Home / খবর / সাম্যবাদের মূল নীতি : ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস

সাম্যবাদের মূল নীতি : ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস

 

১৮৪৭ সালে কমিউনিস্ট লিগের প্রতিষ্ঠা সম্মেলনে একটি কর্মসূচি তৈরির সিদ্ধান্ত হয়৷ রচনার দায়িত্ব নেন লিগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস৷ প্রথম খসড়াটির নাম রাখা হয়েছিল, ‘কনফেশন অফ ফেথ’৷ এই খসড়াটির কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি৷ প্রশ্নোত্তরে লেখা বর্তমান রচনাটি দ্বিতীয় খসড়া রূপে এঙ্গেলস তৈরি করেন৷ কমিউনিজমের আদর্শকে সহজ ভাষায় বোঝাবার জন্য প্রশ্নোত্তর রূপে লিখলেও, এঙ্গেলস এতে সন্তুষ্ট ছিলেন না৷ ১৮৪৭–এর ২৩ নভেম্বর মার্কসকে এক চিঠিতে তিনি লেখেন– প্রশ্নোত্তরে লেখাটার উপর একটু ভাবনা–চিন্তা কোরো৷ আমার মনে হয়, এভাবে চলবে না৷ ইতিহাসের ঘটনাবলি কিছু যুক্ত করেই এটা দাঁড় করাতে হবে এবং নামও হওয়া উচিত ‘কমিউনিস্ট ইস্তাহার’৷ ১৮৪৮ সালেই প্রকাশিত হয় মার্কস–এঙ্গেলস রচিত কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো বা ইস্তাহার৷ সুতরাং বর্তমান প্রশ্ণোত্তরের লেখাটিকে কমিউনিস্ট ইস্তাহারের খসড়া হিসাবেই দেখতে হবে৷ এঙ্গেলসের ২০০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা লেখাটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করছি৷

 

প্রশ্ন : কমিউনিজম কী?

উত্তর : কমিউনিজম হল সর্বহারা শ্রেণির মুক্তির জন্য আবশ্যক শর্তাবলি সংক্রান্ত মতবাদ৷

প্রশ্ন : সর্বহারা শ্রেণি কী?

উত্তর : সর্বহারা শ্রেণি হল সমাজের সেই শ্রেণি যারা জীবনধারণের রসদ জোগাড় করে সম্পূর্ণভাবে ও কেবলমাত্র শ্রম বিক্রি করে, কোনও রকম পুঁজি থেকে পাওয়া লাভ দিয়ে নয়৷ যাদের সৌভাগ্য–দুর্ভাগ্য, জীবন–মরণ, সমগ্র অস্তিত্ব নির্ভর করে শ্রমের চাহিদার উপর, ব্যবসা–বাণিজ্যের ভাল আর মন্দ পালা–বদলের উপর, লাগামছাড়া প্রতিযোগিতার ওঠা–পড়ার উপর৷ এক কথায় প্রলেতারিয়েত বা সর্বহারা শ্রেণি হল উনিশ শতকের শ্রমিক শ্রেণি৷

প্রশ্ন : তা হলে কি সর্বহারা শ্রেণি সব যুগে ছিল না?

উত্তর : না৷ গরিব মানুষ আর মেহনতি শ্রেণি সবসময়েই থেকেছে৷ মেহনতি শ্রেণিগুলির বেশির ভাগই ছিল গরিব৷ কিন্তু আজকের দিনে যে পরিস্থিতিতে গরিব মেহনতি মানুষের বাস, তা আগে ছিল না৷ অর্থাৎ সর্বহারা শ্রেণি সব যুগে ছিল না৷ ঠিক যেমন এই ধরনের বল্গাহীন অবাধ প্রতিযোগিতার যুগও চিরকাল ছিল না৷

প্র : সর্বহারা শ্রেণির উদ্ভব হল কী ভাবে?

উত্তর : শিল্প বিপ্লবের ফল হিসাবেই সর্বহারা শ্রেণির জন্ম হয়েছিল, যে বিপ্লব গত শতাব্দীর (অষ্টাদশ) দ্বিতীয়ার্ধে হংল্যান্ডে সংঘটিত হয়েছিল এবং সেখান থেকে দুনিয়ার সমস্ত সভ্য দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল৷

