Breaking News
Home / খবর / সমাজতন্ত্রই দিয়েছিল উন্নত নাগরিক জীবন

সমাজতন্ত্রই দিয়েছিল উন্নত নাগরিক জীবন

সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েট ইডনিয়ন সম্পর্কে পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদী তথা কমিউনিস্ট বিদ্বেষীদের প্রচার শুনলে মনে হবে, যেন সমাজতান্ত্রিক রুশ জনগণ দাসসুলভ জীবন যাপন করত, নাগরিক জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য বলতে কিছু ছিল না, যার যা কিছু ব্যক্তিগত সম্পদ ছিল, রাষ্ট্র সব কেড়ে নিয়েছিল, ভোগ্যপণ্য ও আধুনিক জীবন থেকে বঞ্চিত মানুষ যেন এক আদিম স্তরে ছিল৷ সমাজতন্ত্র বিরোধী সাম্রাজ্যবাদীরা পরিকল্পিত এমন অজস্র ডাহা মিথ্যা প্রচার করত যাতে সেই সব দেশের মানুষ উন্নত সোভিয়েত জীবন সম্পর্কে আগ্রহী না হয়ে ওঠে৷

এরই জবাব দিতে রাশিয়ার মানুষ পাভেল ক্রাসনভ নতুন উপায় বের করেন৷ সমাজতন্ত্রের সময় বিভিন্ন ব্যক্তি ও পরিবার নানা ঘটনা ও দৃশ্যের যেসব ছবি তুলে পরিবারের অ্যালবামে রেখেছিল, মিঃ ক্রাসনভ সেগুলি সংগ্রহ করেন৷ আমেরিকা থেকে প্রকাশিত নর্থস্টার কম্পাস পত্রিকা ২০০৯ সালের জুলাই সংখ্যা থেকে ওই ছবিগুলি পরপর তিনটি সংখ্যায় মন্তব্য সহ প্রকাশ করে৷ ১৯৩০–৫০ সালের মাঝখানের সমাজতান্ত্রিক রাশিয়ার সাধারণ পরিবারের দিন যাপনের একটা চিত্র তিনি তুলে ধরেছেন৷ ফটোগুলিতে মানুষের চোখমুখের ছবি, পারিপার্শ্বিক পরিবেশ যে চিত্র তুলে ধরেছে তা যে কোনও বক্তার চেয়ে বাঙ্ময় হয়ে সত্যকে প্রকাশ করে৷ দুশ্চিন্তামুক্ত সেই জীবন আজ গল্পকথা৷ পুঁজিবাদ দুনিয়ার কোথাও তা দিতে পারেনি৷ প্রতিবিপ্লবী চক্রান্তে সমাজতন্ত্র ধ্বংস হওয়ার সাথে সাথে রাশিয়ার মানুষও তা হারিয়েছেন৷

ব্রিটিশ ও মার্কিন প্রচারমাধ্যম দেখায় তারা স্বাস্থ্যবিমার মাধ্যমে নাগরিকদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে থাকে৷ কিন্তু যেটা তারা বলে না তা হল, স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম সাধারণ মানুষকেই জোগাতে হয়৷ স্বাস্থ্যবিমা সে দেশের গরিব মানুষের বেশিরভাগের নাগালের বাইরে৷ বর্তমানে একচেটিয়া পুঁজির প্রবল দাপটের মাঝে স্বাস্থ্যবিমার প্রতারণা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে তা মাইকেল মুরের তোলা ‘সিকো’ সিনেমাটা দেখলে বোঝা যাবে৷ এর বিপরীতে, প্রথমে লেনিনের নেতৃত্বে ও তার পরে স্ট্যালিনের পরিচালনায় সোভিয়েট ইউনিয়ন ছিল দুনিয়ার প্রথম ও একমাত্র রাষ্ট্র যে ঘোষণা করেছিল নাগরিকদের শিক্ষা স্বাস্থ্য ও জীবিকার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের৷ আজও আমেরিকার মতো ধনী দেশ তা পারেনি শুধু নয়,  করোনা অতিমারিতে লক্ষ লক্ষ গরিব মানুষের মৃত্যু দেখিয়ে দিয়েছে সেখানকার জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা কতখানি ঠুনকো৷ কিন্তু রাশিয়া পেরেছিল৷

সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনায় সকলের জন্য শিক্ষা মানে পুঁজিবাদী দেশগুলি যেমন অক্ষর পরিচয়ের ব্যবস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে, তেমন সমাজতন্ত্রে শিক্ষা কোনও মতে সই করতে শেখা নয়,  রবীন্দ্রনাথের ভাষায় ‘পাকা রকম শিক্ষা’, মানুষকে দেশ গড়ার উপযুক্ত করে গড়ে তোলার শিক্ষা৷ সে শিক্ষা ছিল পুরোপুরি অবৈতনিক, তাই তা ছিল সকলের নাগালের মধ্যে৷ যার ফলে বিপুল মানবসম্পদে সমৃদ্ধ সোভিয়েট সমাজতন্ত্র মাত্র দশ বছরের মধ্যে বহু ক্ষেত্রে উন্নত দুনিয়াকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল৷ বুর্জোয়া গণতন্ত্রের পূজারিরা বলে থাকেন, স্ট্যালিন যাদের ধরে ধরে জেলে পুরেছিলেন, সোভিয়েট ইডনিয়নে সেই রাজনৈতিক বন্দিদের বেগার শ্রম দিয়ে নাকি শিল্পায়ন করা হয়েছিল৷ বাস্তবে সোভিয়েট ইডনিয়নে ফ্যাসিস্ট দোসরদের গ্রেপ্তার ও বিচারের আগেই, ১৯৩৭ সালেই শিল্পায়নের কাজ শেষ হয়ে যায়, যার কিছুদিন বাদেই শুরু হয় যুদ্ধ৷ শিল্পায়নের কাজে রাজনৈতিক বন্দিদের অবদান মাত্র ১ শতাংশ– বলেছেন পাভেল ক্রাসনভ৷

সমাজতন্ত্রবিরোধীরা বলে থাকে, রাশিয়ায় সকল মানুষের সম্পত্তি জোর করে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল৷ তা যে সত্য নয়, ক্রাসনভ তা দেখিয়েছেন৷ এই শিল্পায়নের বিন্দুমাত্র বেসরকারি উদ্যোগে হয়নি, হয়েছিল সরাসরি রাষ্ট্রের উদ্যোগে৷ কিন্তু সেজন্য সকল ব্যক্তিগত সম্পত্তি কেড়ে নেওয়া হয়েছিল তা সত্য নয়৷ বেসরকারি উদ্যোগ বলতে এখন দেখা যায় সরকারি মদতে বেসরকারি পুঁজির অবাধ লুণ্ঠন, সরকারি সম্পত্তি জলের দরে কিনে তা থেকে মুনাফা করা৷ সোভিয়েট ইডনিয়নের কো–পারেটিভ ছিল ঠিক তার উল্টো৷ কো–পারেটিভে ব্যক্তিগত মালিকানা ছিল, কিন্তু তা ছিল সামাজিক মালিকানায় পৌঁছনোর পথে একটা অনিবার্য ধাপ৷ কো–পারেটিভ খামার থেকে যৌথ খামার ও শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় খামারে পৌঁছনো ছিল সোভিয়েট সমাজতন্ত্রের লক্ষ্য৷ এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই রাষ্ট্রের উদ্যোগে স্ট্যালিনের নেতৃত্বে দেশব্যাপী কো–অপারেটিভ আন্দোলন পরিচালিত হয়৷ ১,৪০,০০০ শিল্প গড়ে ওঠে যাতে কর্মসংস্থান হয়েছিল ২০ লক্ষেরও বেশি লোকের৷ ১৯৩০ সালে কো–পারেটিভ খামারে কাজ করতেন কমপক্ষে ৩ কোটি মানুষ৷ ১৯২০ সালে দেশের ৮০–৯০ শতাংশ লোক বাস করত গ্রামে ও ছোট ছোট গঞ্জে, ১৯৭০ সালের মধ্যে শহরের জনসংখ্যা ৬০ শতাংশ বেড়ে যায়৷ শহরাঞ্চলে গড় দৈনিক মজুরি যা ছিল তা দিয়ে ১০০০ কিলো আলু বা ৩২ লিটার দুধ কেনা যেত৷ সমাজতন্ত্র ধবংসের সাথে সাথে এ–সবই এখন ইতিহাস হয়ে গেছে৷

