Home / খবর / সিইএসসি-র বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধির প্রচেষ্টা প্রতিহত করুন

সিইএসসি-র বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধির প্রচেষ্টা প্রতিহত করুন

 

ফাইল চিত্র

ইউনিট প্রতি গড় মাশুল ২.১৪ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব দিল সিইএসসি। ৩০ সেপ্টেম্বর রাজ্য বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের কাছে সিইএসসি কর্তৃপক্ষ এই মাশুল বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে। করোনা মহামারি জনিত লকডাউনে ধারাবাহিক ভাবে ক্ষুদ্র শিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসা বন্ধ। লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি কর্মহীন শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হকার, পরিচারিকা, রিকসা-ভ্যান চালক, মুটে মজুর, দিন মজুর, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী-অস্থায়ী-ঠিকা শ্রমিক, ভিক্ষুক সহ প্রায় ৭০ শতাংশ জনসাধারণ। সংসার প্রতিপালন করতে না পারার গ্লানি থেকে মুক্তি পেতে চলেছে আত্মহত্যার মিছিল। উপযুক্ত এবং সঠিক চিকিৎসার অভাবে অকালে ঝরে যাচ্ছে কতো সমাজকর্মী, চিকিৎসক সহ সাধারণ মানুষের প্রাণ। এই অবস্থায় মাশুলবৃদ্ধি গ্রাহকদের উপর বিরাট আঘাত।

মুনাফা অটুট রাখতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর যে কোনও প্রয়োজন নেই অ্যাবেকা আগেই বলেছিল। অ্যাবেকার বক্তব্য ২০১৬-১৭ সাল থেকে কয়লার দাম ৪০ শতাংশ কমেছে, কয়লার উপর জিএসটি ৭ শতাংশ কমেছে এবং কোম্পানির বাণিজ্যিক ও কারিগরী ক্ষতি ২ শতাংশ কম হওয়ার কারণে এ রাজ্যে বিদ্যুতের মাশুল ৫০ শতাংশ কমানো যায়। এই দাবিতে অ্যাবেকা আন্দোলন করে আসছে। আমফান ঝড়ে এবং লকডাউনের কারণে কমপক্ষে তিনমাস প্রতিমাসে ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ বিনামূল্যে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছে অ্যাবেকা। ইতিমধ্যে এস্টিমেটেড বা গড় বিল সংশোধনের দাবি আংশিক হলেও আদায় হয়েছে। ঐ বিলের বাড়তি টাকা মকুবের দাবিতে আন্দোলন চলছে। দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ এই বিদ্যুতের বিলের টাকাই পরিশোধ করতে অপারগ। এই অবস্থায় ৩০ সেপ্টেম্বর সিইএসসি কর্তৃপক্ষ ২০২০-২১, ২০২১-২২, ২০২২-২৩ এই তিন বছরের জন্য গড়ে যথাক্রমে প্রতি ইউনিট ৯ টাকা ১৬ পয়সা, ৮ টাকা ৯৫ পয়সা, ৮ টাকা ৭৮ পয়সা করবার প্রস্তাব দাখিল করেছে বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের কাছে। বর্তমানে এই গড় ৭.০২ টাকা। অ্যাবেকা এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে তা সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি জানিয়েছে।

সিইএসসি কর্তৃপক্ষ গত বেশ কয়েকদিন ধরে দৈনিক সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে ধূর্ততার সাথে মানুষকে বোঝাতে চাইছিল যে দেশের মধ্যে কলকাতাতেই বিদ্যুতের দাম সবচেয়ে কম আছে। এই বিজ্ঞাপনে গড় দাম দেখানো হয়েছে। কিন্তু দেশের মধ্যে পশ্চিমবাংলাতে শিল্প বিদ্যুতের দাম গৃহস্থ বিদ্যুতের দামের তুলনাতে অন্যান্য রাজ্যগুলোর থেকে কম। অর্থাৎ এখানে শিল্প বিদ্যুতের দাম অন্য রাজ্যগুলোর থেকে কম কিন্তু গৃহস্থ বিদ্যুতের দাম অন্য রাজ্যগুলোর থেকে বেশি। এই সত্যটা তারা গোপন করল। গড় দাম বলে দিল। গৃহস্থ বিদ্যুৎ গ্রাহকরা শুধু নিজেদের প্রয়োজনে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। বাণিজ্যিক ও শিল্পে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ তাদের মুনাফা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এই বিচারে কলকাতাতে গৃহস্থে প্রথম ১০০ ইউনিটের দাম দেশের সমস্ত র্যাজ্যের তুলনায় বেশি। যেমন দিল্লিতে প্রথম ২০০ ইউনিট বিনামূল্যে। অন্যান্য রাজ্যগুলোতে শহরাঞ্চলে প্রথম ১০০ ইউনিটের জন্য গ্রাহককে দিতে হয় তামিলনাড়ুতে ১৫০ টাকা, গুজরাটে ৩২৭.৫০ টাকা, অন্ধ্রপ্রদেশে ২৬০ টাকা, কেরালাতে ৩৪২ টাকা, কর্নাটকে ৩৭৬ টাকা, ওড়িশাতে ৩৪০ টাকা, বিহারে ৪২২ টাকা, তেলেঙ্গানায় ২০২.৫০ টাকা, মহারাষ্টে্র ৩৪৬ টাকা, পাঞ্জাবে ৪৪৯ টাকা, হরিয়ানায় ৩৬০ টাকা, রাজস্থানে ৫৬২.৫০ টাকা, উত্তরপ্রদেশে ৩৩৫ টাকা, ত্রিপুরাতে ৫৪১ টাকা। আর কলকাতার সিইএসসি-তে ৫৯৭ টাকা, রাজ্য বিদ্যুৎ বন্টন কোম্পানির শহরাঞ্চলে ৬১৪ টাকা, গ্রামাঞ্চলে ৬০০ টাকা। অর্থাৎ গৃহস্থ বিদ্যুৎ ইতিমধ্যেই অন্য রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে বেশি। এই অবস্থায় আবারও মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব গ্রাহকদের উপর মারাত্মক আঘাত। অ্যাবেকা এর প্রতিরোধের ডাক দিয়েছে।

(ডিজিটাল গণদাবী-৭৩ বর্ষ ১০ সংখ্যা_১০ নভেম্বর, ২০২০)