Breaking News
Home / অন্য রাজ্যের খবর / সংগ্রামী বামপন্থার ঝান্ডা নিয়ে কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনে এসইউসিআই(সি)

সংগ্রামী বামপন্থার ঝান্ডা নিয়ে কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনে এসইউসিআই(সি)

১২ মে কর্ণাটক রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন৷ এই নির্বাচনে এস ইউ সি আই (সি), সিপিআই (এম–এল) রেড ফ্ল্যাগ নির্বাচনী সমন্বয় গড়ে তুলে ২১টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে৷ এর মধ্যে এস ইউ সি আই (সি)–র প্রার্থী ৫ জন৷ এস ইউ সি আই (সি) সহ যে ৬ দলীয় বামজোট রয়েছে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে দাঁড়াতে পারল না, কারণ জোটের দুই শরিক  সিপিএম এবং সিপিআই যথাক্রমে  দুই বুর্জোয়া দল কংগ্রেস এবং জে ডি (এস)–এর সঙ্গে বোঝাপড়া গড়ে তুলেছে৷

পাঁচ বছর আগে রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল বিজেপি৷ তার আগে দেবগৌড়ার নেতৃত্বে জে ডি (এস)ও ছিল৷ এখন রয়েছে কংগ্রেস৷ এই নির্বাচন কী এনে দিয়েছে সাধারণ মানুষের জীবনে? কংগ্রেস প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল পাঁচ বছরে ৫০ লাখ কর্মসংস্থান করবে৷ তার এক তৃতীয়াংশও করতে পারেনি৷ রাজ্যে তীব্র বেকারি৷ ইঞ্জিনিয়ার এবং আই টি ডিগ্রিধারীরাও চাকরির দাবিতে মিছিল করছে৷

তিন সরকারের দৌলতে গোটা শিক্ষাব্যবস্থা বেসরকারি নির্ভর৷ সরকারি হাসপাতালও সংখ্যায় খুবই কম, যতটুকু আছে সেখানে  পর্যাপ্ত পরিকাঠামো নেই৷ চাষির অবস্থা ভয়াবহ৷ ১৪০ টি তালুক তীব্র খরা কবলিত৷ সরকার উদাসীন৷ স্বামীনাথন কমিটির সুপারিশ ছিল কৃষি ফসলের সহায়ক মূল্য উৎপাদন ব্যয়ের দেড়গুণ করতে হবে৷ রাজ্যের কংগ্রেস সরকার তা করেনি৷ সার–বীজ–কীটনাশক সহ চাষের সব উপকরণের মাত্রাহীন মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে অথচ চাষির ফসলের ন্যায্য দাম নেই৷ পরিণামে চাষি জড়াচ্ছে ক্রমাগত ঋণের জালে৷ বাঁচার কোনও পথ না পেয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হচ্ছে৷ গত সাড়ে চার বছরে রাজ্যে ৩,৫০০ চাষি আত্মহত্যা করেছে৷

শিল্প পরিস্থিতি ভয়াবহ৷ সংগঠিত ক্ষেত্রগুলি দ্রুত অসংগঠিত ক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে– যেখানে শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন নেই, এতদিন ধরে পাওয়া অধিকারগুলিও হরণ করা হচ্ছে, ছাঁটাই করা হচ্ছে পি এফ, বোনাস সহ অন্যান্য সুবিধা৷ নারীর নিরাপত্তা লুণ্ঠিত৷তীব্র মূল্যবৃদ্ধিতে জীবন বিপর্যস্ত৷ ক্ষমতাসীন কংগ্রেস সরকার ‘অন্নভাগ্য’ প্রকল্প চালু করে দারিদ্র সীমার নিচের মানুষদের জন্য ১টাকা কেজি দরে চাল দেওয়া, বা ‘ক্ষীরভাগ্য’ প্রকল্পের দ্বারা সরকারি স্কুলের শিশুদের জন্য দুধ দেওয়া, অথবা ‘কৃষিভাগ্য’ প্রকল্পের মাধ্যমে সেচের ব্যবস্থা করার লম্বা চওড়া ভাষণ দিলেও বাস্তবে এই অংশের মানুষদের ভাগ্য যে তিমিরে সেই তিমিরেই৷ সরকারের  জনবিরোধী শাসন আর ৭০ বছর ধরে চলা পুঁজিবাদী শোষণ তাদের জীবনে ‘দুর্ভাগ্য’ চাপিয়ে দিয়েছে৷ কোনও সরকার পরিবর্তনে যার অবসান ঘটার উপায় নেই৷

