Home / খবর / বিলকিসের ঘটনা  : মোদির রক্তাক্ত গুজরাটের স্মৃতি ফিরিয়ে আনল

বিলকিসের ঘটনা  : মোদির রক্তাক্ত গুজরাটের স্মৃতি ফিরিয়ে আনল

বিলকিস বানোকে লাখো কুর্নিশ৷ কুর্নিশ তাঁর সাহসকে, তাঁর ১৭ বছরের কান্নাচাপা চোয়াল–শক্ত লড়াইকে৷ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গুজরাট সরকারের কাছ থেকে এতদিনে তিনি পেতে চলেছেন ৫০ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ, সরকারি চাকরি এবং বাসস্থান৷ উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের আক্রমণে নিজের তিন বছরের মেয়ে সহ পরিবারের ১৪ জনকে চোখের সামনে খুন হয়ে যেতে দেখার কষ্ট, বার বার ধর্ষিত হওয়ার যন্ত্রণা এই রায় হয়ত মুছিয়ে দিতে পারবে না, কিন্তু বিলকিসের এই অসমসাহসী লড়াই একটি সাম্প্রদায়িক অসভ্য সরকারের গণহত্যাকে মদত দেওয়ার চরম অন্যায়কে অপরাধ বলে চিহ্ণিত করে আবার তার আসল চেহারা দেশের মানুষের সামনে প্রকাশ করে দিল, যার গুরুত্ব কম নয়৷ একবার ফিরে দেখা যাক সেই অন্ধকার দিনগুলোকে৷

গুজরাট, ২০০২ সাল৷ রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী তখন নরেন্দ্র মোদি৷ ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে গোধরা স্টেশনের কাছে সবরমতী এক্সপ্রেসে আগুন লাগে৷ পুড়ে মারা যান ৫৯ জন, যাঁদের অনেকে ছিলেন অযোধ্যা ফেরত করসেবক৷ এই ঘটনার পরদিন থেকে গুজরাট জুড়ে শুরু হয় ধর্মীয় সংখ্যালঘু মানুষের উপর নৃশংস হামলা৷ গণহত্যা, ধর্ষণ, আগুন লাগানো, সম্পত্তি ধ্বংস চলতে থাকে নির্বিচারে৷ শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী, বৃদ্ধ, বৃদ্ধা কারই রেহাই মেলেনি উগ্র হিন্দুত্ববাদী নরপশুদের হাত থেকে৷ নরেন্দ্র মোদির মুখ্যমন্ত্রীত্বে গুজরাটের বিজেপি সরকার প্রত্যক্ষভাবে মদত দেয় এই পৈশাচিক তাণ্ডবে, যা বহু সাংবাদিকের রিপোর্টে বেরিয়ে এসেছিল এবং গণদাবীতে সেইসময় প্রকাশিত হয়েছিল৷ যদিও যে ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এই গণহত্যা বলে হিন্দুত্ববাদীরা প্রচার করে, সেই গোধরা কাণ্ড কে বা কারা ঘটিয়েছিল, আদৌ তারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কি না– সে সব প্রশ্নের উত্তর এখনও সঠিক ভাবে মেলেনি৷

বিলকিস বানোর মর্মান্তিক কাহিনীর শুরুও ২০০২ সালে৷ ৩ বছরের কন্যাসন্তানের মা, পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এই গৃহবধূ সেই সময়ে ছিলেন গোধরার কাছেই রান্ধিকাপুর গ্রামে তাঁর বাবা–মায়ের বাড়িতে৷ গোধরার ঘটনার পরদিন রান্নাঘরে কাজ করছিলেন বিলকিস, এমন সময় তাঁর এক আত্মীয়া ছুটতে ছুটতে এসে খবর দেন যে তাঁদের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ কয়েক মিনিটের মধ্যে বিলকিস বানো, তাঁর পরিজন ও পড়শিরা এক–কাপড়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন, এমনকী চটিটা পায়ে গলানোর সময়টুকুও ছিল না তাঁদের৷ এর পর দিনকয়েক নিজের ১৭ জন আত্মীয়ের সাথে আশ্রয়ের খোঁজে এদিক ওদিক ঘুরতে থাকেন বিলকিস৷ সঙ্গে তিন বছরের মেয়ে, মা, এক অন্তঃসত্ত্বা বোন, অন্য ভাইবোনেরা সহ আরও কয়েকজন৷ ৩ মার্চ সকালে অন্য এক গ্রামে যাবেন বলে যখন তাঁরা বেরিয়েছিলেন, দুটো জিপে বেশ কয়েকজন হামলাকারী তলোয়ার ও লাঠি নিয়ে তাঁদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে৷ এরা সবাই বিলকিসের দীর্ঘদিনের পরিচিত এক মহল্লার বাসিন্দা৷ তারা খুন করে ১৪ জনকে৷ অসহায় বিলকিসের চোখের সামনে তাঁর তিন বছরের মেয়েকে পাথরে আছাড় মারে৷ মাথা থেঁতলে মারা যায় শিশুটি৷ তিনি অন্তঃসত্ত্বা এ কথা বলে হাতে পায়ে ধরে রেহাই চাওয়ার পরেও নরপশুরা বার বার ধর্ষণ করে বিলকিসকে, তাঁর জামাকাপড় খুলে নেয়৷ চেতনা হারান বিলকিস৷ মৃত মনে করে তাঁকে ফেলে চলে যায় হামলাকারীরা৷

জ্ঞান ফেরার পর রক্তমাখা কাপড়ের টুকরোয় নগ্ন শরীর কোনক্রমে ঢেকে কাছের এক পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নেন বিলকিস৷ পরদিন তেষ্টায় কাতর হয়ে নিচে আদিবাসীদের একটি গ্রামে গিয়ে সাহায্য চান৷ আদিবাসীরাই তাঁকে আশ্রয়, খাবার দাবার ও জামাকাপড় দেন৷ এরপর বিলকিস নামেন এক ভয়ানক অসম যুদ্ধে৷

পরদিন কাছের থানায় গিয়ে অত্যাচারের বিবরণ দেন বিলকিস৷ পড়াশোনা জানা না থাকায় তাঁর বক্তব্য লিখে নেয় পুলিশ, এফ আই আর–এ নিয়ে নেয় তাঁর আঙুলের ছাপ৷ পুলিশের কাছে আক্রমণকারীদের নাম বলেছিলেন বিলকিস৷ কিন্তু পুলিশ সেগুলি লেখেনি৷ তাই বয়ানটি পড়ে শোনানোর অনুরোধ করলে পুলিশ তা অস্বীকার করেছিল৷ এর পর বিলকিসের স্থান হয় গোধরার একটি উদ্বাস্তু শিবিরে৷ সেখানে স্বামী ইয়াকুব রসুলের দেখা পান তিনি৷ এত কিছুর পরেও বেঁচে ছিল তাঁর গর্ভের সন্তান, যথাসময়ে জন্ম হয় তার৷

পুলিশে অভিযোগ জানানোর এক বছর পর ২০০৩ সালে গুজরাটের লিমখেডার স্থানীয় আদালত বিলকিসের মামলাটিকে বন্ধ করে দেয়৷ পুলিশ এমন ভাবে মামলা সাজিয়েছিল যে পুরো জিনিসটাই ভিত্তিহীন হয়ে পড়ে৷ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছিল বিলকিস ও তাঁর স্বামীকে পুলিশ আর কিছু সরকারি কর্মচারীর ভয় দেখানো আর খুনের হুমকি৷ হামলার প্রমাণ লোপাট করে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল৷ ময়না তদন্ত না করেই মৃতদেহগুলি কবর দেওয়া হয়েছিল৷ দু’জন ডাক্তারকে দিয়ে পুলিশ লিখিয়ে নিয়েছিল যে বিলকিসকে ধর্ষণ করা হয়নি৷

এ সব ঘটনা যে বিচ্ছিন্ন নয়, তা বুঝতে অসুবিধা হয় না৷ পরে প্রত্যক্ষদর্শী ও সাংবাদিকদের অসংখ্য রিপোর্টে, বহু তদন্তে প্রমাণ হয়ে গেছে যে ২০০২–এর সেই সংখ্যালঘু নিধনযজ্ঞের পরিচালক ছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সহ রাজ্যের বিজেপি সরকারের প্রশাসন যন্ত্র৷ মুখ্যমন্ত্রী সহ রাজ্যের নেতা–মন্ত্রীদের নির্দেশে চলেছিল হিন্দুত্ববাদী গুন্ডাদের বাঁচানোর প্রশাসনিক অপচেষ্টা৷ বাস্তবে এটি যে ছিল একটি সংগঠিত ও পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই৷ রিপোর্ট থেকে এ কথা আজ সকলেরই জানা যে, গোধরা ঘটনার পরদিন সকাল থেকেই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত শহর ও গ্রামগুলিতে সশস্ত্র হামলা শুরু হয়৷ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আক্রমণকারীরা ছিল বহিরাগত৷ ভোটার তালিকা হাতে দলবদ্ধভাবে এসে বেছে বেছে তারা মুসলমান নাগরিকদের বাড়ি, দোকান, গরিব মুটে–মজুরদের বস্তি, শ্রমিক মহল্লা, পাড়া এমনকী ধর্মস্থানে পর্যন্ত হামলা চালিয়েছে৷ উন্মত্ত উচ্ছৃঙ্খল দাঙ্গাবাজরা এভাবে কাজ করতে পারে না৷ ফলে এর পিছনে শুধু পূর্ব পরিকল্পনা ছিল তাই নয়, তাকে বাস্তবে কার্যকর করেছে নেতৃত্ব ও তার নির্দেশ৷

এই নেতৃত্ব যে বিজেপি তথা সংঘ পরিবারের কাছ থেকে এসেছিল, তাও অসংখ্য রিপোর্টে স্পষ্ট৷ গণহত্যা শুরু হওয়ার পর তৎকালীন বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী শুধু যে তা সমর্থন করেছেন তাই নয়, তাঁর সরকারের মন্ত্রীরা পুলিশ কন্ট্রোলরুমে বসে থেকে পুলিশকে নিষ্ক্রিয় থাকতে বাধ্য করেছেন৷ যে পুলিশ অফিসাররা এই বর্বর হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে উদ্যোগ নিয়েছেন বা তাণ্ডবকারীদের পাকড়াও করেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তাঁদের বদলি করে শাস্তি দেওয়া হয়েছে৷ সাংবাদিকরা প্রশ্ন তুললে নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘সব ঠিক চলছে৷ যা দেখছেন শুনছেন, এসবই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া৷ এটা দাঙ্গা নয়, গণবিক্ষোভ’ (গণদাবী, ৫৪ বর্ষ ১২ সংখ্যা)৷ বাস্তবিকই ওই ঘটনা দাঙ্গা ছিল না, ছিল রাষ্ট্রের মদতে উন্মত্ত উগ্র হিন্দুত্ববাদী দাঙ্গাবাজদের সংখ্যালঘু হত্যা৷ মৃত্যু হয়েছিল হাজারেরও বেশি মানুষের৷ ৬০ হাজারের বেশি মানুষকে ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছিল উদ্বাস্তু শিবিরে৷ কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি নষ্ট হয়েছিল৷

 আবার ফিরে আসা যাক বিলকিস বানোর অসম যুদ্ধের কাহিনিতে৷ ২০০৩ সালে স্থানীয় আদালত তাঁর মামলা ‘ক্লোজ’ করে দিলে বিলকিস জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দ্বারস্থ হন এবং সেই সূত্রে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে যায়৷ বিলকিসকে চাপে ফেলতে শুরু হয়ে যায় তাঁর পরিবারের ওপর গুজরাট পুলিশের হয়রানি ও হুমকি৷ ওই বছর ডিসেম্বর মাসে শীর্ষ আদালত গুজরাটের বিজেপি সরকার ও পুলিশের ওপর অনাস্থা জ্ঞাপন করে সিবিআই–কে নির্দেশ দেয় মামলাটি নিয়ে তদন্ত করতে৷ ২০০৪–এর মে মাসে সিবিআই সুপ্রিম কোর্টে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়, যে রিপোর্টে তদন্ত ধামাচাপা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুজরাট সরকারের ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়৷ সিবিআই–এর পরামর্শ মেনে সুপ্রিম কোর্ট বিলকিস বানোর মামলার বিচার গুজরাট থেকে মহারাষ্ট্রে সরিয়ে আনে৷ ২০০৮–এর জানুয়ারিতে আদালত ১৩ জন অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করলেও অভিযুক্ত দুই ডাক্তার ও পাঁচ পুলিশ অফিসারকে নির্দোষ ঘোষণা করে৷ পরে বম্বে হাইকোর্ট সেই রায় পরিবর্তন করে ২০১৭ সালে ১১ জন অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় এবং ডাক্তার ও পুলিশ অফিসারদেরও দোষী বলে ঘোষণা করে৷ বিলকিস বানোকে পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেয় কোর্ট৷ এর বিরুদ্ধে আবার সুপ্রিম কোর্টে আপীল করেন বিলকিস যার ভিত্তিতে গত ২৪ এপ্রিল আদালত গুজরাট সরকারকে ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ সহ অন্যান্য সুবিধা তাঁকে দেওয়ার নির্দেশ দেয়৷

