Home / খবর / মাধ্যমিকে ছাত্র সংখ্যা কমার দায় সরকারি নীতির

মাধ্যমিকে ছাত্র সংখ্যা কমার দায় সরকারি নীতির

এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৮ হাজার কম৷ কারণ হিসাবে জন্মহার কমে যাওয়ার কথা বলেছেন মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি৷ এর সাথে তিনি আরও একটা অদ্ভুত কথা বলেছেন, যেহেতু পাশের হার বাড়ছে, সে–কারণেও পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে৷ প্রসঙ্গত ২০১৭ সালেও তার আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭৫ হাজার পরীক্ষার্থী কম ছিল৷

সরকারি তথ্যই কিন্তু তাঁর কথার বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে৷ ২০০৯ সালে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল প্রায় ২৬ লক্ষ শিক্ষার্থী৷ ২০১৯–এ মাধ্যমিকে বসছে সাড়ে ১০ লক্ষের একটু বেশি৷ শুধু তাই নয়, এই ২৬ লক্ষের মধ্যে পঞ্চম শ্রেণিতেই উঠেছিল মাত্র ১৬ লক্ষের কিছু বেশি৷ অর্থাৎ পাশ–ফেল না থাকা সত্ত্বেও প্রাথমিক স্তরেই ড্রপআউট হয়েছে প্রায় ১০ লক্ষ৷ বাকি ৫ লক্ষের বেশি শিক্ষার্থী স্কুল ছেড়েছে পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির মধ্যে৷ এমনটা ঘটল কি জন্মহার কমার কারণে?

পর্ষদ সভাপতি জন্মহার হ্রাসের যে–কথা বলেছেন সেই কথারই বা ভিত্তি কী? ২০১১–র সেন্সাস রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ২০০১ সালে রাজ্যের জনসংখ্যা ছিল ৮.০২ কোটি এবং ২০১১ সালে তা হয়েছে ৯.১৩ কোটি৷ তাহলে জন্মহার কমার কথাটা আসছে কোত্থেকে? মাধ্যমিক পর্ষদ সভাপতির মতো পদে যিনি আছেন, তাঁর কথার একটা ভিত্তি থাকতে হবে তো!

দ্বিতীয়ত, গত বছর পাশের হার বৃদ্ধির সাথে এবছর পরীক্ষার্থী কমার সম্পর্ক প্রমাণ করতে হলে সভাপতিকে স্পষ্ট তথ্য পেশ করতে হত৷ তাও তিনি করেননি৷

কেন মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ পরীক্ষার্থী কমার কারণ হিসাবে এরকম ভিত্তিহীন মন্তব্যের আশ্রয় নিলেন? স্বভাবতই, প্রকৃত কারণটা গোপন করার জন্য৷ বস্তুত, শিক্ষাব্যবস্থার পরিকাঠামোর চরম বেহাল দশা, জনগণের প্রবল দারিদ্র ইত্যাদির সাথে পাশ–ফেল প্রথা তুলে দেওয়ার ফলে আরও বিপুল হারে বাড়ছে স্কুলছুটের সংখ্যা৷ এই কারণেই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে৷ এই সমস্যাকে সমাধানের উদ্যোগ না নিয়ে, তাকে আড়াল করলে কার ক্ষতি, রাজ্যের ছাত্র–ছাত্রীদেরই নয় কি? কিন্তু এ কথা ভাবলে তাঁর চলবে কেন? সরকারি দলের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন এবং কর্তাভজা হওয়াটাই আজ এই রাজ্যে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষা প্রশাসনের মাথায় বসার যোগ্যতার মাপকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ মাধ্যমিক পর্ষদ সভাপতি তার অন্যথা করার ঝুঁকি নেবেন কী করে? সিপিএম সরকারের আমল থেকেই এ রাজ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে যে রোগ চেপে বসেছে তার নাম দলবাজি আর স্বজন পোষণ৷ তৃণমূল সরকারও সেই ধারাই বজায় রেখেছে৷ সে রোগে দুর্বল না হয়ে শিক্ষার ভাল চাইলে, পর্ষদ সভাপতিকেও সর্বনাশা সরকারি নীতির বিরোধিতাই করতে হবে৷

(গণদাবী : ৭১ বর্ষ ২৯ সংখ্যা)