Breaking News
Home / খবর / মহান ফ্রেডরিখ এঙ্গেলসকে কেন স্মরণ করব (৩) — প্রভাস ঘোষ

মহান ফ্রেডরিখ এঙ্গেলসকে কেন স্মরণ করব (৩) — প্রভাস ঘোষ

 

২০২০ সালের ২৮ নভেম্বর বিশ্ব সাম্যবাদী আন্দোলনের মহান নেতা ফ্রেডরিখ এঙ্গেলসের দ্বিশত জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এস ইউ সি আই (কমিউনিস্ট)-এর সাধারণ সম্পাদক কমরেড প্রভাস ঘোষ সমগ্র দেশের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে ইংরেজিতে একটি আলোচনা করেন যা অনলাইনে সম্প্রচারিত হয়। ৫ আগস্ট মহান এঙ্গেলসের ১২৬তম মৃত্যুদিবস উপলক্ষে সেই ইংরেজি আলোচনাটির বঙ্গানুবাদ ধারাবাহিকভাবে আমরা প্রকাশ করছি। অনুবাদে কোনও ভুলত্রুটি থাকলে তার দায়িত্ব সম্পূর্ণ আমাদের। এবার তৃতীয় পর্ব। – সম্পাদক, গণদাবী

 

মার্কস অগ্রণী ছিলেন, কিন্তু এঙ্গেলস ছিলেন তাঁর একান্ত সহযোগী

কেন আমি এভাবে বলছি? আমরা যখন লেনিন ও স্ট্যালিন সম্পর্কে বলি, আমরা জানি লেনিন ছিলেন শিক্ষক এবং স্ট্যালিন লেনিনের সুযোগ্য ছাত্র। কিন্তু আমরা যখন মার্কস-এঙ্গেলস সম্পর্কে বলি, আমরা বলতে পারি না ‘এঙ্গেলস মার্কসের সুযোগ্য ছাত্র’। লেনিনের ভাষায়, ‘আধুনিক সমাজতন্ত্রের তত্ত্ব প্রতিষ্ঠার একান্ত সহকারী এবং সহযোগী, যদিও মার্কস তাঁর চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। অবশ্যই মার্কস গাইড করেছেন এঙ্গেলসকে। কিন্তু এঙ্গেলসও দ্বান্দ্বিক প্রক্রিয়ায় মতবিনিময় করে মার্কসকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছেন। এই বিষয়টি আমাদের খেয়ালে রাখতে হবে।

এঙ্গেলস মার্কসকে রাজনৈতিক অর্থশাস্ত্র চর্চা করতে অনুপ্রাণিত করেছেন

আরও একটা উল্লেখযোগ্য বিষয় যা আমাদের অনেকের কাছেই অজানা, সেটা উল্লেখ করতে গিয়ে লেনিন বলেছেন যে, ‘‘এঙ্গেলসের সাথে তাঁর সম্পর্ক নিঃসন্দেহে মার্কসকে রাজনৈতিক অর্থশাস্ত্র নিয়ে অনুশীলনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে নির্ণায়ক ভূমিকা নিয়েছিল, যে বিজ্ঞানে তাঁর রচনাগুলি যথার্থই বিপ্লব সৃষ্টি করেছিল।”

এঙ্গেলস যখন ম্যাঞ্চেস্টারে আর মার্কস লণ্ডনে থাকতেন, প্রায় প্রতিদিনই তাঁরা চিঠিপত্র আদানপ্রদান করতেন। কখনও কখনও তাঁরা দিনে দু’তিনবার চিঠি পাঠাতেন। এই ঘটনা উল্লেখ করে লেনিন লিখেছেন, ‘‘চিঠিতে মার্কস ও এঙ্গেলস বার বার ফিরে আসতেন তাঁদের মতবাদের সবচেয়ে বিচিত্র বিষয়ে, বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দিতেন ও বিশ্লেষণ করতেন– আলোচনা ও বিতর্কের সময়ে বুঝতে চাইতেন সবচেয়ে নতুন (পূর্ববর্তী মতের তুলনায়), সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন বিষয় কী। সমস্ত আলোচনা, চিঠিপত্র বিনিময়, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের মূল কেন্দ্রীয় বিষয় কাউকে বলতে হলে এককথায় বলতে হয়– সেটি হল দ্বান্দ্বিকতা। বস্তুবাদী দ্বন্দ্বতত্ত্বের প্রয়োগ করে সমগ্র রাজনৈতিক অর্থনীতিকে তার ভিত্তি থেকে ঢেলে সাজানো এবং ইতিহাসে, প্রকৃতি বিজ্ঞানে, দর্শনে নীতি ও কর্মকৌশলে তার প্রয়োগ।” (মার্কস-এঙ্গেলস করেসপন্ডেন্স, ১৯১৩)।

