Home / অন্য রাজ্যের খবর / ২১ ছাত্রের মৃত্যু নগ্ন করে দিল ‘উন্নত’ গুজরাটের ভেতরকার চেহারা

২১ ছাত্রের মৃত্যু নগ্ন করে দিল ‘উন্নত’ গুজরাটের ভেতরকার চেহারা

২৪ মে গুজরাটের সুরাটে একটি বহুতল বিল্ডিংয়ে অগ্নিকাণ্ডে সেখানের এক কোচিং সেন্টারের ২১ জন ছাত্রছাত্রী আগুনে দগ্ধ হয়ে অথবা প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে ঝাঁপ দিয়ে মারা গিয়েছেন৷ সারা দেশের মানুষ টিভি চ্যানেলে সেই আতঙ্কের দৃশ্য দেখে শিউরে উঠেছেন৷ এই ধরনের ঘটনা গুজরাটে এই প্রথম নয়৷ গত দু’বছরে এই সুরাট শহরেই ১১টি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে৷ তাতে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে৷ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানিকে    দেওয়া এক স্মারকপত্রে এস ইউ সি আই (সি) গুজরাট রাজ্য সম্পাদক কমরেড মীনাক্ষী যোশী প্রশ্ন তুলেছেন, এ থেকে কী শিক্ষা নিয়েছে রাজ্যের বিজেপি সরকার? কী ভূমিকা নিয়েছে মানুষকে বাঁচানোর?

সরকার যে কোনও ভূমিকাই পালন করেনি ২১ জন ছাত্রছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল৷

সংবাদে ইতিমধ্যেই প্রকাশিত, বিল্ডিংটি নির্মিত হয়েছে বেআইনিভাবে৷ অনুমতি নাকি ছিল একটি মাত্র ঘর তৈরির৷ সেখনে বহুতল উঠে গেল অথচ বিজেপি সরকারের কর্তারা দেখতে পেলেন না– এ কি আদৌ বিশ্বাসযোগ্য? না কি তাদের দৃষ্টিকে ঝাপসা করে দিয়েছে কালো টাকার পাহাড়? এই বহুতলটির ছাদে ছিল কোচিং সেন্টার৷ তার দেওয়াল এবং ছাদ ছিল প্লাস্টিকের তৈরি৷ আগুন লাগলে সেখান থেকে বেরোনোর কোনও বিকল্প রাস্তা ছিল না৷ এ সি ডাক্ট থেকে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও নেভানোর কোনও ব্যবস্থা ছিল না৷ সব শেষ হয়ে যাওয়ার পর রাজ্যের সমাজকল্যাণমন্ত্রী কিশোর কানানির বোধেদয় হয়েছে, বলেছেন, ‘এই বাড়িটিই বেআইনি ছিল ও অগ্নি নির্বাপক কোনও ব্যবস্থা ছিল না৷ তারা আগুন প্রতিরোধ করার কোনও ব্যবস্থাই রাখেনি৷ (এই সময় ১৫.০৫.২০১৯)৷

উন্নয়নের স্বর্গরাজ্য গুজরাটের দমকল বাহিনী কার্যত ঠুঁটো বলে প্রমাণ হল৷ উন্নত যন্ত্রপাতি দূরের কথা, ছাত্রছাত্রীরা লাফিয়ে যাতে প্রাণ বঁচাতে পারে তার জন্য একটু জালের ব্যবস্থাও করতে পারেনি তারা এই সমস্ত ঘটনা দেখিয়ে দেয় গুজরাটে জনস্বার্থ কী সাংঘাতিকভাবে উপেক্ষিত, অবহেলিত৷ অথচ এই গুজরাটকেই সম্পূর্ণ মিথ্যার মোড়কে ভাইব্র্যান্ট গুজরাট হিসাবে দিনের পর দিন প্রচার করেছে বিজেপি নেতারা এবং বুর্জোয়া মিডিয়া৷

সে প্রচারে বিভ্রান্ত হয়েছে অনেকেই৷ কিছু ঝাঁ চকচকে রাস্তা আর উড়ালপুল অথবা সূদৃশ্য বিল্ডিং করাই যে উন্নয়ন নয়, উন্নয়ন বলতে যে বোঝায় জনস্বার্থের উন্নয়ন, উন্নত নাগরিক জীবন, উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা, উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থা, চাকরির সহজলভ্যতায়– এগুলো কোথায়? মুষ্টিমেয় পুঁজিপতির স্বার্থ রক্ষা করাই তো যথার্থ উন্নয়নের মাপকাঠি হতে পারে না৷

গুজরাটের ভেতরটা যত ফোঁপরাই হোক, বাইরের চাকচিক্য দেখে সম্প্রতি মোদি ভক্ত হয়েছেন, রায়গঞ্জের সিপিএম সমর্থক রিনা সাহা৷ বিজেপির হয়ে প্রচার করা তাঁর এক ভিডিও ভাইরাল হয়ে দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে৷ তা নাকি মোদির কছেও পৌঁছেছে৷ কী বলেছেন রিনা?

বলেছেন ‘‘হাম কাস্তে–হাতুড়ি–তারা হ্যায়৷ কিন্তু আমি মোদি সরকার কো সাপোর্ট করতা হ্যায়৷’’ গুজরাট মে স্বর্গ হুয়া হ্যায়৷ রিনা সহ সিপিএমের সব কর্মী–সমর্থক যারা বিজেপিকে সমর্থন করেছেন, ভোট দিয়েছেন, তাঁদের ভেবে দেখতে অনুরোধ করব কী ধরনের স্বর্গ রাজ্য মোদি সরকার তৈরি করেছে৷ পশ্চিমবঙ্গে যে বিজেপিকে ১৮টি আসনে জয়ী হতে তাঁরা সাহায্য করলেন, সেই বিজেপি রাজ্যে রাজ্যে কী রকম জনবিরোধী নীতি নিয়ে চলছে একবার ভেবে দেখুন৷ বিজেপি সোনার বংলা গড়বে না, বাংলার সংস্কৃতি, বাংলার প্রগতিশীল চিন্তাধারাকে ধ্বংস করে বাংলাকে কয়েক যুগ পিছিয়ে দেবে ভেবে দেখুন৷ গুজরাটকে স্বর্গ বললে নরকও লজ্জা পায়৷

(গণদাবী : ৭১ বর্ষ ৪২ সংখ্যা)