ইউজিসি-র নতুন খসড়া সিলেবাস নিয়ে শিক্ষাবিদদের গোলটেবিল বৈঠক

‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা আরও ভবিষ্যতমুখী হওয়া উচিত। নতুন পাঠক্রম কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হওয়া অবাঞ্ছিত।’ হাম্পি কন্নড় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক এ মরুগেপ্পা গত ১৬ অক্টোবর ব্যাঙ্গালোরে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকের সভাপতি হিসাবে এই কথা বলেছেন। ইউজিসি-র নতুন খসড়া পাঠক্রমে শ্লোক, বাস্তু ইত্যাদির কী প্রয়োজনীয়তা আছে, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক আর রামানুজম ওই পাঠক্রমে ম্যাথমেটি’ সম্পর্কে বলেছেন, ‘সেকেলে ও অবৈজ্ঞানিক এবং তা বাতিল করা উচিত’।

আইসার কলকাতার অধ্যাপক সৌমিত্র ব্যানার্জী বলেন, ‘গণিতের ওই সিলেবাস পড়ে কেউ গণিত শিখবে না। তথাকথিত বৈদিক গণিত বেদের যুগ বা গণিতশাস্ত্র কোনও কিছুকেই প্রতিনিধিত্ব করে না। আমাদের গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে স্মরণ করতে হবে, কিন্তু সেকেলে বিদ্যা দিয়ে আমাদের ছাত্রদের আধুনিক যুগের চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলায় প্রস্তুত করাতে পারব না।’ আইআইএসসি-র অধ্যাপক মঞ্জুনাথ কৃষ্ণপুরা বলেন, ‘মনে হচ্ছে এই সিলেবাস চ্যাটজিপিটি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। অনেক রেফারেন্সের কোনও অস্তিত্ব নেই।’ যে এক হাজার গণিতের অধ্যাপক এই সিলেবাসের বিরুদ্ধে লিখিত পিটিশন করেছেন অধ্যাপক কৃষ্ণপুরা তাঁদের অন্যতম।

অল ইন্ডিয়া সেভ এডুকেশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক তরুণকান্তি নস্কর বলেন, ‘সিলেবাস তৈরি করার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের। ইউজিসি-র অধিকার নেই কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর সিলেবাস চাপিয়ে দেওয়ার। তাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকারের উপর হস্তক্ষেপ করা হয়। রামমোহন, বিদ্যাসাগর প্রমুখ রেনেসাঁ যুগের মনীষীরা শিক্ষাকে যে আধুনিক স্তরে উন্নীত করেছিলেন, জাতীয় শিক্ষানীতি তার উল্টোপথে চলছে।’ বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক এস চন্দ্রশেখর শেট্টী, অধ্যাপক এল জহর নেশান প্রমুখ।

কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ভি এন রাজাশেখর এই গোলটেবিল বৈঠকের সঞ্চালক হিসাবে আগামী ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ব্যাঙ্গালোরে অনুষ্ঠিত হতে চলা ‘পিপলস পার্লামেন্ট’ সফল করার আহ্বান জানান।