মার্কসের মৃত্যুর পর তাঁর অসম্পূর্ণ রচনা ‘পুঁজি’ সম্পূর্ণ করতে এঙ্গেলস নিজেকে পুরোপুরি নিয়োজিত করেছিলেন

১৮৭৩ সালের প্রথম দিকে এঙ্গেলস এক চিঠিতে একটি বড় লেখা প্রস্তুত করার পরিকল্পনার কথা মার্কসকে জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এই ভাবনাগুলি সুবিন্যস্ত করে লিখতে ‘অনেক সময় লাগবে’। পরবর্তী সময়ে ১৮৮২ সালের ২৩ নভেম্বর এক চিঠিতে মার্কসকে লিখলেন যে, তিনি আশা করছেন, খুব তাড়াতাড়িই ‘প্রকৃতির দ্বান্দ্বিকতা’ লেখাটি শেষ করতে পারবেন। ১৪ মার্চ ১৮৮৩ সালে মার্কসের মৃত্যু এঙ্গেলসকে বাধ্য করল তাঁর নিজস্ব রচনার কাজ স্থগিত করতে এবং ‘অ্যান্টি-ডুরিং’-এর দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকায় তিনি ‘আরও জরুরি কর্তব্যে’ নিজের ব্যস্ত থাকার কথা উল্লেখ করলেন। তিনি লিখলেন, ‘‘মার্কস যে পাণ্ডুলিপিগুলি রেখে গিয়েছেন, সেগুলিকে মুদ্রণযোগ্য করে তোলার জন্য আমি দায়বদ্ধ ছিলাম। আর অন্য যে কোনও কাজের তুলনায় এটাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।”

এইভাবে তিনি ‘পুঁজি’-র অন্যান্য খণ্ডগুলি প্রকাশে পুরোপুরি আত্মনিয়োগ করলেন। তাঁর বিবেচনা অনুযায়ী ‘ক্যাপিটাল’, যাকে ইউরোপ মহাদেশে অনেক সময় শ্রমিক শ্রেণির বাইবেল বলা হত, তা প্রকাশ করা ছিল সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। এই গ্রন্থের সিদ্ধান্তগুলি দিনে দিনে আরও বেশি করে মহান শ্রমিক শ্রেণির আন্দোলনের মৌলিক নীতি হয়ে উঠেছিল।

‘পুঁজি’ গ্রন্থের দ্বিতীয় ও তৃতীয় খণ্ড প্রকাশে এঙ্গেলসের অবদান সম্পর্কে আমি লেনিনের উদ্ধৃতি তুলে ধরতে চাই। লেনিন বলেছেন, ‘‘মার্কস তাঁর মহান রচনা ‘পুঁজি’ সম্পূর্ণ করার আগেই মারা যান। তবে, পাণ্ডুলিপির অবিন্যস্ত খসড়া ছিল। এঙ্গেলস তাঁর বন্ধুর মৃত্যুর পর ‘পুঁজি’র দ্বিতীয় ও তৃতীয় খণ্ড প্রস্তুত ও প্রকাশ করার কঠিন পরিশ্রমের কাজটি গ্রহণ করেন। ১৮৮৫ সালে তিনি দ্বিতীয় খণ্ড ও ১৮৯৪ সালে তৃতীয় খণ্ড প্রকাশ করেন। তিনি ১৮৯৫ সালে প্রয়াত হন এবং চতুর্থ খণ্ড প্রকাশ করে যেতে পারেননি। ঐ দুটি খণ্ডের জন্য তাঁকে বিপুল পরিমাণ কাজ করতে হয়েছিল। একজন অস্ট্রিয়ান সোস্যাল ডেমোক্র্যাট সঠিকভাবেই বলেছিলেন, ‘পুঁজি-র দ্বিতীয় ও তৃতীয় খণ্ড প্রকাশ করে এঙ্গেলস তাঁর মহান প্রতিভাশালী বন্ধুর যে মহনীয় স্মৃতিসৌধ গড়ে তুলেছেন, কোনও অভিপ্রায় ছাড়াই অজানিতভাবে তাঁর নিজের নামটিও সেই সৌধে খোদিত করেছেন।’ প্রকৃতপক্ষে ‘পুঁজি’র এই দু’টি খণ্ড মার্কস ও এঙ্গেলসের যৌথ রচনা। … মার্কসের মৃত্যুর পর এঙ্গেলসের জীবিতকালে মার্কসের স্মৃতির প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা ছিল অপরিসীম।”

মার্কসের ইচ্ছা ছিল ‘পুঁজি’ গ্রন্থের সমস্তটা একসাথে পূর্ণাঙ্গ রচনা হিসাবে বের করা। এঙ্গেলস তাঁকে এ রকম না করতে পরামর্শ দেন। প্রকৃতপক্ষে তখন পর্যন্ত লেখাটা সম্পূর্ণ হয়ে ওঠেনি। এঙ্গেলস বললেন, ‘‘তাহলে প্রথম খণ্ড ছেপে বের করুন”। এটা ছিল খুবই কার্যকরী পরামর্শ। এঙ্গেলসের পরামর্শ মেনে মার্কস ‘পুঁজি’-র প্রথম খণ্ড প্রকাশ করলেন। তা না করলে মানবজাতি মার্কসের জীবদ্দশায় ‘পুঁজি’র প্রথম খণ্ড প্রকাশনা দেখা থেকে বঞ্চিত হত। বইটি জনপ্রিয় করতে এঙ্গেলস বিভিন্ন সংবাদপত্রে নানা কৌশলে কখনও প্রশংসা করে, কখনও বা সমালোচনা করে একটির পর একটি লেখা ছাপতে লাগলেন– যাতে বইটি পড়ার জন্য সবাই আকর্ষণ বোধ করেন।

এঙ্গেলসের রচনাবলি মার্কসবাদের জ্ঞানভাণ্ডারকে প্রভূত সমৃদ্ধ করেছে

 লেনিনের অভিমত হল, ‘কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো’ সহ এঙ্গেলসের ‘ল্যুডভিগ ফুয়েরবাখ ও চিরায়ত জার্মান দর্শনের অবসান’, ‘অ্যান্টি-ড্যুরিং’ রচনাও প্রত্যেক শ্রেণিসচেতন কর্মীর আবশ্যিকভাবে সঙ্গে রাখার মতো বই। আমি এখানে আরও কয়েকটা রচনার কথা যুক্ত করছি। যেমন ‘প্রকৃতির দ্বান্দ্বিকতা’, ‘সমাজতন্ত্রঃ কাল্পনিক ও বৈজ্ঞানিক’, ‘বানর থেকে মানুষের বিবর্তনে শ্রমের ভূমিকা’– যেটা ‘প্রকৃতির দ্বান্দ্বিকতা’র-ই একটা অধ্যায়, এবং ‘পরিবার, ব্যক্তিগত মালিকানা ও রাষ্ট্রর উৎপত্তি’– এই রচনাগুলিও এঙ্গেলসের অসাধারণ অবদান হিসাবে বিবেচিত হওয়া উচিত। এঙ্গেলস বহু গুরুত্বপূর্ণ বই লিখেছিলেন। সময় পেলে আমি তাঁর বিখ্যাত বইগুলো থেকে কিছু উল্লেখযোগ্য অংশ পড়ে শোনাব।

হেগেল ও মার্কসের মধ্যে মূল পার্থক্য

১৮৫৯ সালে লিখিত এঙ্গেলসের ‘কার্ল মার্কস, রাজনৈতিক অর্থশাস্ত্রের সমালোচনায় অবদান’ নামক রচনাটির উল্লেখ করছি, যা এইরূপঃ ‘‘এক্ষেত্রে হেগেলের যা আসল আবিষ্কার, হেগেলীয় যুক্তিবিদ্যা থেকে সেই অন্তর্বস্তুটিকে উদ্ধার করে, ভাববাদী আবরণ থেকে মুক্ত করে দ্বান্দ্বিক পদ্ধতিতে তাকে সহজ আকারে পুনর্গঠিত করা– যাতে তা চিন্তা বিকাশের একমাত্র যথার্থ রূপ হয়ে দাঁড়ায়– এ কর্তব্য যে মানুষটি গ্রহণ করতে পেরেছিলেন তিনি হলেন মার্কস এবং একমাত্র তিনিই।”

এ কথা সকলেই জানেন যে হেগেলের দর্শন হল দ্বন্দ্বমূলক ভাববাদ। মার্কস গড়ে তুললেন সম্পূর্ণ বিপরীত একটি দর্শন যা দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ। এই প্রসঙ্গে ১৮৭৩ সালে ‘পুঁজি’ গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের ভূমিকায় মার্কস লিখলেন, ‘‘আমার দ্বান্দ্বিক পদ্ধতি হেগেলীয় পদ্ধতি থেকে শুধু পৃথক নয়, সরাসরি বিপরীত। হেগেলের কাছে মানব-মস্তিষ্কের জীবনপ্রক্রিয়া অর্থাৎ চিন্তার প্রক্রিয়া যাকে তিনি ভাব নাম দিয়ে একটি স্বাধীন সত্তায় রূপান্তরিত করেছেন, তাই হল বাস্তব জগতের সৃষ্টিকর্তা এবং বাস্তবজগৎ হল শুধুমাত্র এই ‘ভাব’-এর বাহ্যিক, ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য রূপ। বিপরীত পক্ষে, আমার কাছে ‘ভাব’ মানব-মনে প্রতিবিম্বিত এবং চিন্তার রূপে রূপায়িত বাস্তব ছাড়া আর কিছুই নয়।” মার্কস আরও বলেছেন, ‘‘প্রায় ত্রিশ বছর আগে আমি হেগেলীয় দ্বান্দ্বিক তত্তে্বর রহস্যময়তার দিকটির সমালোচনা করেছিলাম।” অর্থাৎ হেগেলের ভাববাদকে মার্কস ১৮৪৩ সালেই সমালোচনা করেছিলেন। এটাই ছিল হেগেলের সাথে মার্কসের মৌলিক পার্থক্য, যা মার্কস ও এঙ্গেলস উভয়েই চিহ্নিত করেছেন।

এঙ্গেলস ব্যাখ্যা করেছেন কেন দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ মার্কসের নামে পরিচিত

১৮৮৮ সালে এঙ্গেলস তাঁর বিখ্যাত ‘ল্যুডভিগ ফুয়েরবাক ও চিরায়ত জার্মান দর্শনের অবসান’ বইতে লিখিত টীকায় তাঁর নিজের নাম বাদ দিয়ে কেন দর্শনটি মার্কসের নামে পরিচিত হয়েছে তা পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘‘এখানে আমি একটি ব্যক্তিগত কথা ব্যাখ্যা করার অনুমতি চাই। এই মতবাদ গঠনে (অর্থাৎ দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ-মার্কসবাদ) আমার অংশগ্রহণ সম্পর্কে সম্প্রতি বারবার উল্লেখ হয়েছে, তাই বিষয়টির নিষ্পত্তি করতে আমি কয়েকটি কথা না বলে পারি না। আমি অস্বীকার করতে পারি না যে, চল্লিশ বছর ধরে মার্কসের সঙ্গে আমার সহযোগিতাকালে এবং তার আগেও এই মতবাদের ভিত্তি স্থাপনে, বিশেষত তার পরিবিস্তারে আমার কিছুটা স্বাধীন অবদান ছিল। কিন্তু বিশেষত অর্থনীতি এবং ইতিহাসের ক্ষেত্রে তার প্রধান মৌলিক নীতিগুলির অধিকাংশই এবং সর্বোপরি এগুলির চূড়ান্ত সুতীক্ষ্ণ সূত্রায়ণ– এটা মার্কসেরই কীর্তি। বড়জোর দুয়েকটি বিশেষ ক্ষেত্রে আমার রচনার কথা ছাড়া আমার যা অবদান, তা আমাকে বাদ দিয়েই মার্কস অনায়াসে করতে পারতেন। কিন্তু মার্কস যা করে গিয়েছেন আমি তা কখনই করতে পারতাম না। মার্কস ছিলেন আমাদের বাকি সকলের উর্ধ্বে, তাঁর দৃষ্টি ছিল আমাদের চেয়ে সুদূরপ্রসারী এবং নিরীক্ষণ ছিল ব্যাপকতর ও দ্রুততর। মার্কস ছিলেন প্রতিভাবান, বাকি আমরা বড়জোর বুদ্ধিমান। এই মতবাদ আজ যে স্তরে উন্নীত হয়েছে, তাঁকে ছাড়া তা কিছুতেই সম্ভব হত না। তাই সঠিকভাবেই এই তত্ত্ব তাঁর নামে নামাঙ্কিত।”

এখন আমি এমন আরেকটি দৃষ্টান্ত দেব। ১৮৯৩ সালে ফ্রান্জ মেরিং ঐতিহাসিক বস্তুবাদের উপর একটি বই লিখেছিলেন। তিনি তা এঙ্গেলসের কাছে পাঠিয়েছিলেন তাঁর মতামত জানার জন্য। এঙ্গেলস প্রথমে লেখাটির প্রশংসা করে তারপর মন্তব্য করেছেন– ‘‘…আপত্তি করার যেটুকু চোখে পড়ল তা এই যে, আপনি আমাকে আমার প্রাপ্যের চেয়ে বেশি কৃতিত্ব দিয়েছেন। এমনকি কালক্রমে আমি নিজেও যেসব কথা আবিষ্কার করতে পারতাম বলে যদি ধরে নিই, তাহলেও মার্কস তাঁর দ্রুততর উপলব্ধি ও ব্যাপকতর দৃষ্টির সাহায্যে সে সবই অনেক আগে আবিষ্কার করেছিলেন। মার্কসের মতো ব্যক্তির সঙ্গে চল্লিশ বছর কাজ করার সৌভাগ্য যার হয়, তার যে স্বীকৃতি প্রাপ্য বলে মনে হতে পারে তা সাধারণত ঐ ব্যক্তির জীবদ্দশায় সে লাভ করে না। মহত্তর মানুষটির মৃত্যু হলে ক্ষুদ্র সহজেই প্রাপ্যের অতিরিক্ত পায়। আমার মনে হয় বর্তমানে আমার বেলাতেও ঠিক তাই হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ইতিহাস এর সবকিছুই শুধরে নেবে, কিন্তু ততদিনে আরেকজনও কোনও কিছু সম্পর্কে কিছু না জেনেই পরপারে চলে যাবে।” ভাবুন, কী উচ্চ সংস্কৃতি ও নৈতিকতা তাঁর ছিল! আমাদের সকলকেই এটি অর্জন করতে হবে। নিজেকে জাহির করার বা অন্যের কৃতিত্ব আত্মসাৎ করার, নাম-যশের আকাঙক্ষার লেশমাত্র কোথাও নেই। মানুষ যখন তাঁর প্রশংসা করছে, তখন সবসময় মার্কসের মহান অবদানকে প্রশংসচিত্তে উচ্চে তুলে ধরে তাদের সমালোচনা করে বলছেন– ‘আপনারা আমাকে বাড়তি প্রশংসা করছেন’। এই হচ্ছে এঙ্গেলসের চরিত্র। ইতিহাসে দুর্লভতম যদি নাও বলি, দুর্লভ এক মহান চরিত্র। (চলবে)