Breaking News
Home / খবর / সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতার ঐতিহ্য অটুট রাখতে হবে জিম্বাবোয়ের জনগণকে

সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতার ঐতিহ্য অটুট রাখতে হবে জিম্বাবোয়ের জনগণকে

জিম্বাবোয়ের প্রেসিডেন্ট পদ ও জিম্বাবোয়ে আফ্রিকান ন্যাশনাল ইউনিয়ন প্যাট্রিয়টিক ফ্রন্ট (জানু–পিএফ) দলের ফার্স্ট সেক্রেটারির পদ

থেকে সরে দাঁড়ালেন আফ্রিকার দেশগুলির ঐক্য ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের দীর্ঘদিনের নেতা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল মুগাবে৷ তাঁর পদত্যাগের জন্য দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বই মূলত দায়ী বলে সংবাদমাধ্যমে প্রচার চললেও পিছনে থেকে গেছে অনেক কথা৷

জিম্বাবোয়ের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও মুগাবে

আফ্রিকা মহাদেশ বহু বছর ধরে ইউরোপের ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলির লুন্ঠনক্ষেত্র হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে৷ এখানকার মূল্যবান খনিজ সম্পদ আর সস্তা শ্রম কাজে লাগিয়ে মুনাফার ভাণ্ডার ভরিয়েছে ইউরোপের সাম্রাজ্যবাদীরা, আফ্রিকার লক্ষ লক্ষ কালো মানুষকে দাস হিসাবে ইউরোপ–আমেরিকায় চালান করেছে৷ জিম্বাবোয়ে ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের পদানত৷ ১৯৮০ পর্যন্ত দেশটির নাম ছিল রোডেশিয়া৷ ১৮৭০–এর দশকে ব্রিটিশ ব্যবসায়ী সিসিল রোডেশ এখানকার মূল্যবান হিরে লুঠ করে তৈরি করেছিলেন ‘ডি বিয়ার্স মাইনিং কোম্পানি’৷ তাঁর নাম থেকেই আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের এই দেশটির নাম হয়েছিল রোডেশিয়া৷ ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকের দল ক্রমে ক্রমে জিম্বাবোয়ের আদি বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করে সেখানকার কৃষিজমি দখল করতে থাকে৷ ১৯১৪ সালের মধ্যে জিম্বাবোয়ের বিপুল পরিমাণ জমি চলে আসে ব্রিটিশ দখলদারদের কব্জায়৷ রোডেশিয়ার জমিতে খাদ্যশস্যের বদলে চাষ হতে থাকে তামাকের মতো বাণিজ্যিক ফসল যা বিক্রি করে বিপুল মুনাফা লুটতে থাকে শ্বেতাঙ্গরা৷ অন্যদিকে সেখানকার আদত বাসিন্দা গরিব কৃষ্ণাঙ্গ মানুষ মরতে থাকে খাদ্যের অভাবে৷

এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে একসময় রুখে দাঁড়ায় জিম্বাবোয়ের মানুষ৷ শুরু হয় স্বাধীনতার লড়াই৷ সেই লড়াইয়ে তরুণ বয়সেই যুক্ত হয়েছিলেন মুগাবে৷ ১৯৫০–এর দশকের শেষ দিকে ও ’৬০–এর দশকের প্রথম দিকে পশ্চিম আফ্রিকার ঘানাতে গিয়ে পড়াশোনা  করেন মুগাবে৷ শিক্ষকতায় যুক্ত হয়েছিলেন তিনি৷ ঘানা তখন ছিল আফ্রিকার দেশে দেশে মানুষের ঐক্যবদ্ধতার আন্দোলন তথা প্যান–আফ্রিকানিজমের উৎসস্থল৷ ব্রিটিশ শাসক দশ বছর মুগাবেকে জেলবন্দি করে রাখে৷ মুক্তি পাওয়ার পর  জানু–র সর্বক্ষণের কর্মী হিসাবে তাঁকে তানজানিয়া ও মোজাম্বিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়৷ সেখানে জশুয়া নকোমোর নেতৃত্বাধীন জাপু (জিম্বাবোয়ে আফ্রিকান পিপলস ইউনিয়ন) দলের সঙ্গে একযোগে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলতে মুগাবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেন৷ ১৯৮০–তে দক্ষিণ রোডেশিয়ায়  নির্বাচন  হয়৷  জোট  সরকার  ক্ষমতায়  আসে, প্রধানমন্ত্রী হন মুগাবে৷ পাঁচ বছর পর ’৮৫–তে জিম্বাবোয়ে প্রজাতন্ত্র হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে, প্রধান রাজনৈতিক দল হিসাবে সামনে আসে জানু–পিএফ৷ ’৮৭ সালে জানু ও জাপু ঐক্যবদ্ধ হয়ে শাসক দল হিসাবে কাজ চালাতে শুরু করে৷ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন রবার্ট মুগাবে৷

