
পিএমশ্রী প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উদ্ভাবিত একটি প্রকল্প– প্রাইম মিনিস্টার প্রোজেক্ট ফর রাইজিং ইন্ডিয়া। এই প্রকল্পটি আনার মূল উদ্দেশ্য হল, কেন্দ্রের জাতীয় শিক্ষানীতি-২০০০ কার্যকর করা। এই উদ্দেশ্যে সরকার বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিটি ব্লক থেকে দুটি করে স্কুল বেছে নিয়ে সাড়ে চোদ্দ হাজারের মতো বিশেষ ধরনের স্কুল গড়ে তুলবে। স্কুলগুলি হবে, পুরোপুরি কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে। শিক্ষার কারিকুলাম, পাঠ্যপুস্তক নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় রেগুলেটরি বোর্ড। এর বিরুদ্ধেই আঙুল তুলেছে শিক্ষাদরদি মানুষ এবং ছাত্রসমাজ।
আপত্তির প্রথম কারণটি হল, এটা যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বিরোধী। দ্বিতীয় কারণ, এর মধ্য দিয়ে শিক্ষাকে বিজ্ঞান ভিত্তিক করার পরিবর্তে সাম্প্রদায়িক চিন্তার জারকরসে পরিবেষ্টিত হবে। মোদি সরকার এটাই যে চাইছে, তার প্রমাণ হল এন সি ই আর টি-র সিলেবাসে ঐতিহাসিক ঘটনাবলী বিকৃত করা হচ্ছে, বিজ্ঞানের সত্যগুলো বাতিল করা হচ্ছে, স্বাভাববিকভাবেই এর বিরুদ্ধে শিক্ষিত মহল প্রতিবাদে সোচ্চার।
পিএমশ্রী প্রকল্প স্কুলের় পরিকাঠামো উন্নয়নে ৬০ শতাংশ টাকা দেয়। বাকি ৪০ শতাংশ-এর দায়িত্ব রাজ্যের। রাজ্যকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কেন্দ্রের দেওয়া টাকার ইউটিলাহজেসন সার্টিফিকেট দিতে হবে। রাজ্যগুলি এই প্রকল্পের সময়সীমা অনুযায়ী পাঁচ বছর চালাতে বাধ্য।
এই প্রকল্পটি রূপায়ণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার রাাজ্যগুলোর উপর দিয়ে চলেছে। বিভিন্ন প্রকল্পে কেন্দ্রীয় বরাদ্দের টাকা দেওয়া আটকে দিয়েছে। কেরালায় সিপিএম পরিচালিত রাজ্য সরকারকেও সমগ্র শিক্ষা প্রকল্পে ১৪০০ কোটি টাকা আটকে দিয়েছে বিজেপি সরকার।
কেন্দ্রীয় সরকারের এই বৈষম্যমূলক, প্রতিহিংসাপরায়ণ আচরণের বিরুদ্ধে জনগণকে যুক্ত করে একটা শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলতে পারত ক্ষমতাসীন সিপিএম। কিন্তু কেরালা সরকার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আন্দোলনের পরিবর্তে মোদি সরকারের সঙ্গে প্রকল্প রূপায়ণের জন্য মউ স্বাক্ষর করেছে। অত্যন্ত গোপনে এই স্বাক্ষর পর্ব সেরেছে, এটা জানতে পেরেই এ আই ডি এস ও, এ আই ডি ওয়াই ও, এ আই এম এস এস ২৭ অক্টোবর সেক্রেটারিয়েট ভবন অভিযান করে এই চুক্তি বাতিলের দাবি জানায়। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের উপর জলকামান নিয়ে হামলা চালায় (ছবি)। বামপন্থী চেতনার এবং শিক্ষিত মানুষের কাছে সিপিএম সরকারের এই অবস্থান নিন্দিত হয়। আন্দোলনের চাপে সরকার সাময়িকভাবে এই প্রকল্প রূপায়ণ স্থগিত ঘোষণা করেছে।