Breaking News
Home / খবর / ৬–১২ ডিসেম্বর সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী সপ্তাহ পালিত

৬–১২ ডিসেম্বর সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী সপ্তাহ পালিত

রাজ্য জুড়ে ধিক্কার

৬–১২ ডিসেম্বর সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী সপ্তাহ পালিত

৬ ডিসেম্বর, মানুষের মনে বারবার ফিরে আসে ১৯৯২ সালের সেই কালো দিনের কথা৷ ৫০০ বছরের এক প্রাচীন সৌধ বাবরি মসজিদকে গাঁইতি–হাতুড়ির ঘায়ে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছিল বিজেপি–আরএসএস–বিশ্ব হিন্দু পরিষদ–বজরঙ্গ দলের দুষ্কৃতী বাহিনী৷ তারপর তাদের মদতপুষ্ট দাঙ্গায় নানা রাজ্যে নিহত হয়েছিলেন হাজারের বেশি মানুষ৷

এই বছর এস ইউ সি আই (সি) দল ডাক দিয়েছিল ৬–১২ ডিসেম্বর সারা বাংলা জুড়ে সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী সপ্তাহ পালনের৷ ৬ ডিসেম্বর রাজ্যের সমস্ত শহর–গঞ্জ–গ্রামীণ বাজার এলাকায় সারা দিনব্যাপী অবস্থান, সভা, সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন বেশ কয়েক হাজার মানুষ৷ সপ্তাহব্যাপী নানা কর্মসূচিতে এলাকায় এলাকায় পদযাত্রা, সাইকেল মিছিল, নাটক–গান–আবৃত্তি সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন গণসংগঠন, ফোরাম ইত্যাদি৷

১২ ডিসেম্বর শিলিগুড়ি এবং কলকাতাতে বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে ধিক্কার মিছিল হয়৷ শিলিগুড়ির মিছিলের শুরুতে বক্তব্য রাখেন দলের রাজ্য কমিটির সদস্য কমরেড অচিন্ত্য সিনহা৷ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন দলের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড নভেন্দু পাল, রাজ্য কমিটির সদস্য কমরেডস তপন ভৌমিক, শিশির সরকার, গৌতম ভট্টাচার্য ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ৷ মিছিলে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি থেকে সহস্রাধিক কর্মী–সমর্থক অংশগ্রহণ করেন৷

কলকাতার লেনিন মূর্তি থেকে বিশাল মিছিল রাজাবাজার পর্যন্ত যায়৷ নেতৃত্ব দেন দলের পলিটব্যুরো সদস্য কমরেড সৌমেন বসু, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক কমরেড চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য সহ কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃবৃন্দ৷ পাঁচ হাজারের বেশি মানুষের এই সুসজ্জিত মিছিল মানুষকে প্রভাবিত করে৷ মিছিল দেখে অভিভূত একজন সাধারণ মানুষ ছুটে এসে মিছিলের নেতৃবৃন্দের হাতে ৫০০ টাকা দিয়ে যান৷ তিনি বলে যান, আপনারা এমন এক মিছিল করেছেন বলে অভিনন্দন রইল৷ রাজাবাজারে মিছিলের শেষে সভায় বক্তব্য রাখেন দলের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড অনুরূপা দাস, কমরেড চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য৷ কলকাতা জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড জুবের রব্বানি উর্দুতে বক্তব্য রাখেন৷

কমরেড চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য তাঁর বক্তব্যে বলেন, নিকৃষ্ট ভোট রাজনীতির স্বার্থে বিজেপি সাম্প্রদায়িকতাকে দেশে ছড়াচ্ছে৷ তার সাথে সাধারণ মানুষের ধর্ম বিশ্বাসের কোনও সম্পর্ক নেই৷ ধর্ম–বর্ণ–সম্প্রদায় নির্বিশেষে খেটে খাওয়া মানুষের আন্দোলনই যে এই সাম্প্রদায়িকতাকে রোখার হাতিয়ার তা তুলে ধরেন তিনি৷

(গণদাবী : ৭১ বর্ষ ১৯ সংখ্যা)