ক্ষমতায় বসে প্রেসিডেন্ট মুগাবে ২০০০ সালে শ্বেতাঙ্গদের দখল করা কৃষিজমি অধিগ্রহণের কর্মসূচি গ্রহণ করেন৷ উদ্ধার করা জমি দেশের কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের হাতে তুলে দেন তিনি৷ এঁরাই ছিলেন সেইসব জমির ন্যায্য অধিকারী৷ এই কৃষ্ণাঙ্গ চাষিরাই ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে মুগাবের সাথী৷ মুগাবের এই পদক্ষেপে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ৷ ২০০২ সালে তাঁরা জিম্বাবোয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন৷ তাতে দমে যাননি মুগাবে৷ ২০০৯ সালে তিনি স্বদেশীকরণ এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন আইন (আই ই ই এ) প্রণয়ন করেন৷ এই আইনে বিভিন্ন কোম্পানির ৫১ শতাংশের মালিকানা জিম্বাবোয়ের কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিকদের হাতে রাখার কথা বলা হয়েছে৷ উদ্দেশ্য ছিল জিম্বাবোয়ের অর্থনীতিকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ও বিদেশি কর্পোরেট পুঁজির আধিপত্য থেকে মুক্ত করা৷ এতে আরও ক্ষিপ্ত হয় সাম্রাজ্যবাদীরা৷ মুগাবের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাতে থাকে তাদের পরিচালিত মিডিয়া৷ প্রেসিডেন্ট মুগাবের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের নানা অভিযোগ বিভিন্ন মহল থেকে তোলা হতে থাকে৷ তা সত্ত্বেও দেশের স্বাধীনতার জন্য তাঁর সংগ্রাম এবং প্রেসিডেন্ট হিসাবে সাম্রাজ্যবাদীদের বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপের কারণে শুধু জিম্বাবোয়ে নয়, গোটা আফ্রিকার স্বদেশপ্রেমী সাম্রাজ্যবাদবিরোধী মানুষই মুগাবের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল৷

প্রেসিডেন্ট পদ থেকে মুগাবের অপসারণ

জিম্বাবোয়ের বর্তমান সমস্যার শুরু এ বছর নভেম্বরে৷ একটি যুবসভায় ভাষণরত প্রেসিডেন্টপত্নী গ্রেস মুগাবেকে কিছু লোক অপদস্থ করে৷ এর পরেই ভাইস–প্রেসিডেন্ট মানগাগওয়াকে পদচ্যুত করে সমস্ত দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেয় প্রেসিডেন্টের দপ্তর৷ বলা হয়, মানগাগওয়ার নেতৃত্বে একটি গোষ্ঠী মুগাবেকে হঠাতে চাইছে এবং তারাই রয়েছে গ্রেসের হেনস্থার পিছনে৷ কমপক্ষে আরও ১০০ জন কর্মীকেও দল থেকে বের করে দেওয়া হবে বলে খবর প্রচারিত হতে থাকে৷ এর বিরুদ্ধে ১৩ নভেম্বর জিম্বাবোয়ের সেনাবাহিনীর কম্যান্ডার জেনারেল কন্সটানটিনো চিওয়েঙ্গা ৯০ জন মিলিটারি–অফিসারকে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন৷ সেখানে তিনি ঘোষণা করেন, এই বহিষ্কার পর্ব বন্ধ করা না হলে তাঁরা ব্যবস্থা নেবেন৷

ইতিমধ্যে বিদেশি সংবাদসংস্থা ও সোস্যাল মিডিয়া প্রচার করতে থাকে যে, রাজধানী হারারের রাস্তায় মিলিটারি ট্যাঙ্ক টহলদারি চালাচ্ছে৷ যদিও ১৫ নভেম্বর সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল টেলিভিশনে ঘোষণা করেন, দেশে কোনও সেনা–ভ্যুত্থান হয়নি৷ ১৯ নভেম্বর আন্তর্জাতিক প্রচারমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, জানু–পিএফ–এর কেন্দ্রীয় কমিটিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে ২০ নভেম্বরের মধ্যে প্রেসিডেন্ট মুগাবেকে পদত্যাগ করতে হবে৷ এত কিছু সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট মুগাবে পদত্যাগ করতে চাননি৷ শেষপর্যন্ত তাঁর নিজের দলই পার্লামেন্টে তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের প্রস্তাব আনে৷ জিম্বাবোয়ের জাতীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠনও মুগাবের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়৷ হারারের রাস্তায় প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে মিছিল হয়৷ শেষপর্যন্ত পদত্যাগপত্র পেশ করেন প্রেসিডেন্ট মুগাবে৷ হারারের রাস্তায় উল্লসিত জনতার উৎসবের ছবি প্রচার করতে থাকে আন্তর্জাতিক প্রচারমাধ্যম৷

 

উল্লসিত সাম্রাজ্যবাদীরা

মুগাবেকে জানু–পিএফ দলের নেতৃত্ব এবং প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (বিবিসি) এই খবর প্রকাশ করতেই লন্ডনের সরকারি মহলে খুশির হাওয়া বইতে শুরু করে৷ সঙ্গে সঙ্গেই নিজেদের পুরনো উপনিবেশ জিম্বাবোয়ের নতুন সরকারের কোন পথে হাঁটা উচিত, সে বিষয়ে পরামর্শ দিতে শুরু করে তারা৷ ব্রিটিশ বিদেশমন্ত্রী বরিস জনসন ট্যুইটারে মন্তব্য করেন, মুগাবের পদত্যাগ জিম্বাবোয়ের মানুষকে আশান্বিত করল৷ ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে–ও একই সুরে বলেন, ‘মুগাবের শাসনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল নিপীড়ন৷ … ইদানীং আমরা দেখেছি, জিম্বাবোয়ের মানুষ অবাধ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বৈধ সরকার গড়ে দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন করতে চাইছেন’ (আল–জাজিরা, ২১ নভেম্বর)৷ ২২ নভেম্বর প্রকাশিত বিবিসি–র একটি প্রবন্ধে মন্তব্য করা হয়েছে, মুগাবের পদত্যাগে দেশজোড়া উল্লাস উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশা জাগিয়েছে৷ কিন্তু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের উন্নতি ঘটাতে গেলে নতুন সরকারকে কিছু কঠিন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে৷

ব্রিটেনের মতো খুশি সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন প্রশাসনও৷ মুগাবেকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পিছনে তাদের ভূমিকার নানা খবর প্রকাশিত হয়েছে৷ ভয়েস অফ আমেরিকা ২১ নভেম্বর প্রকাশিত এক রিপোর্টে জিম্বাবোয়ের জানু–পি এফ সরকারের কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে সে দেশের ভিতরকার বিরোধী গোষ্ঠীগুলির গোপন কথাবার্তার কথা স্বীকার করেছে৷ তারা বলেছে, জিম্বাবোয়ের উপর থেকে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার শর্ত হিসাবে, বিরোধীদের সরকার গঠনের অধিকার দেওয়া, মানবাধিকার রক্ষা ইত্যাদি নানা ধরনের সংস্কারমূলক কর্মসূচি নেওয়ার ব্যাপারে জোর দিচ্ছে আমেরিকা৷ তাদের আঙুল যে মূলত মুগাবের জমি অধিগ্রহণ কর্মসূচি ও স্বদেশীকরণ আইন বাতিল করানোর দিকে, তা বুঝতে অসুবিধা হয় না৷ জানু–পিএফ এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে জিম্বাবোয়েতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আড়ালে কথাবার্তা চালাচ্ছেন বলেও জানিয়েছে ভয়েস অফ আমেরিকা৷

আফ্রিকায় সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতার মুখ ছিলেন মুগাবে

মুগাবের অপসারণে ব্রিটিশ ও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ এত আনন্দিত কেন? জিম্বাবোয়ের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুগাবে একজন বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদী হওয়া সত্ত্বেও কেনই বা তারা বরাবর তাঁর বিরুদ্ধতা করে এসেছে? এর কারণ, প্রথমত জিম্বাবোয়ের যে জাতীয় মুক্তি আন্দোলন জাতিবিদ্বেষী বর্ণবিদ্বেষী সাম্রাজ্যবাদী ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটিয়েছে, মুগাবে ছিলেন তার নেতা৷ দ্বিতীয়ত, মুগাবে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে শ্বেতাঙ্গ দখলদারদের কবল থেকে জমি উদ্ধার করে তা ফিরিয়ে দিয়েছেন দেশের কৃষ্ণাঙ্গ স্বাধীনতা–যোদ্ধাদের হাতে৷ সাম্রাজ্যবাদীদের বিরুদ্ধে মুগাবের এই বলিষ্ঠ ভূমিকা ব্রিটেন–আমেরিকার অসন্তুষ্টির বড় কারণ৷