স্টিম ইঞ্জিন, সুতো কাটার নানাবিধ যন্ত্র, যন্ত্র চালিত তাঁত এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতির বিপুল সম্ভার আবিষ্কৃত হওয়ার ফলে শিল্পবিপ্লব দ্রুতগতিতে বাস্তব রূপ নিতে থাকল৷ এই সমস্ত যন্ত্র অত্যন্ত ব্যয়বহুলহওয়ায় একমাত্র বৃহৎ পুঁজিপতিদের পক্ষেই তা কেনা সম্ভব ছিল৷ এই নতুন যন্ত্র এবং প্রযুক্তি উৎপাদনের পুরো পদ্ধতিটাকেই পাল্টে দিল৷ সাথে সাথে আগেকার কারিগর এবং হস্তশিল্পীদেরও উচ্ছেদ করে দিল৷ কারণ, হস্তশিল্পীরা তাদের পুরনো চরকা ও হস্তচালিত তাঁতের সাহায্যে যা ডৎপাদন করত তার তুলনায়মেশিন এখন অনেক সস্তায় অনেক উন্নতমানের পণ্য উৎপাদন করতে সক্ষম হল৷ এই সব যন্ত্রপাতিই শিল্পোদ্যোগকে পুরোপুরি তুলে দিল বৃহৎ পুঁজিপতিদের হাতে এবং হস্তশিল্পীদের হাতে থাকা অকিঞ্চিতকর সম্পত্তিকে (যেমন– ছোটখাটো যন্ত্রাদি, তাঁত ইত্যাদি) নেহাত অকেজো জিনিসে পর্যবসিত করল৷ এইভাবে অচিরেই পুঁজিপতিরা হয়ে গেল সবকিছুর মালিক৷ শ্রমিকদের হাতে আর রইল না কিছুই৷ এইভাবেই বস্ত্রশিল্পে কারখানাভিত্তিক ডৎপাদন ব্যবস্থা সূচিত হল৷

যন্ত্রপাতি ও কারখানা ভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থা চালু হওয়ার সাথে সাথেই শিল্পোৎপাদনের সমস্ত শাখায়, বিশেষ করে পোশাক, মুদ্রণ শিল্প, মৃৎশিল্প ও ধাতুশিল্পে এই ব্যবস্থা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল৷

কাজ ক্রমে ব্যক্তি শ্রমিকদের মধ্যে বিভক্ত হতে থাকল৷ ফলে আগে যে কারিগর একাই কোনও একটি কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন করত, এখন সে করে কাজের কেবল অংশবিশেষ মাত্র৷ এই শ্রমবিভাজন আরও সস্তায় ও দ্রুতহারে উৎপাদন সামগ্রী প্রস্তুত সম্ভব করে তুলল৷ এই শ্রমবিভাগ ব্যক্তি শ্রমিকের কাজকে পরিণত করল সরল ও অনবরত পুনরাবৃত্ত যান্ত্রিক ক্রিয়ায়৷ এই উৎপাদন কেবলমাত্র মেশিনের দ্বারা সম্ভব হল তাই নয়, তা আরও ভালভাবে সম্পন্ন হল৷ সুতাকাটা ও বয়নশিল্পে যা ঘটেছিল, সে ভাবেই একে একে শিল্পের সমস্ত শাখা বাষ্পশক্তি, যন্ত্রশক্তি ও কারখানা ব্যবস্থার আওতায় চলে এল৷

এরই সাথে সমস্ত শিল্প বৃহৎ পুঁজিপতিদের কুক্ষিগত হল এবং শ্রমিকরা আগে যতটুকু স্বাধীনতা ভোগ করত তার থেকে বঞ্চিত হল৷ বৃহৎ পুঁজিপতিরা বিশাল বিশাল ওয়ার্কশপ খুলে যত বেশি বেশি করে দক্ষ ক্ষুদ্র হস্তশিল্পীদের ডৎপাটিত করতে শুরু করল, ততই প্রকৃত ডৎপাদন শিল্প শুধু নয়, এমনকি হস্তশিল্পজাত উৎপাদনও কারখানাভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থার আওতায় চলে এল৷ এর ফলে পুঁজিপতিদের খরচ যেমন অনেক বাঁচল, তেমনই শ্রমবিভাজনকে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ মিলল৷

এই রাস্তাতেই বর্তমান যুগের সভ্য দেশগুলিতে কারখানাভিত্তিক উৎপাদন পূর্বপ্রচলিত প্রায় সকল প্রকার শ্রম, হস্তশিল্প এবং উৎপাদন ব্যবস্থাকে বাতিল করে দিয়েছে, সমস্ত প্রকার শ্রমই ব্যয়িত হচ্ছে কারখানায়৷ এই ব্যবস্থা ক্রমবর্ধমান হারে আগেকার মধ্যশ্রেণিগুলি, বিশেষত অপেক্ষাকৃত খুদে হস্তশিল্পীদের উত্তরোত্তর ধ্বংস করে দিয়েছে, সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে শ্রমিকদের আগেকার অবস্থান৷ দেখা দিয়েছে দু’টি নতুন শ্রেণি, যারা অন্যান্য সমস্ত শ্রেণিকে ক্রমে ক্রমে নিঃশেষ করে দিচ্ছে, এই শ্রেণি দু’টি হল :

