Breaking News

অঙ্কিতা ভাণ্ডারির খুনিদের শাস্তির দাবিতে উত্তাল উত্তরাখণ্ড

দেরাদুনে মুখ্য়মন্ত্রীর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ। ৪ জানুয়ারি

উত্তরাখণ্ডে আবারও মানুষ রাজপথে নেমেছেন। অঙ্কিতা ভাণ্ডারির খুনিদের শাস্তি ও প্রধানমন্ত্রী-ঘনিষ্ঠ আরএসএস-বিজেপি নেতাদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ৪ জানুয়ারি দেরাদুনে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে শামিল হলেন হাজার হাজার মানুষ।

২০২২ সালে বিজেপি মন্ত্রী বিনোদ আর্যর রিসর্টে খুন হয়েছিলেন ওই রিসর্টের কর্মী বছর উনিশের অঙ্কিতা ভাণ্ডারি। সম্প্রতি হরিদ্বারের প্রাক্তন বিজেপি মন্ত্রীর স্ত্রী ফাঁস করে দিয়েছেন যে, এই খুনের সঙ্গে উত্তরাখণ্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত আরএসএস নেতা জড়িত। এই খবর প্রচার হতেই প্রতিবাদে মানুষ আবার রাজপথের দখল নিয়েছেন। ৪ জানুয়ারি হাজার হাজার মানুষ মুখ্যমন্ত্রীর ভবন অভিযান করেন। এস ইউ সি আই (সি) সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গণসংগঠন এই বিক্ষোভে অংশ নেয়।

২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ওই রিসর্ট মালিক বিনোদ আর্য অঙ্কিতাকে বলেন, এক ভিআইপি-কে ‘স্পেশাল সার্ভিস’ দিতে হবে। সেই কুপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে মালিকের ছেলে তার দুই সাগরেদকে নিয়ে অঙ্কিতাকে খুন করে এবং দেহ গঙ্গার খালে ফেলে দেয়।

খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রাস্তায় নামে এস ইউ সি আই (সি)। ছাত্র সংগঠন এআইডিএসও, মহিলা সংগঠন এআইএমএসএস জনসাধারণকে যুক্ত করে গড়ে তোলে ‘অঙ্কিতা ভাণ্ডারির ন্যায়বিচার কমিটি’। কমিটির আন্দোলনের চাপে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে বাধ্য হয়। বিচারে তিন দুষ্কৃতীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার এই ভিআইপি-কে বাঁচাতে দুর্বল চার্জ দায়ের করে। কিন্তু সম্প্রতি হরিদ্বারের এক প্রাক্তন বিজেপি নেতার স্ত্রী ওই ভিআইপি-র পরিচয় ফাঁস করে এক অডিও বার্তা সংবাদমাধ্যমে দেন। তাতে জানা যায় যে, উক্ত ভিআইপি প্রধানমন্ত্রীর অতি ঘনিষ্ঠ। মানুষ বুঝতে পারে, এই কারণেই বিজেপি সরকার খুনিদের শাস্তি দিতে নিতান্ত অনিচ্ছুক। প্রধানমন্ত্রীর ‘বেটি পড়াও-বেটি বাঁচাও’ স্লোগান কতটা অন্তঃসারশূন্য ও নিছক কথার কথা, তা এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে যায়। এস ইউ সি আই (সি)-র উত্তরাখণ্ড রাজ্য ইনচার্জ কমরেড মুকেশ সেমওয়াল জানান অঙ্কিতা ভাণ্ডারিরর হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে রাজ্য জুড়ে মোমবাতি মিছিল সহ বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে।