Breaking News
Home / অন্য রাজ্যের খবর / বিশ সহস্রাধিক শ্রমজীবী মহিলার বিক্ষোভ সমাবেশ দিল্লিতে

বিশ সহস্রাধিক শ্রমজীবী মহিলার বিক্ষোভ সমাবেশ দিল্লিতে

অঙ্গনওয়াড়ি–আশা–মিড ডে মিল কর্মীরা তাদের ন্যায়সংগত দাবিগুলি নিয়ে রাজ্যে রাজ্যে নিজ নিজ ইউনিয়ন ও ফেডারেশনগুলির নেতৃত্বে আন্দোলন করে চলেছেন৷ সেই আন্দোলনগুলিকে সংযোজিত করে এক অভিন্ন রূপ দেওয়ার উদ্দেশ্যে এআইইউটিইউসি–র নেতৃত্বে ২৮ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় সরকারের চূড়ান্ত শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী আচরণের বিরুদ্ধে ও উপরোক্ত স্কিমগুলির হতদরিদ্র শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিগুলি আদায়ের লক্ষ্যে নয়া দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিটে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজিত হয়। প্রবল শীত উপেক্ষা করে কর্ণাটক, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খন্ড এবং রাজধানী দিল্লির প্রতিবেশী রাজ্যগুলি যেমন হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ  ইত্যাদি রাজ্য থেকে আশা, অঙ্গনওয়াড়ি ও মিড ডে মিল এর হাজারে হাজারে শ্রমজীবী মহিলা কর্মী জড়ো হতে শুরু করেন৷ অনেকের পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রও ছিল না৷ কিন্তু সব অসুবিধা সত্ত্বেও তাঁরা আন্দোলনের জন্য দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ৷

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, সুপ্রিম কোর্টের নিষেধের বাহানা তুলে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার পার্লামেন্ট স্ট্রিটে জমায়েত করার অনুমতি দিতে অস্বীকার করে৷ কেন্দ্রীয় সরকারের বাধাদান উপেক্ষা করে, রামলীলা ময়দানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আশা ২০,০০০ হাজারের বেশি শ্রমজীবী মহিলার উপস্থিতিতে সুবিশাল সর্বভারতীয় প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়৷ আশা, অঙ্গনওয়াড়ি ও মিড ডে মিল কর্মীদের দীর্ঘ উপেক্ষিত দাবিগুলিতে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে সভাস্থল৷ সরকারি কর্মচারী হিসাবে স্বীকৃতি, নূ্যনতম ২১০০০ টাকা বেতন, ডি এ, পি এফ, পেনশন, গ্রাচ্যুইটি, মাতৃত্বকালীন সুযোগ সুবিধা, চিকিৎসা প্রভৃতি দাবিতে শ্রমজীবী মহিলারা সোচ্চার হন৷

এই বিশাল মহিলা শ্রমিক সমাবেশকে উদ্দেশ্য করে এআইইউটিইউসি–র সাধারণ সম্পাদক কমরেড শংকর সাহা বলেন, ‘স্কিম ওয়ার্কাররা বাস্তবিক অর্থে সরকারি ক্ষেত্রেই কাজ করেন৷ যে নামমাত্র পারিশ্রমিক পান তা সরকারি তহবিল থেকেই আসে, সেই অর্থে তাঁরা সরকারি কর্মচারী৷ কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার তাঁদের সরকারি কর্মচারীর মর্যাদা দেওয়া দূরের কথা, শ্রমিক বলেই মনে করে না৷ পুঁজিবাদী ব্যক্তি মালিকদের মতোই সরকার অতিসামান্য অর্থের বিনিময়ে তাদের সীমাহীন শোষণ করে৷ আর বলে তারা স্বেচ্ছাসেবী৷ ২০১৩ সালে, ৪৫তম ভারতীয় শ্রম সম্মেলনে উপরিউক্ত বিষয়টি বিশদে আলোচিত হয় এবং সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয় যে তাদের শ্রমিক হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে এবং ন্যূনতম বেতন সহ পিএফ, পেনশন, গ্র্যাচুইটি, সহ সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা হবে৷ ইতিমধ্যে সরকারি দল বদলেছে৷ কিন্তু তারাও প্রতিশ্রুতি রক্ষার চেষ্টাই করেনি৷

দারিদ্রপীড়িত ওই শ্রমজীবী মহিলাদের প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের চূড়ান্ত বঞ্চনার বিরুদ্ধে সভায় মূল প্রস্তাব পাঠ করেন এ আই ইউ টি ইউ সি–র সর্বভারতীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড সত্যবান৷ তিনটি পৃথকপ্রতিনিধি দল শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রীদের স্মারকলিপি পেশ করে৷ সভায় বক্তব্য রাখেন অঙ্গনওয়াড়ি এমপ্লয়িজ ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার পক্ষে যথাক্রমে কমলেশ চাহাল, পুষ্প দালাল, মাধবী পন্ডিত, সরিতা শাক্য, হীরাবতী এবং পুষ্প মাহাতো৷ মিড ডে মিল ইউনিয়নগুলির পক্ষে বক্তব্য রাখেন বেলা পাল, নরেশ রাম ও ব্রজ সাহু৷ আশা ইউনিয়নগুলির পক্ষে বক্তব্য রাখেন নাগলক্ষী, শিক্ষা রানা, রাকেশ সিং প্রমুখ৷ 

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন এআইইউটিইউসি–র সর্বভারতীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড অচিন্ত্য সিংহ৷ তিনি বলেন, দেশি–বিদেশি একচেটিয়া পুঁজিপতিদের স্বার্থে সরকারি সংগঠিত ক্ষেত্রকে সরকার নিজেই ভেঙে অসংগঠিত ক্ষেত্রে পরিণত করার চক্রান্তে লিপ্ত৷ কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক সেই অসংগঠিত কর্মচারীদের অধিকার হরণের চেষ্টার বিরুদ্ধে, সঠিক নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ লাগাতার শ্রমিক আন্দোলন গড়ে তোলাই এই সময়ের দাবি৷