(১) বৃহৎ পুঁজিপতি শ্রেণি, এরা সমস্ত সভ্য দেশে ইতিমধ্যে প্রায় সামগ্রিকভাবেই জীবনধারণের সমস্ত সামগ্রীর এবং সেগুলি উৎপাদনের জন্য আবশ্যক কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি আর কল–কারখানা ইত্যাদির উপর একছত্র দখল কায়েম করে ফেলেছে৷ এরাই হল বুর্জোয়া শ্রেণি বা পুঁজিপতি৷   

(২) সম্পূর্ণ সম্পত্তিহীন শ্রেণি, যারা তাদের বেঁচে থাকার উপায় ও উপকরণ সংগ্রহের জন্য বুর্জোয়াদের কাছে তাদের শ্রম বিক্রি করতে বাধ্য হয়৷ এদেরই বলা হয় সর্বহারাশ্রেণি বা সর্বহারা৷

প্রশ্ন : বুর্জোয়াদের কাছে সর্বহারাদের এই শ্রম বেচা চলে কোন শর্তে?

উত্তর : অন্য যে কোনও পণ্যের মতো শ্রমও একটা পণ্য এবং সে সব পণ্যের মতোই একই নিয়মে তার দাম স্থির হয়৷ আমরা দেখব– বৃহৎ শিল্প কিংবা অবাধ প্রতিযোগিতার রাজত্ব– উভয় ক্ষেত্রেই একই রকম ভাবে– পণ্যমূল্য সবসময়ই মোটের ডপর পণ্যের ডৎপাদন ব্যয়ের সমান৷ সুতরাং, শ্রমের মূল্যও শ্রমের উৎপাদন ব্যয়ের সমান৷

কিন্তু শ্রম উৎপাদনের ব্যয় বলতে বোঝায়, সেই পরিমাণ জীবন ধারণের উপকরণের দাম, যতটুকু না হলে মজুর আগামী দিনে কাজ চালিয়ে যাবার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে পারবে না এবং যা শ্রমিকশ্রেণিকে মরে শেষ হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে৷ এই উদ্দেশ্য সাধনের জন্য যতটুকু দরকার, শ্রমের দাম হিসেবে তার থেকে একটুও বেশি মজুর পাবে না৷ অন্য কথায়, বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণের সবচেয়ে কম পরিমাণই হবে শ্রমের দাম বা মজুরি৷ যেহেতু ব্যবসা কখনও ভাল চলে, কখনও মন্দ, তার ওপর নির্ভর করে মজুর তার শ্রমের মূল্যও কখনও বেশি, কখনও কম পায়৷ কিন্তু আবার ঠিকভাবে ধরতে গেলে, একজন শিল্পপতির সময় ভাল চলুক বা মন্দ, গড়পড়তা পণ্য উৎপাদনের ব্যয়ের তুলনায় সে পণ্যের দাম কখনওই বেশি বা কম পায় না৷ অনুরূপে মজুরও গড়পড়তা ন্যূনতম মজুরির থেকে কম বা বেশি পায় না৷ বৃহদায়তন শিল্প উৎপাদনের সমস্ত শাখার উপর যত বেশি পরিমাণে দখলদারি কায়েম করছে, তত কঠোরভাবে প্রযুক্ত হচ্ছে মজুরির এই নিয়ম৷

প্রশ্ন : শিল্প–বিপ্লবের আগে কোন কোন মেহনতি শ্রেণি ছিল?

উত্তর : সমাজের বিকাশের বিভিন্ন পর্বে মেহনতি শ্রেণিগুলির জীবনযাত্রার পরিবেশ ছিল বিভিন্ন রকম৷ মনিব এবং শাসক শ্রেণিগুলোর সঙ্গে তাদের সম্পর্কও ছিল বিভিন্ন৷ প্রাচীনকালে মেহনতি জনগণ ছিল তাদের মালিকদের দাস, ঠিক যেমন এখনও তারা রয়েছে অনেক অনগ্রসর দেশে, এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাংশেও৷

মধ্যযুগে তারা ছিল ভূস্বামী অভিজাতকূলের অধীনস্থ ভূমিদাস, যেমনটা এখনও রয়েছে হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড এবং রাশিয়ায়৷ এর সাথে মধ্যযুগে এমনকি শিল্প–বিপ্লব পর্যন্ত ছিল পেটি–বুর্জোয়া মনিবদের কাজে নিযুক্ত শহরাঞ্চলের হস্তশিল্পীরা৷ ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প প্রসারের সাথে ক্রমে ম্যানুফ্যাক্টরি (ছোট কারখানা) শ্রমিকদের উদ্ভব ঘটেছিল৷ ধীরে ধীরে এখন তারাই বড় বড় পুঁজিপতিদের অধীনে কর্মরত৷

প্রশ্ন : দাসদের সাথে সর্বহারার পার্থক্য কোথায়?

