Home / খবর / বিমা নির্ভর করে তুলে নাগরিকের স্বাস্থ্যের অধিকার কাড়তে চায় সরকার

বিমা নির্ভর করে তুলে নাগরিকের স্বাস্থ্যের অধিকার কাড়তে চায় সরকার

ফাইল চিত্র

‘ডিজিটাল ভারতে’ অবশেষে দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির চিকিৎসা পরিষেবাও ‘ডিজিটালাইজড’ হল৷ কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করেছে, এবছর থেকেই দেশের কমপক্ষে ১০ কোটি পরিবারকে অর্থাৎ কমবেশি ৫০ কোটি মানুষকে এই স্কিমের মাধ্যমে বিনা পয়সায় সমস্ত সাধারণ চিকিৎসা এবং বাছাই করা কিছু জটিল রোগের চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করা হবে৷ স্বভাবতই সাধারণ মানুষ, যাঁরা দেশের বর্তমান স্বাস্থ্য পরিকাঠামো থেকে সামান্য কিছু চিকিৎসার সুযোগ পান, অথবা কখনও কখনও একেবারেই বঞ্চিত হন, তাঁদের কেউ কেউ আশান্বিত৷ কিন্তু ইতিপূর্বে এই ধরনেরই অনেকগুলি স্কিমের আওতায় যাঁরা এসেছেন, সেই ভুক্তভোগীরা আশ্বস্ত হতে পারছেন না৷ তাই বিগত দিনের সরকারি ও বেসরকারি হেলথ স্কিমগুলি, যথা ‘আয়ুষ্মান ভারত’, ‘ন্যাশনাল হেলথ প্রোটেকশন মিশন’ ইত্যাদির চুলচেরা বিচার হওয়া দরকার৷ শাসকরা জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ঢাক যতই পেটাক না কেন স্বাধীনতার ৭২ বছর পরেও স্বাস্থ্যকে মানুষের সাংবিধানিক অধিকার বলে স্বীকৃতি দেয়নি৷ অবশ্য সংবিধানের নির্দেশমূলক নীতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদান করা রাষ্ট্রের একটি অন্যতম দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে৷ সেই দায়িত্বটুকুও রাষ্ট্র কীভাবে পালন করে, তার বিচার হওয়া দরকার৷ কারণ স্বাস্থ্য এমন একটি বিষয় যার সাথে মানুষের জীবনমরণ নির্ভর করে রয়েছে৷

প্রথমেই দেখা দরকার, কীভাবে বিভিন্ন জনবিরোধী স্বাস্থ্যনীতির মাধ্যমে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারগুলি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পণ্যে পরিণত করেছে৷ কংগ্রেস সরকারের প্রথম জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি ১৯৮৩–র মধ্যেই লুকিয়ে ছিল স্বাস্থ্যব্যবস্থার বেসরকারিকরণের বীজটি৷ ২০০২ সালের দ্বিতীয় স্বাস্থ্যনীতিতে স্বাস্থ্য–বাণিজ্যের সিংহদুয়ার খুলে দেয় বিজেপি পরিচালিত তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার৷ এরপর কংগ্রেসের হাত ধরে ২০০৫–এর গ্রামীণ জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন, ২০০৯ সালে জাতীয় স্বাস্থ্য বিল সমস্ত কিছুর মধ্য দিয়েই ধাপে ধাপে বাণিজ্যিকীকরণের পথকে প্রশস্ত করা হয়৷ ২০১৭ সালে আবার বিজেপি সরকার তৃতীয় জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির মাধ্যমে স্বাস্থ্যকে কর্পোরেট ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেওয়ার নতুন মডেল তৈরি করেছে৷ বলা হয়েছে, সমস্ত ভারতবাসীর চিকিৎসা হবে বিনা পয়সায়, কিন্তু বিমা কার্ডের মাধ্যমে৷ বর্তমানে মোদি সরকার যাকে ‘আয়ুষ্মান ভারত হেলথ প্রোটেকশন মিশন’ হিসাবে ঘোষণা করেছে৷ এ ক্ষেত্রে আয়ুষ্মান কার্ডের বিনিময়ে প্রতিটি পরিবার বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা ফ্রি পাবে৷ এ পর্যন্ত যতগুলি সরকারি বিমা স্কিম চালু ছিল, যেমন আরএসবিওয়াই, সিনিয়র সিটিজেন হেলথ ইনসিওরেন্স স্কিম ইত্যাদি স্কিমগুলি ক্রমশ আয়ুষ্মান ভারতের সাথে একীভূত হয়ে যাবে৷ অর্থাৎ অন্যান্য স্কিমের সুযোগ এর পর থেকে আর পাওয়া যাবে না৷

বিমা নির্ভর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা মানে আসলে বিনামূল্যে সরকারি চিকিৎসার অবসান৷ ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে অসংখ্য কর্পোরেট হাসপাতাল৷ যেখানে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য মধ্যবিত্ত জনগণের নেই৷ ফলে রোগী নামক খরিদ্দার জোগাড় করতে কর্পোরেট মালিকেরা সরকারের সাহায্য চায়৷ সরকারও সুকৌশলে চালু করে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যবিমা৷ বর্তমানে যার পোশাকী নাম আয়ুষ্মান ভারত৷ এর আওতাভুক্ত চিকিৎসার খরচ মেটাবে সরকার৷ রোগী বেসরকারি হাসপাতালেও ভর্তি হতে পারবেন৷ সেখানে চিকিৎসার খরচ মেটাবে সরকার৷ অন্তত ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত৷ স্বভাবতই ঝাঁ চকচকে কর্পোরেট হাসপাতালে রোগীর ভিড় বাড়বে৷ সরকারি বদান্যতায় জনগণের টাকায় ফুলে ফেঁপে উঠবে তাদের স্বাস্থ্যব্যবসা৷ মানুষের দৃষ্টি এ ভাবে কর্পোরেটমুখী করে দিয়ে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার বড় বড় অংশগুলি কর্পোরেট মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে– যার কাজ অনেকাংশে ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়ে গেছে৷ বিমা কোম্পানিগুলির মুনাফাও এর মধ্যে বেড়ে সহস্র গুণ হবে তা বলাই বাহুল্য৷

বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমার পরিণতি কী হচ্ছে তা দেখা যাক৷ আমাদের দেশে কমবেশি ১০ শতাংশ মানুষ বেসরকারি বিমার আওতায় রয়েছেন৷ আরএসবিওয়াই (রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনা) ও বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্যসাথীর মতো সরকারি বিমা প্রকল্পের আওতায় নিম্নবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারগুলি অন্তর্ভুক্ত৷ এর মধ্যে বেসরকারি বিমার হয়রানি নিয়ে কমবেশি অনেকেরই অভিজ্ঞতা রয়েছে৷ যেখানে প্রায়শই দেখা যায় কোনও ব্যক্তি যে রোগে ভুগছেন, সেই রোগটিই বিমার আওতায় নেই৷ থাকলেও তার টাকা ফেরত পেতে জুতোর শুকতলা পর্যন্ত খোয়াতে হয়৷ আর শুকতলা খোয়ানোর পরও এক তৃতীয়াংশ মানুষ বিমার টাকা ফেরত পান না৷ আরএসবিওয়াই–র ক্ষেত্রে একবার কেউ ছোটোখাটো অসুখ নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হলে– ১/২ দিনের মধ্যেই ১ লক্ষ টাকার উপরে বিল হয়৷ এর পরে আর ওই পরিবারের পক্ষে ১ লক্ষ টাকার উপরে বাড়তি টাকা দিয়ে চিকিৎসা করানোর সাধ্য থাকে না৷ শুরু হয় সরকারি হাসপাতালে দৌড়ঝাঁপ– সেখানে বেড না পেয়ে বহু মানুষকে আজ বিনা চিকিৎসাতেই মরতে দেখা যাচ্ছে৷ গত কয়েক বছরে আরএসবিওয়াই–এর সুবিধা ক’টি মানুষ পেয়েছেন তা হাতে গুণে বলা যাবে৷ আজ অধিকাংশ নার্সিংহোমেই এর সুযোগ আর পাওয়া যাচ্ছে না৷ এ যেন বিমার জাদু–সম্মোহনে বিনা পয়সায় স্বাস্থ্যের অধিকারকেই ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা

তা হলে, বিজেপির আয়ুষ্মান ভারতকে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকতে না দেওয়াটা কি তৃণমূল সরকারের কোনও বিপ্লাবত্মক পদক্ষেপ? নাকি কেন্দ্রীয় সরকার যে সব কর্পোরেট হাসপাতালকে ওই বিমার আওতাভুক্ত করেছে সেই তালিকায় তৃণমূল কর্তাদের পছন্দের বহু কর্পোরেট হাসপাতাল ও নার্সিংহোমের নাম বাদ গেছে বলেই এই হুঙ্কার? মুখ্যমন্ত্রী ফলাও করে বলছেন, ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্যসাথীর মতো জনমুখী স্বাস্থ্য বিমা তিনি পশ্চিমবঙ্গে চালু করেছেন, যার মাধ্যমে রাজ্যের প্রান্তিক মানুষজন থেকে নিম্নবিত্ত সকলেই ক্যাশলেস চিকিৎসার সুযোগ পাবেন৷ বহু পরিবার ইতিমধ্যে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড হাতে পেয়েছেন৷ যদিও ফ্রি চিকিৎসা কতটা তারা পাচ্ছেন তা প্রশ্নচিহ্ণের মুখেই রয়ে গিয়েছে৷ কেন্দ্রের এই প্রকল্পের বিরোধিতা কি আদৌ স্বাস্থ্যকে বিমানির্ভর হতে না দেওয়ার জন্য?

জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি ২০১৭–তে বিমা নির্ভর স্বাস্থ্য পরিষেবা চালুর কথা বলার পরে সর্বপ্রথম তা কার্যকরী করলেন আমাদেরই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী– নাম দিলেন ‘স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প’৷ এতে বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত প্রতিটি পরিবার ফ্রি চিকিৎসা পাবে এবং চিকিৎসা হবে কর্পোরেট হাসপাতাল ও কিছু নির্বাচিত নার্সিংহোমে৷ চিকিৎসার টাকা মেটাবে সরকার৷ দেখা যাচ্ছে ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য বাজেটে মৌলিক বিষয়গুলির জন্য যে টাকা আগে বরাদ্দ হত, তা থেকে কেটে নিয়ে মোটা অংশের  বরাদ্দ গেছে স্বাস্থ্য বিমার বিল মেটাতে৷ এর ফলে মানুষ কী সুযোগ পাচ্ছে? আজ যে নার্সিংহোমে চিকিৎসার সুযোগ মিলছে – নিয়মের বেড়াজালে কাল আর সেখানে চিকিৎসা মিলছে না৷ ফলে সেই একই বিমা, একই তার পরিণতি কোথাও তার নাম আয়ুষ্মান ভারত, কোথাও স্বাস্থ্যসাথী৷ ঠিক যেমন ৯০–এর দশকে এ রাজ্যের বড় হাসপাতালগুলিতে পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপ নীতি চালু করেছিল তদানীন্তন বামফ্রন্ট সরকার, পরবর্তীতে যা জাতীয় নীতি হিসাবে স্বীকৃতি পায় ২০০৫ সালে৷ সুতরাং মুখে যে যত জনমোহিনী কথাই বলুক না কেন, সমস্ত জনবিরোধী স্বাস্থ্যনীতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গই পথপ্রদর্শক, সে সরকারে সিপিএম বা তৃণমূল যেই থাকুক না কেন৷

স্বাস্থ্যসাথীর মাধ্যমে বেসরকারি হাসপাতালে রোগী পাঠানো আবার সরকারি হাসপাতালে বিনা পয়সায় চিকিৎসা– এ কেমন দ্বিচারিতা গত এক দশকে এ রাজ্যে তথা গোটা ভারতে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে৷ সরকারি বেসরকারি উভয় জায়গাতেই তা বেড়েছে৷ মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন, প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, অতিরিক্ত কাজের চাপ, মানসিক ও শারীরিক চাপ বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, ক্যানসার, ফুসফুসের নানা রোগ, হার্টের রোগ, নার্ভের রোগ, মানসিক রোগ ইত্যাদি বেড়েছে বহু গুণ৷ কিন্তু সরকারি পরিষেবার গুণমান কী দাঁড়িয়েছে? সেখানে ডাক্তার–নার্স–স্বাস্থ্যকর্মীর পদ গত ৩০ বছরে বাড়েনি৷ নির্ধারিত যে পদ রয়েছে তারও একটা বড় অংশ বরাবরই ফাঁকা থাকে৷ যেমন বর্তমানে গ্রামীণ স্তরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নব্বই শতাংশ পদই ফাঁকা পড়ে রয়েছে৷ বেডের সংখ্যা জনসংখ্যার অনুপাতে বাড়ানো হয়নি৷ যেখানে সারা বিশ্বে ১০০০ মানুষ পিছু ৩.৩টি বেড রয়েছে সেখানে পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে মাত্র ১.৩টি বেড৷ ফলে বেডের সাংঘাতিক সংকটের ফলে এক একটি বেডে কোথাও ৩–৪ জন করে রোগী ভর্তি থাকতে বাধ্য হন৷ এর ফলে চিকিৎসার মান যেমন কমছে তেমনই ভর্তি থাকা রোগীদের ক্রশ ইনফেকশনে ভুগে প্রাণ ওষ্ঠাগত হচ্ছে৷ আর একদিকে ভর্তির সময় বেড সংকটের সুযোগ নিচ্ছে দালাল চক্র৷ ভর্তি করানো, পরীক্ষা–নিরীক্ষার তারিখ পাইয়ে দেওয়া, অপারেশনের ডেট এগিয়ে আনার জন্য মানুষ দালাল চক্রের পাল্লায় পড়ে  হয়রান হচ্ছে৷