কেন্দ্র জেলা প্রার্থী
গুলবর্গা রুরাল গুলবর্গা কমরেড গণপতি রাও মানে
গুরমিতকল ইয়াদগির কমরেড সোমশেখর ইয়াদগির
সন্দুর বেলারি কমরেড এ রামনজিনাপ্পা
রাজরাজেশ্বরীনগর বাঙ্গালোর কমরেড এইচ পি শিবপ্রকাশ
গোবিন্দরাজানগর বাঙ্গালোর কমরেড  ডা: কে এস গঙ্গাধর

 

বিজেপিও কাঠগড়ায়৷ কালোটাকা উদ্ধার করে প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে ১৫ লাখ করে টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দিয়েছিলেন, তা এখন তাঁকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে৷ বছরে ২ কোটি বেকারের চাকরির প্রতিশ্রুতিও ব্যর্থতায় পর্যবসিত৷ ‘পকোড়া ভেজে’ রোজগারের যে হাস্যকর নিদান প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন তা বেকার সমস্যা সমাধানে বিজেপির দিশাহীনতাই তুলে ধরছে৷ জি এস টি প্রবর্তন বহু ব্যবসায়ীকে সংকটে ফেলেছে৷ অন্যদিকে নীরব মোদি, মেহুল চোকসির মতো ব্যাঙ্ক জালিয়াতরা প্রধানমন্ত্রী তথা বিজেপি সরকারের সাহচর্যে ব্যাঙ্কের কোটি কোটি টাকা লুটে নিচ্ছে৷ সরকার লুঠেরাদের পাহারাদারের ভূমিকায়৷ উভয় দল সম্পর্কেই জনমনে নানা প্রশ্ন উঠছে৷ এই অবস্থায় উভয় দলই একদিকে উন্নয়নের ভেল্কি দেখাচ্ছে, অন্যদিকে ভোট কুক্ষিগত করার জন্য ধর্মীয় মেরুকরণের লাইনে হাঁটছে৷ বিজেপি তো চিহ্ণিত সাম্প্রদায়িক দল৷ হিন্দু ভোট ব্যাঙ্ক কুক্ষিগত করতে বিজেপি টিপু সুলতানকে স্বৈরাচারী আখ্যা দিয়ে হিন্দু উগ্রতা খুঁচিয়ে তুলছে৷ অন্যদিকে কংগ্রেস সংখ্যা লঘু ভোটব্যাঙ্ক কুক্ষিগত করতে টিপুজয়ন্তী উদযাপন করছে৷ একই সঙ্গে হিন্দু ভোট ধরে রাখতে রাহুল গান্ধী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীদের সাথে নিয়ে মন্দিরে মন্দিরে ঘুরছেন৷ এইভাবে বিভাজনের কৌশল নিয়েছে বিজেপি–কংগ্রেস উভয়েই৷ এ হেন কংগ্রেসকে ধর্মনিরপেক্ষ আখ্যা দিয়ে সিপিএম তার সাথে নির্বাচনী বোঝাপড়া গড়ে তুলছে৷ এর দ্বারা সিপিএমের ভোটের স্বার্থ কতদূর সিদ্ধ হবে তা ভবিষ্যতই বলবে, তবে ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ যে ছুরিবিদ্ধ হল তা বলা যায় অবশ্যই৷

বুর্জোয়া রাজনীতির বিপরীতে সংগ্রামী বামপন্থার ঝান্ডা তুলে ধরা আজ নিপীড়িত মানুষের সামনে জরুরি প্রয়োজন৷ সেই লক্ষ্যেই বিধানসভায় জনস্বার্থে সোচ্চার হওয়া এবং বাইরে জনজীবনের সমস্যাগুলি সমাধানের  জন্য তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার অঙ্গীকার নিয়ে এস ইউ সি আই (সি) ৫টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে৷

(৭০ বর্ষ ৩৬ সংখ্যা ২৭ এপ্রিল, ২০১৮)