পুঁজিবাদী, সাম্রাজ্যবাদীরা বলেন, সোভিয়েট ইডনিয়ন ছিল দাস তৈরির কারখানা৷ সেখানে মানুষ নয়, তৈরি করা হত নেতাদের অন্ধ ভক্ত কিছু ব্যক্তিকে৷ ক্রাসনভ লিখেছেন, সোভিয়েট ইডনিয়ন ছিল একমাত্র দেশ যেখানে শ্রমিকদের শোনার জন্য ধ্রুপদী সংগীত পরিবেশন করা হত৷ যারা রবীন্দ্রনাথের ‘রাশিয়ার চিঠি’ পড়েছেন, তাঁরা ক্রাসনভের বক্তব্যের সত্যতা জানেন৷ ত্রিশের দশকে রবীন্দ্রনাথ মস্কো থেকে লিখেছেন ‘‘আমি যেদিন অভিনয় দেখতে গিয়েছিলুম সেদিন হচ্ছিল টলস্টয়ের রেজারেকশন৷ জিনিসটা জনসাধারণের পক্ষে সহজে উপভোগ্য বলে মনে করা যায় না, কিন্তু শ্রোতারা গভীর মনোযোগের সঙ্গে সম্পূর্ণ নিঃশব্দে শুনছিল৷ অ্যাংলো–স্যাকসন চাষি–মজুর শ্রেণির লোক এ জিনিস রাত্রি একটা পর্যন্ত এমন স্তব্ধ শান্তভাবে উপভোগ করছে এ কথা মনে করা যায় না, আমাদের দেশের কথা ছেড়েই দাও৷

আর একটা উদাহরণ দিই৷ মস্কো শহরে আমার ছবির প্রদর্শনী হয়েছিল৷ … লোকের ঠেলাঠেলি ভিড়৷ আর যে যা বলে বলুক, অন্তত আমি তো এদের রুচির প্রশংসা না করে থাকতে পারব না৷’’

এর পরেই পাশ্চাত্যের সঙ্গে তুলনা করে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন– ‘‘যে–সব দেশে অর্থ এবং শক্তির অধ্যবসায় ব্যক্তিগত স্বার্থ দ্বারা বিভক্ত সেখানে এরকম চিত্তের নিবিড় ঐক্য অসম্ভব৷’’

সমাজতন্ত্রের প্রশংসা করে তিনি লিখেছেন– ‘‘…অশিক্ষা ও অবমাননার নিম্নতমতল থেকে আজ কেবল মাত্র দশ বৎসরের মধ্যে লক্ষ লক্ষ মানুষকে এরা শুধু ক খ গ ঘ শেখায়নি, মনুষ্যত্বে সম্মানিত করেছে … অথচ সাম্প্রদায়িক ধর্মের মানুষেরা এদের অধার্মিক বলে নিন্দা করে৷ ধর্ম কি শুধু পুঁথির মন্ত্রে?’’