দ্বিতীয়ত, এ রাজ্যের জনসংখ্যা বৃদ্ধি হলেও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ব্লকস্তরে স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা গ্রামীণ হাসপাতালের সংখ্যা বাড়েনি৷ বর্তমানে জনসংখ্যার নিরীখে যেখানে কমপক্ষে ২৩৩৩টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ৭০০টি ব্লকস্তরের হাসপাতাল দরকার সেখানে রয়েছে মাত্র ৯০৪টি এবং ৩৪৭টি৷ এই স্তরের পরিষেবা বাড়ানোর পরিকল্পনা এবং ঘোষণা বিগত সরকার এবং বর্তমান সরকার কারোরই নেই, যা ছিল স্বাস্থ্যের ভিত৷ উল্টে এই বিষয়ে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরের সবরকম সুপারিশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ভোটের জনমোহিনী প্রচারের স্বার্থে রাজ্য সরকার জনগণের কোটি কোটি টাকা খরচ করে রাজ্য জুড়ে অপরিকল্পিতভাবে ৪১টি মাল্টিসুপার হাসপাতাল গড়ে তুলেছে৷ উপযুক্ত সংখ্যক যোগ্য চিকিৎসক ও লোকবলের অভাবে সেগুলি আজ মুখ থুবড়ে পড়েছে৷ ফলে যথারীতি আগেকার মতোই আজও গ্রামবাংলা থেকে হাজারে হাজারে রোগী কলকাতার মেডিকেল কলেজগুলিতে রেফার হয়ে যাচ্ছে৷ আর সেখানে গিয়ে বেড ও পরিকাঠামোর অভাবে কেবলমাত্র জরুরি বিভাগ থেকেই দৈনিক ৪৭৬ জন রোগী ভর্তি হতে না পেরে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন৷ তাদের কেউ কেউ  ঘটিবাটি বিক্রি করেও কর্পোরেট হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ নিচ্ছেন৷ বাকিরা বিনা চিকিৎসায় মারা যচ্ছেন৷ পাশাপাশি ওই সব ঝাঁ চকচকে সরকারি মাল্টিসুপার হাসপাতালগুলিকে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই ব্যবসা করার জন্য কর্পোরেট মালিকর হাতে তুলে দিচ্ছে৷ যেমন শালবনী সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালটি কিছুদিন আগে জিন্দাল গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে৷

তৃতীয়ত, সরকারি হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা অনুপাতে বেড না বাড়লেও বেসরকারি ক্ষেত্রে বেড বেড়েছে অনেক৷ গত ৭–৮ বছরে সরকারি বেড বেড়েছে মাত্র ১৫ শতাংশ, কিন্তু বেসরকারি বেড বেড়েছে ২৭ শতাংশ৷ অর্থাৎ বর্তমান স্বাস্থ্য পরিষেবা সম্পর্কে জনস্বার্থবিরোধী সরকারি দৃষ্টিভঙ্গির জন্য স্বাস্থ্য নিয়ে কর্পোরেট ব্যবসা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে৷ যা বিগত তিন দশকের ধারাবাহিকতাকেও আজ ছাড়িয়ে যাচ্ছে৷ পূর্বতন সরকার বিভিন্ন জনস্বার্থ বিরোধী স্বাস্থ্যনীতি প্রয়োগ করে কলকাতার বাইপাস জুড়ে কর্পোরেট হাসপাতাল তৈরিতে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেছিল৷ আর বর্তমান সরকার জেলা, এমনকী মফঃস্বল শহরে ও স্বাস্থ্য নিয়ে কর্পোরেট ব্যবসার সুযোগ করে দিচ্ছে৷ পাশাপাশি সরকারি পরিষেবাগুলিও পিপিপি নীতিতে কর্পোরেট মালিকদের হাতেই তুলে দেওয়া হচ্ছে৷ কিন্তু পুঁজিবাদের চরম সংকটের ফলে বেকার ও উপার্জনহীন মানুষের সংখ্যা যখন ক্রমাগত লাফিয়ে বাড়ছে, তখন এই বিপুল সংখ্যক কর্পোরেট হাসপাতালে রোগী নামক খরিদ্দার আসবে কোত্থেকে? সুকৌশলে কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্যের সরকারগুলি বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্পের মাধ্যমে এই সব কর্পোরেট হাসপাতালে খরিদ্দারের জোগান দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে৷ এই ভয়ঙ্কর আক্রমণের হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করতে হলে আজ আপামর জনসাধারণের ঐক্যবদ্ধ শক্তিশালী এবং দীর্ঘস্থায়ী জনস্বাস্থ্য আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া পথ নেই৷

(গণদাবী : ৭১ বর্ষ ২৮ সংখ্যা)