Breaking News
Home / খবর / বিভিন্ন দেশের পার্লামেন্টের উদ্দেশে উত্তর কোরিয়ার খোলা চিঠি

বিভিন্ন দেশের পার্লামেন্টের উদ্দেশে উত্তর কোরিয়ার খোলা চিঠি

২৮ সেপ্ঢেম্বর উত্তর কোরিয়ার সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেমব্লির বিদেশ বিষয়ক কমিটি বিভিন্ন দেশের পার্লামেন্টের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি পাঠায়৷ ইন্দোনেশিয়াতে অবস্থিত উত্তর কোরিয়ার দূতাবাসের মাধ্যমে এই চিঠিটি পাঠানো হয়েছে৷

চিঠিতে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বঘোষিত সুপারপাওয়ার হতে চেয়ে সার্বভৌম ও মর্যাদাময় দেশ গণপ্রজাতন্ত্রী কোরিয়ার (ডিপিআরকে) অস্তিত্বকেই অস্বীকার করতে চাইছে৷ এই দেশকে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করে দেব–এই জাতীয় বোকা বোকা কথা তিনি রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ অধিবেশনে দাঁড়িয়ে ছুঁড়ে দিয়েছেন, যা বিশ্বের জনগণকে হতবাক করেছে৷

এই চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ওয়ার্কার্স পার্টি অফ কোরিয়ার বিদেশ নীতির দ্বারা পরিচালিত হয়ে বিশ্বের নানা প্রান্তের শান্তিকামী জনগণ ও নানা দেশের সংসদের সাথে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেমব্লির বিদেশ বিষয়ক কমিটি মূলত কাজ করে চলেছে৷ ট্রাম্পের এই বেনজির মন্তব্য কোরিয়ার জনগণের প্রতি অসহ্য অপমান এবং কার্যত যুদ্ধের ঘোষণা৷ স্বাধীনতা, শান্তি ও মৈত্রীর পথ নিয়ে চলা ডিপিআরকে এর তীব্র নিন্দা করছে৷ ট্রাম্পের মন্তব্য বিশ্ব শান্তির উপর মারাত্মক এক আঘাত৷

ক্ষমতায় বসার প্রথম দিন থেকেই ট্রাম্প স্বেচ্ছাচারী ও স্বৈরতান্ত্রিক ভূমিকা নিয়ে চলেছেন৷ অপছন্দের আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তিগুলিকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে তিনি ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি নিয়ে চলতে চান৷ সারা দুনিয়ার ক্ষতির বিনিময়ে আমেরিকার উন্নতিকেই মার্কিন রাজনীতিকরা সর্বশ্রেষ্ঠ চিন্তা বলে গণ্য করেন৷

নীতিবিবর্জিত, সংকীর্ণমনা, স্বার্থপর দেশগুলিকে আমেরিকা পরমাণু অস্ত্রের লাঠির জোর দেখিয়ে নতজানু করেছে৷ তারপর ডিপিআরকে–র উপর বেআইনি নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব তৈরি করেছে৷ কোরীয় জনগণের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারকে অস্বীকার করে তাদের স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কাজকর্ম বন্ধ করে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের অলঙঘনীয় সনদের চূড়ান্ত অবমাননা করা হয়েছে৷ এই হল ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির উৎকট রূপ৷

মর্যাদাময় স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং পরমাণু শক্তিধর ডিপিআরকে–কে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে ফেলার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প৷ সারা দুনিয়াকে ধ্বংস করার মতোই চরম হুমকি এটি৷

ট্রাম্প যদি মনে করে থাকেন, পরমাণু শক্তিধর দেশ ডিপিআরকে–কে পরমাণু যুদ্ধের ধমকি দিয়ে তিনি নতজানু করাবেন, সেটা তাঁর মারাত্মক বেহিসাবী মূর্খতা বলে পরিগণিত হবে৷

ডি পি আর কে পূর্ণ পরমাণু অস্ত্রে শক্তিধর রাষ্ট্র৷ অত্যন্ত শক্তিশালী পরমাণু অস্ত্র এবং নানা ধরনের পরমাণু সরবরাহ ব্যবস্থা নিজ শক্তির ক্রমোন্নতির মধ্য দিয়ে ডিপিআরকে অর্জন করেছে৷ একটি পরমাণু শক্তিধর দেশের প্রকৃত শত্রু একমাত্র পরমাণু যুদ্ধই হতে পারে৷

ডি পি আর কে–র সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেমব্লির বিদেশ বিষয়ক কমিটি এই চিঠির মাধ্যমে এই বিশ্বাস ব্যক্ত করতে চায়, স্বাধীনতা, শান্তি, এবং ন্যায় চায় এমন প্রতিটি দেশের পার্লামেন্ট আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার এবং শান্তির প্রতি মানবজাতির আকাঙক্ষাকে মূল্য দিতে তাদের যথাকর্তব্য করতে সচেষ্ট হবে৷ ট্রাম্প প্রশাসনের হীন বেপরোয়া কার্যকলাপ যা বিশ্বকে একটা ভয়াবহ পরমাণু বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে তার বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ তাঁরা নেবেন৷