আফ্রিকার দেশগুলির মধ্যে ঐক্য–সংহতি বাড়ানোর কাজে মুগাবে ছিলেন খুবই উদ্যোগী৷ প্রেসিডেন্ট মুগাবের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবোয়ে আফ্রিকার দেশগুলির ঐক্য এবং সাম্রাজ্যবাদবিরোধিতা আদর্শগত ও রাজনৈতিক ভিত্তিভূমি হিসাবে কাজ করেছে৷ তিনি ২০১৫ সালে আফ্রিকান ইউনিয়নের প্রধান নির্বাচিত হন৷ এই পদে থেকে তিনি সদস্য দেশগুলির মধ্যে অর্থনৈতিক সংহতি বাড়ানোর এবং পশ্চিমী সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলির হাত থেকে মুক্তির বিষয়টির অগ্রগতি ঘটাচ্ছিলেন৷ ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট মুগাবে আফ্রিকান ইউনিয়নকে ১০ লক্ষ ডলার দিয়ে এই সংগঠনটির প্রতি সদস্য দেশগুলির দায়বদ্ধতার উদাহরণ সৃষ্টি করেছিলেন৷ স্বভাবতই সাম্রাজ্যবাদীরা এসব ভাল চোখে দেখেনি৷

গত দশকে তৈরি হওয়া ইউএস–আফ্রিকা কম্যান্ড বা আফ্রিকমের বিরোধিতাও মুগাবের উপর সাম্রাজ্যবাদীদের ক্রোধের আরও একটি কারণ৷ আফ্রিকা মহাদেশের সামনে বর্তমানে ‘আফ্রিকম’ একটি কঠিন বিপদ৷ আফ্রিকা মহাদেশে সামরিক আধিপত্য কায়েম করার লক্ষ্যেই এই সংগঠন তৈরি করেছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ৷ এটি তৈরি হওয়ার পর থেকেই আফ্রিকার দেশে দেশে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা পেন্টাগনের নাক গলানো বেড়েই চলেছে৷ সোমালিয়া, নাইজার, মালি, নাইজেরিয়া সহ আফ্রিকার যেখানেই আফ্রিকম নাক গলিয়েছে,  সাম্রাজ্যবাদী লুটের স্বার্থে সেখানেই নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থায়িত্ব বিপন্ন করে তুলেছে৷ দ্বন্দ্বে দীর্ণ হয়েছে এইসব দেশ, বেড়েছে অর্থনৈতিক সঙ্কট, বাসভূমি থেকে জনগণের উচ্ছেদ সহ অন্যান্য সমস্যা৷ মুগাবে নেতৃত্বাধীন জানু–পিএফ সরকার জিম্বাবোয়েতে আফ্রিকমকে জায়গা করতে দেয়নি৷ সব মিলিয়ে মুগাবে গোটা আফ্রিকা মহাদেশে ছিলেন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতার মুখ৷

 

জিম্বাবোয়ের ভবিষ্যৎ স্থির করবে সে দেশের জনগণ

এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে, মুগাবের অনুপস্থিতি ব্রিটেন ও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে জিম্বাবোয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোয় সুবিধা করে দেবে৷ ইতিমধ্যেই তারা সে দেশে ‘অবাধ নির্বাচন’ করার কথা বলতে শুরু করেছে, যার পিছনে আসল লক্ষ্য হল নিজেদের প্রভাবাধীন পুতুল সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়ে জিম্বাবোয়ের প্রাকৃতিক সম্পদ ও শ্রমশক্তির উপর সাম্রাজ্যবাদী লুটপাট চালানো৷

স্থির হয়েছে, জিম্বাবোয়েতে নতুন সরকার গঠিত হবে পূর্বতন ভাইস প্রেসিডেন্ট মানগাগওয়ার নেতৃত্বে৷ সেই সরকার কোন লক্ষ্যে পরিচালিত হবে ভবিষ্যতই তা বলবে৷ এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, সাম্রাজ্যবাদী ঔপনিবেশিকদের হাত থেকে জাতীয় মুক্তি অর্জন, আফ্রিকার দেশগুলির মধ্যে ঐক্য স্থাপন করে গোটা মহাদেশকে সাম্রাজ্যবাদীদের শোষণ থেকে মুক্ত করার আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামের ক্ষেত্রে রবার্ট মুগাবে ও তাঁর জানু–পিএফ দল উজ্জ্বল উদাহরণ স্থাপন করেছেন৷ প্রেসিডেন্ট পদ থেকে মুগাবের অপসারণের পর জিম্বাবোয়ে তাঁর অনুসৃত পথেই হাঁটবে, নাকি নতুন করে সাম্রাজ্যবাদী শোষণের শিকারে পরিণত হবে, সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে সে দেশের সাধারণ মানুষকেই৷