 এই দীর্ঘ ও কঠিন লড়াইয়ে বিলকিসকে সব রকমে সাহায্য করেছেন যে আইনজীবী, তিনি মন্তব্য করেছেন, শুধু দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে নয়, এই লড়াই ছিল খোদ সরকার আর প্রশাসনের বিরুদ্ধেও৷ তিনি বলেছেন, গত ১৭ বছর  ধরে আক্রান্তের পাশে দাঁড়ানো দূরের কথা, গুজরাট সরকার সমানে চেষ্টা করে গেছে দুষ্কৃতীদের আড়াল করার৷ পুলিশ বিলকিসের অভিযোগকে প্রথম দিকে আমলই দিতে চায়নি, বার বার চেষ্টা করেছে যাতে এফআইআর–এর বয়ান বদল করা যায়৷ এমনকী ঘটনাস্থল বদলে ফেলারও চক্রান্ত চালিয়ে গিয়েছে গুজরাট পুলিশ৷ সরকারি উকিল ক্রমাগত তারিখ নেওয়ার কৌশল চালিয়ে গেছেন৷ এর সঙ্গে ছিল বিলকিস ও তাঁর স্বামী–সন্তানদের খুনের হুমকি দেওয়া৷ প্রাণ বাঁচাতে বহু বার ঠিকানা পাল্টাতে হয়েছে তাঁদের৷ গত ১৭ বছর ধরে এমনকী নিজের ভোট পর্যন্ত দিতে পারেননি বিলকিস ও তাঁর স্বামী৷

বিলকিস বানোর এই সাহসী লড়াই হাসি ফুটিয়েছে দেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন সাধারণ মানুষের মুখে৷ মুসলিম নারীদের অধিকার রক্ষার কথা বলে সভায় সভায় চোখের জল ফেলেন যে নরেন্দ্র মোদি, তাঁর ভণ্ডামির দিকে ধিক্কারের আঙুল তুলেছেন তাঁরা৷ ভোটে যাওয়ার আগে মায়ের পায়ে প্রণামরত মোদিজির ছবি ছাপা হয় কাগজে কাগজে৷ অথচ বিলকিসের মতো মায়েদের বুক থেকে সন্তানকে ছিনিয়ে নিয়ে মাথা থেঁতলে মেরেছে যারা, তাদের মাথায় অভয় হস্ত রাখতে তাঁর অসুবিধা হয় না বিলকিস বানোর কাছে করজোড়ে ক্ষমা চাইবেন না কেন নরেন্দ্র মোদি?

শুধুমাত্র অন্য ধর্মের অনুগামী হওয়ার ‘অপরাধে’ একদল নিরীহ মানুষের দিকে আরেক দলকে খেপিয়ে তুলে লেলিয়ে দেওয়াই মোদির দল বিজেপি তথা সংঘ পরিবারের ‘ধর্ম’৷ সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়িয়ে দলীয় স্বার্থসিদ্ধি করাই তাদের কৌশল৷

গত পাঁচ বছরের বিজেপি শাসনে এর অসংখ্য প্রমাণ প্রত্যক্ষ করেছে এ দেশের মানুষ৷ বিলকিস বানোর ঘটনা এই অপশক্তিকে চিনে নেওয়ার আরও একটা সুযোগ এনে দিল৷ দেখিয়ে দিয়ে গেল, সাম্প্রদায়িক অশুভ শক্তিকে পরাজিত করতে গেলে লড়াই ছাড়া পথ নেই৷ এক বিলকিস বানোর লড়াই অনুপ্রেরণা দিয়ে গেল ২০০২–এর গুজরাট তাণ্ডবে ক্ষতবিক্ষত, বহু কিছু হারিয়ে ফেলা অসহায় হাজারো সুবিচারপ্রার্থীদের৷

(গণদাবী : ৭১ বর্ষ ৩৮ সংখ্যা)