সোভিয়েটের কিশোররা গরমকালে যেত পাইওনিয়ার ক্যাম্পে, সেখানে তারা লেখাপড়া করত, ট্রেনিং পেত, বিনোদনের ব্যবস্থাও ছিল৷ এর সব খরচই বহন করত রাষ্ট্র, বাবা–মাকে খরচ নিয়ে ভাবতে হত না৷ ত্রিশের দশকে সোভিয়েট ইউনিয়নে এ ধরনের ক্যাম্প তৈরি হয়েছিল, বিশ্বের কোনও পুঁজিবাদী দেশে এর দ্বিতীয় নজির নেই৷ এই সময়েই রাশিয়ায় বিমান উড়ান সম্পর্কে বিদ্যাশিক্ষার বিশেষ চল হয়েছিল, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েটের বিজয়ের পথ করে দিয়েছিল৷ পার্কে পার্কে গড়ে তোলা হয়েছিল প্যারাসুট টাওয়ার৷ সোভিয়েট ইউনিয়ন বিশ্বে সর্বপ্রথম এই ধরনের টাওয়ার তৈরি করে৷ গড়পড়তা ৫০ মিটার ডঁচু এই প্যারাসুট টাওয়ার থেকে যুবক–যুবতীরা প্যারাসুট নিয়ে ঝাঁপ দেওয়ার শিক্ষা নেওয়ার সাথে সাথে দৃঢ়চেতা ও সাহসী হয়ে ওঠে৷ সোভিয়েট ইডনিয়ন গড়তে চেয়েছিল দাস মনোভাব থেকে মুক্ত সাহসী নাগরিক৷ ১৯৩৫ সালে ৮ লক্ষ সোভিয়েট নাগরিক প্যারাসুট ক্লাবগুলিতে নাম লিখিয়েছিল৷ স্ট্যালিনের মৃত্যুর অব্যবহিত পরেই প্যারাসুট টাওয়ার বন্ধ করা শুরু হয়৷ ক্রুশ্চেভ সংশোধনবাদীরা ক্ষমতায় আসার পর ১৯৬০–এর দশকের মাঝামাঝি সব প্যারাসুট পার্কই বন্ধ করে দেওয়া হয়৷

শরীর ও মনের সুশিক্ষার মাধ্যমে সমাজতন্ত্র নাগরিকদের এমন সুস্থতার অধিকারী করেছিল যে, শিল্পে মানব শরীরের সৌন্দর্য প্রদর্শিত হলেও তা নাগরিক মনে কোনও অশ্লীলতার উদ্রেক করত না৷ প্রায় প্রত্যেক যুবককে শিক্ষা সমাপনের পর কর্মক্ষমতা ও প্রতিরক্ষা ক্ষমতা অর্জনের ব্যাজ দেওয়া হত, ব্যাজ পাওয়াকে বিশেষ সম্মানের বলে মনে করা হত৷ কমসোমল সংগঠনের সব সদস্যই শরীর এবং মনের দিক থেকে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবে এটাই অভিপ্রেত ছিল৷