উত্তর : একবারেই পুরোপুরিভাবে বিক্রি হয় দাস৷ সর্বহারা নিজেকে বিকোতে বাধ্য হয় প্রতিদিন, প্রতি ঘন্টায়৷ একজন বিশেষ দাস, একজন বিশেষ মালিকের সম্পত্তি – আর কিছু না হলেও অন্তত মালিকের স্বার্থের খাতিরে এই দাসের জীবনধারণের উপায় নিশ্চিত থাকে, সেটা যত অকিঞ্চিৎকরই হোক৷ একজন ব্যক্তি সর্বহারা মানুষ কার্যত গোটা বুর্জোয়া শ্রেণির সম্পত্তি, কারও প্রয়োজন হলেই কেবলমাত্র তার শ্রম কেনা হয়৷ ফলে তার বেঁচেবর্তে থাকার কোনও গ্যারান্টি নেই৷ শুধুমাত্র সামগ্রিক শ্রেণিগতভাবেই সর্বহারার অস্তিত্বের নিশ্চয়তা আছে৷

দাস থাকে প্রতিযোগিতার বাইরে, প্রলেতারিয়েতের অবস্থান সেটার মধ্যে৷ তাই এর যাবতীয় অনিশ্চিত ওঠা–পড়ার ফল তাকে ভুগতে হয়৷ দাস গণ্য হয় সামগ্রী হিসাবে, সমাজের একজন হিসাবে নয়৷ এর ফলে সর্বহারাদের তুলনায় তাদের টিকে থাকা হয়ত সহজ ছিল৷ যদিও সর্বহারা সংযুক্ত সমাজ বিকাশের একটা উচ্চতর স্তরের সঙ্গে৷ তার সামাজিক অবস্থানও দাসের চেয়ে উপরের স্তরে৷ সকল প্রকার ব্যক্তি মালিকানা সংক্রান্ত সম্পর্কের মধ্যে কেবল দাসত্বের সম্পর্ক ছিন্ন করেই একজন ব্যক্তি–দাস মুক্তি পেয়ে সর্বহারায় পরিণত হতে পারে৷ অন্যদিকে সর্বহারা মুক্তি লাভ করতে পারে শুধু সামগ্রিকভাবে ব্যক্তিগত মালিকানা লোপ করার দ্বারাই৷

প্রশ্ন : ভূমিদাসদের সাথে সর্বহারার পার্থক্য কোথায়?

উত্তর : উৎপাদনের একটা হাতিয়ার অর্থাৎ একটুকরো জমি থাকে ভূমিদাসের দখলে, যা সে ব্যবহারের অধিকারী৷ যার বিনিময়ে তাকে উৎপাদিত দ্রব্যের কিংবা পরিষেবা হিসাবে শ্রমের একাংশ দিতে হয়৷ সর্বহারা উৎপাদনের যে যন্ত্রপাতি দিয়ে কাজ করে সেটা অপরের, সে কাজ করে সেই অপরের সুবিধার জন্য,  তার জন্য সে পায় উৎপাদনের একাংশ৷ ভূমিদাস দেয়, সর্বহারাকে দেওয়া হয়৷ ভূমিদাসের জীবনধারণের উপায়ের নিশ্চয়তা থাকে, সর্বহারার থাকে না৷ ভূমিদাস থাকে প্রতিযোগিতার বাইরে, সর্বহারার অবস্থান সেটার মাঝে৷  ভূমিদাস মুক্ত হতে পারে তিনটি উপায়ে – সে শহরে পালিয়ে গিয়ে সেখানে হস্তশিল্পী হয়ে উঠতে পারে, অথবা সামন্তপ্রভুকে শ্রম আর উৎপাদিত দ্রব্যের বদলে টাকা দিয়ে স্বাধীন প্রজায় পরিণত হতে পারে৷ না হলে সামন্ত প্রভুকে উৎখাত করে সে নিজেই হয়ে উঠতে পারে সম্পত্তির মালিক৷ এক কথায়, কোনও না কোনও উপায়ে সে এসে যায় মালিক শ্রেণি আর প্রতিযোগিতার মধ্যে৷ অপর দিকে, প্রতিযোগিতা, ব্যক্তিগত মালিকানা এবং সমস্ত শ্রেণিগত পার্থক্য লোপ করে মুক্ত হয় সর্বহারা৷ (চলবে)

(গণদাবী : ৭২ বর্ষ ১৭ সংখ্যা)