর। দলের কাজের দায়িত্বের মধ্যেই টিউশনি ও অন্য ভাবে দলের জন্য অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করেছেন তিনি। প্রায় কাছাকাছি সময়ে ওড়িশায় এআইএমএসএস-এর কাজ শুরু হলে, তিনি সংগঠনের দায়িত্ব পান। ১৯৭৭-এ সংগঠনের প্রথম রাজ্য সম্মেলনে তিনি রাজ্য সভানেত্রী নির্বাচিত হন।
দলের রাজ্য সাংগঠনিক কমিটির সদস্য হিসাবে কমরেড বীণাপাণি দাস ১৯৭০-এর দশকের শেষভাগ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ২০১৮-তে তিনি ওড়িশা রাজ্য কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হন।
ওড়িশায় বাম-গণতান্ত্রিক আন্দোলন, বিশেষত জয়প্রকাশ নারায়ণের নেতৃত্বে ঐতিহাসিক আন্দোলনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ফলে সে রাজ্যের শ্রদ্ধেয় মানবতাবাদী ব্যক্তিত্ব নবকৃষ্ণ চৌধুরী ও মালতী চৌধুরীর স্নেহধন্য হয়ে ওঠেন। এআইএমএসএস ও দলের সংগঠন বিস্তারের কাজে তিনি ওড়িশার বহু জেলায় ঘুরেছেন।
কমরেড বীণাপাণি দাসের পাঁচ দশকব্যাপী বিপ্লবী জীবনের সংগ্রাম, বিশেষত তাঁর পরিবারের সামগ্রিক ভাবে পার্টি পরিবার হয়ে ওঠার সংগ্রাম শিক্ষণীয় বিষয় হিসাবে আমাদের অনুপ্রেরণা জোগাবে সর্বদাই।
কমরেড বীণাপাণি দাস লাল সেলাম