পুঁজিবাদী–সাম্রাজ্যবাদীরা বলেন, সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েট ইউনিয়নে নাকি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের প্রবল টানাটানি ছিল, দোকানে লাইন দিয়েও দরকারি জিনিস পাওয়া যেত না৷ এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রচার৷ স্ট্যালিনের মৃত্যুর পর সংশোধনবাদী নেতৃত্বের পরিচালনায় যে কুফলগুলি দেখা দিয়েছিল তার দায় তারা সমাজতন্ত্রের ঘাড়ে চাপায়৷ অথচ, সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েট ইউনিয়নে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় ভোগ্যপণ্য উৎপাদনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছিল, জোর দেওয়া হয়েছিল অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ওপর৷ তৎকালীন ছবি দিয়ে ক্রাসনভ দেখিয়েছেন, সে সময়েই সোভিয়েট ইউনিয়নে আধুনিক পোশাক পাওয়া যেত,  নাগরিকদের জন্য ছিল গ্রামোফোন৷ ক্রাসনভ তার ছবি দিয়েছেন৷ উৎসাহী পাঠক ওয়েবসাইটে নর্থস্টার কম্পাস পত্রিকার আর্কাইভ থেকে ২০০৯ সালের জুন ও জুলাই–আগস্ট সংখ্যায় সব ছবি দেখতে পারেন৷ পুরনো রুশ সিনেমাতেও এসবের প্রমাণ আছে৷ ক্রাসনভ লিখেছেন, সে দেশে সকলেই একটা সাইকেল কেনার মতো আর্থিক ক্ষমতার অধিকারী ছিল অথচ একই সময়ে উন্নত পশ্চিমী দেশগুলিতে সকলে একটা করে সাইকেল কিনতে পারত না, টাকার অভাবে৷ ১৯৩৯ সাল থেকেই সোভিয়েট ইউনিয়নে জীবনযাত্রার মানোন্নতি ঘটতে থাকে৷ ১৯৪১ সালের ২২ জুন জার্মান ফ্যাসিস্ট বাহিনী রাশিয়া আক্রমণ করে৷ যুদ্ধ তাদের জীবনকে তছনছ করে দিয়ে যায়৷ কিন্তু দুনিয়াকে অবাক করে দিয়ে অল্প কয়েক বছরেই ঐ ধবংসস্তূপ থেকেই আবার দাঁড়ায় উন্নত সোভিয়েট সমাজতন্ত্র৷

সমাজতন্ত্রবিরোধীরা সমাজতন্ত্রকে ব্যঙ্গ করে বলে থাকেন তারা নাকি টুথপেস্টের টিউবে স্পেস রিসার্চ করত৷ অর্থাৎ, টিউবের মধ্যে বেশিরভাগ অংশই কেবল হাওয়া ভরা৷ অথচ, বিশ্বের ভয়াবহতম যুদ্ধে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েট ইডনিয়ন যুদ্ধ শেষের ষোল বছরের মধ্যে ১৯৬১ সালে বিশ্বে প্রথম মানুষকে মহাশূন্যে পাঠায়৷ রুশ যুবকদের চোখে তখন নভোশ্চর হওয়ার স্বপ্ন৷ পুঁজিবাদী দেশে ছাত্রদের বলা হয়, শিক্ষাকর্তারা যেমন বলছেন, তা হুবহু নকল করে দক্ষতা অর্জন করো৷ আর রাশিয়ায় ছাত্রদের শেখানো হত চিন্তা করতে, অধীত বিদ্যাকে কাজে প্রয়োগ করতে৷ সোভিয়েট ইডনিয়নের শিক্ষাব্যবস্থা ছিল দুনিয়ার সেরা এবং সম্পূর্ণ বিজ্ঞানসম্মত, তেমনি স্বাস্থ্য উদ্ধারের জন্য তৈরি স্যানাটোরিয়া ও রিসর্ট ছিল ফ্রি৷ শিশুদের জন্য কিন্ডারগার্টেনগুলি ছিল বিশ্বের শ্রেষ্ঠ৷ ক্রাসনভের দেওয়া ছবিতে শিশু–কিশোরদের চোখমুখ দেখলে বোঝা যায় সুস্বাস্থ্য ও রুচিশীলতায় ভরা ছিল তাদের জীবন৷

সাম্রাজ্যবাদী ও প্রতিবিপ্লবী চক্রান্তে ভেঙে পড়ার আগে সমাজতন্ত্র মাত্র সত্তর বছরে মানবসভ্যতাকে যা দিয়েছিল চারশো বছরে পুঁজিবাদ যে তা দিতে পারেনি, তা বিদ্বেষমুক্ত মন নিয়ে দেখলে যে কেউই দেখতে পাবেন৷ কিন্তু উচ্ছেদের ভয়ে আতঙ্কগ্রস্ত পুঁজিবাদী প্রচার মানুষকে চোখ থাকতে অন্ধ করে রাখে৷