
২ সেপ্টেম্বর উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে এআইডিএসও অনুগামী ছাত্রছাত্রীরা অন্যান্য বছরের মতোই এ বারও নবাগত ছাত্রছাত্রীদের ভর্তিতে সহায়তা করছিলেন। সঙ্গে দিচ্ছিলেন নেতাজির ছবি সংবলিত গ্রিটিংস কার্ড। ছাত্রছাত্রীরা ভর্তির জন্য অপেক্ষা করছিলেন যে লেকচার থিয়েটার হলে, সেখানে এবিভিপি কর্মীরা এআইডিএসও ছাত্রকর্মীদের ঢুকতে বাধা দিচ্ছিল। এআইডিএসও কর্মীরা ডিন এবং প্রিন্সিপালের সঙ্গে কথা বলে ভেতরে ঢুকলে বহিরাগত কিছু এবিভিপির গুন্ডা হলের ভেতরে ঢোকে। গুন্ডাদের মধ্যে অভিজিৎ রায় নামে একজন নিজেকে এবিভিপি জেলা সম্পাদক বলে পরিচয় দেয়। তারপর কলেজের প্রাক্তনী ডাঃ রাজ বর্মন, রজত মজুমদারকে মারতে শুরু করে। এআইডিএসও কর্মীরা অভিযোগ করার জন্য পুলিশ ফাঁড়িতে যাওয়ার সময় গুন্ডারা আবার চড়াও হয়। বেল্ট দিয়ে মারতে থাকে। ডাঃ রাজ বর্মনের ফোন ছিনিয়ে নেয়। তারপর ওই গুন্ডারাই অ্যাডমিশন হলে ঢুকে কলেজের ছাত্রকর্মী হিরন্ময় রায়, পৌষালী পাত্র, মনীষা সাওয়ের ওপর আক্রমণ চালায়। ফোন ছিনিয়ে নেয়, স্টেথো কেড়ে নেয় এবং মারধর করে। ছাত্রীদের গায়ে হাত দেয়।
৩ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসের বাইরে কর্মীদের সঙ্গে দেখা করবার জন্য নর্থ বেঙ্গল ডেন্টাল কলেজের প্রাক্তনী ও এআইডিএসও রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ডাঃ অপূর্ব মণ্ডল, কলেজের সদ্য প্রাক্তনী ডাঃ রামচন্দ্র শর্মা, ডাঃ সুশ্রী সঙ্গীতা জেনা বাতায়ন রেস্টুরেন্টে পৌঁছলে আগের দিনের বহিরাগতরা আবার পুলিশের সামনেই হঠাৎ তাঁদের উপর চড়াও হয়। ডাঃ অপূর্ব মণ্ডলের মাথা ফাটিয়ে দেয়। ডাঃ রামচন্দ্র শর্মার গায়ে গরম চা ঢেলে দেয় ও প্রচণ্ড মারধর করে। ডাঃ পৌষালী পাত্র ও ডাঃ সুশ্রী সঙ্গীতা জেনাকেও মারে এবং ধরর্ষণের হুমকি দেয়। যে থ্রেট কালচারের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ সহ সমস্ত সাধারণ জনগণ তৃণমূলের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল, সেই গুন্ডারাজ, থ্রেট কালচার একই রকম ভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়ে আসছে বর্তমান বিজেপি সরকারের ছত্রছায়ায় চলা এবিভিপি। যাদবপুর, উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ সহ একের পর এক প্রতিষ্ঠান দখলের জন্য দাদাগিরি মারপিট হুমকি চলছে। কিছু দিন আগেও নিট-ইউজি দুর্নীতির বিরুদ্ধে, এনটিএ বাতিলের দাবিতে ছাত্রছাত্রীরা যখন ক্যাম্পাসে মিছিল করছিলেন তখন বহিরাগত বিজেপির গুন্ডারা তাঁদের আক্রমণ করে। বাস্তবে এআইডিএসও-র উপস্থিতি এবিভিপির র্যাগিং, থ্রেট কালচারে বাধা তৈরি করছে বলেই এই হামলা।
কলেজ কর্তৃপক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রশাসনের কাছে এআইডিএসও দাবি করেছে– কলেজে বহিরাগত গুন্ডাদের সন্ত্রাস বন্ধ করে ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে। দোষী বহিরাগতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও ছাত্রদের মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।